সূর্যোদয়ের পর যখন তা এক লেজা (অর্ধ হাত) পরিমাণ উপরে উঠে তখন থেকে শুরু করে সূর্য ঠিক মাথার উপরে আসা পর্যন্ত সময়টা হল সালাতুল ঈদ আদায়ের ওয়াক্ত৷ এ সময়ের মাঝে যে কোন সময় ঈদের সালাত আদায় করা যায়৷ ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেছেন : নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের সালাত দেরি করে আদায় করতেন আর ঈদুল আজহার সালাত প্রথম ওয়াক্তে তাড়াতাড়ি আদায় করতেন৷ (যাদুল-মায়াদ)
ঈদুল ফিতরের সালাত একটু দেরিতে আদায় করতেন এ কারণে যে যাতে মুসলমানগণ সদকাতুল ফিতর আদায় করার প্রয়োজনীয় সময় পান৷ আর ঈদুল আজহার সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এ কারণে যে মুসলমানগণ সালাত শেষ করে যেন দুপুরের পূর্বে কুরবানির পশু জবেহ সম্পন্ন করতে পারেন৷
হাদিসে এসেছে :—
عن أبي سعيد الخدري رضى الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى . .( رواه البخاري)
আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন ...৷ (বর্ণনায় : বোখারি)
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন : রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ হল তিনি সর্বদা ঈদের সালাত ঈদগাহে আদায় করতেন৷ ( যাদুল-মায়াদ)
ইবনু কুদামাহ রহ. বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো উত্তম কাজ পরিত্যাগ করেননি৷ কখনো পরিপূর্ণতা বাদ দিয়ে অপূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি অনুস্মরণ করেননি৷ তার চেয়ে বড় কথা হল আমাদেরকে আল্লাহ রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে রাসূলে করিম স.-এর আনুগত্যের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ এসব দিকে লক্ষ্য করে আমাদের অবশ্যই ঈদের সালাত ঈদগাহে (উন্মুক্ত প্রান্তরে) আদায় করা উচিত৷ আর রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ঈদের সালাত মসজিদে আদায় করেছেন এমন কোন বর্ণনা নেই৷ অবশ্য আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত একটি হাদিসে জানা যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কোন এক অসুবিধা থাকায় মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করেছেন৷ তবে এ হাদিসটিকে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবানী দুর্বল বলে প্রমাণ করেছেন৷ তাই আমাদের অলসতা পরিত্যাগ করে কিছুটা কষ্ট করে হলেও ঈদের সালাত ঈদগাহে আদায় করার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত৷ এ দিনে মুসলিমগণ এক সম্মেলনে মিলিত....
No comments:
Post a Comment