<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Sep 1, 2010

যাকাত আদায় না করার পরিণতি- একটি সত্য ঘটনা


সুরা তাওবার ৭৫ নং আয়াত-
وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللّهَ لَئِنْ آتَانَا مِن فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ 
এর তাফসীর প্রসংগে ইবনে জরীর, ইবনে আদী হতেম, ইবনে মারদুবিয়া, তাবারানী, বায়হাকী প্রমুখ হযরত আবু উমামাহ বাহেলী (রাঃ) এর রেওয়ায়েতক্রমে ঘটনাটি এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জনৈক সা’লাবাহ ইবনে হাতেম আনসারী রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করল ‘হুজুর আমার জন্য দোয়া করুন আমি যাতে মালদার ধনী হয়ে যাই । রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, তাহলে কি তোমার কাছে আমার তরিকা পছন্দনীয় নয়? সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন, আমি যদি ইচ্ছা করতাম তবে মদীনার পাহাড়গুলি সোনা হয়ে আমার সাথে সাথে ঘুরত । কিন্তু এমন ধনী হওয়া পছন্দনীয় নয়। তখন সা’লাবাহ ফিরে গেল কিন্ত পরে আবার ফিরে এসে একই নিবেদন করল এই চুক্তির ভিত্তিতে যে, যদি আমি সম্পদপ্রাপ্ত হয়ে যাই তবে আমি প্রত্যেক হকদারকে তার হক বা প্রাপ্য পৌঁছে দেব । এতে রাসুলুল্লাহ (সঃ) দোয়া করলেন, যার ফল এই দাঁড়াল যে, তার ছাগল-ভেড়ায় অসাধারণ প্রবৃদ্ধি হতে লাগল । অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, মদীনায় তার বসবাসের স্থানটি তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে । তখন সে বসবাসের জন্য মদীনার বাইরে চলে যায় কিন্তু সে যোহর ও আসরের নামায মদীনায় এসে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাথে আদায় করত এবং অন্যান্য নামায বসবাসের স্থানেই পড়ে নিত ।
এর পর তার ছাগল-ভেড়ায় আরো প্রবৃদ্ধি ঘটে । ফলে তার বসবাসের ঐ স্থানটিও তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে । তখন সে মদীনার বাইরে আরো দূরে চলে যায় । ফলে সে শুধু জুমুয়ার নামায মদীনায় এসে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাথে আদায় করত এবং অন্যান্য নামায বসবাসের স্থানেই পড়ে নিত ।
এর পর তার ছাগল-ভেড়ায় আরো প্রবৃদ্ধি ঘটে । তখন সে মদীনার বহু দূরে চলে গেল যেখান থেকে সে রাসুলুল্লাহ (সঃ) সাথে সকল নামাজ পড়া থেকেই বঞ্চিত হল ।
কিছুদিন পর রাসুলুল্লাহ (সঃ) সা’লাবার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে লোকেরা বলল যে তার মালামারল এতই বেড়ে গিয়েছে যে, মদীনার কাছাকাছি কোথাও স্থান সংকুলান না হওয়ায় সে বহু দূরে চলে গিয়েছে । এখন আর তাকে দেখা যায়না ।  রাসুলুল্লাহ (সঃ) একথা শুনে তিন বার বললেন يا ويح ثعلبة  অর্থাৎ সা’লাবার জন্য আফসোস, সা’লাবার জন্য আফসোস, সা’লাবার জন্য আফসোস ।
ঘটনাক্রমে সে সময়েই সাদাকার আয়াত নাযিল হয় যাতে রাসুলুল্লাহ (সঃ)কে সাধারণ মুসলমানদের কাছ থেকে সাদাকা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয় । বলা হয়-

রাসুলুল্লাহ (সঃ) পালিত পশুর সাদাকার আইন প্রণয়ন করে দু’জন লোককে সাদাকাহ আদায়কারী বানিয়ে মুসলমানদের কাছ থেকে পালিত পশুর সাদাকা আদায়ের জন্য পাঠালেন এবং তাদের বলে দিলেন তারা যেন সা’লাবার কাছেও যায় এবং বনী সুলাইম গোত্রের আরো এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً
সাদাকাহ আদায়কারী দু’জন লোক সা’লাবার কাছে উপস্থিত হল এবং তাকে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর লিখিত ফরমান দেখাল । তখন সা’লাবা বলতে লাগল ‘এ তো জিজিয়া কর হয়ে গেল, যা অমুসলমানদের কাছ থেকে আদায় করা হয়ে থাকে । আপনারা এখন যান, ফেরার পথে এখান হয়ে যাবেন’ ।
সাদাকাহ আদায়কারী দু’জন চলে গেলেন এবং বনী সুলাইম গোত্রের সেই ব্যক্তির কাছে গেলেন । তিনি যখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর ফরমান শুনলেন তখন নিজের পালিত পশু- উট ও বকরীসমূহের মধ্য যেগুলি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ছিল তা থেকে সাদাকার নিসাব অনুযায়ী পশু নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর দুই কর্মকর্তার কাছে হাজির হলেন । তাঁরা বললেন, আমাদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে পশু সমূহের মধ্য থেকে উৎকৃষ্টগুলো যেন না নেই । কাজেই আমরা এগুলো নিতে পারি না । সুলাইম গোত্রের লোকটি বার বার বিনয়ের সাথে বলল আমি নিজের খুশিতে এগুলো দিতে চাই, আপনারা দয়া করে এগুলো কবুল করুন।
অতঃপর সাদাকাহ আদায়কারী দু’জন সাহাবী অন্যান্য মুসলমানদের সাদাকাহ আদায় করে পুনরায় সা’লাবার কাছে এসে সাদাকাহ আদায়ের কথা বললেন । সা’লাবাহ বলল দাও দেখি সাদাকার আইনগুলো আমাকে । দেখি কি লেখা আছে । সেগুলো দেখার পর সে সেই কথাই বলল যা সে পূর্বে বলেছিল । ‘এ তো জিজিয়া করের মতই হয়ে গেল, যা মুসলমানদের কাছ থেকে আদায় করা উচিত নয় । যা হোক, আপনারা এখন যান, আমি পরে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিব’।
সাদাকাহ আদায়কারীগণ যখন মদীনায় ফিরে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর খেদমতে হাজির হলেন, তখন তিনি কুশল জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই সেই বাক্যটি পুনারুবৃত্তি করলেন, য তিনি পূর্বে বলেছিলেন । বললেন- يا ويح ثعلبة , يا ويح ثعلبة  ,يا ويح ثعلبة  সা’লাবার জন্য আফসোস, সা’লাবার জন্য আফসোস, সা’লাবার জন্য আফসোস । তারপর সুলাইমীর লোকটির জন্য দোয়া করলেন । এ ঘটনা ব্যাপারেই নাজিল হয় সুরা তাওবার ৭৫-৭৭ নং আয়াত-
وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللّهَ لَئِنْ آتَانَا مِن فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ  -  فَلَمَّا آتَاهُم مِّن فَضْلِهِ بَخِلُواْ بِهِ وَتَوَلَّواْ وَّهُم مُّعْرِضُونَ - فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَى يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُواْ اللّهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُواْ يَكْذِبُونَ 
তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে যারা আল্লাহ তা’আলার সাথে ওয়াদা করেছিল যে, তিনি যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা ব্যয় করব এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকব।  অতঃপর যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে দান করা হয়, তখন তাতে কার্পণ্য করেছে এবং কৃত ওয়াদা থেকে ফিরে গেছে তা ভেঙ্গে দিয়ে।  তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তার তাঁর সাথে গিয়ে মিলবে। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো।
فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ
অর্থ হল আল্লাহ তায়ালা তাদের  অপকর্ম ও অংগীকার লংঘনের কারণে তাদের অন্তরে মুনাফেকীকে আরো পাকাপোক্ত করে বসিয়ে দেন যাতে তাদের তাওবা করার ভাগ্যও হবে না।
হযরত আবু উমামাহ বাহেলী (রাঃ) এর উল্লিখিত বিস্তারিত রেওয়ায়েতের পর ইবনে জরীর লিখেন- রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সা’লাবার জন্য তিনবার আফসোস করা সময় সা’লাবার কয়েকজন আত্মীয়-আপনজনও সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন ।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর এ বাক্যটি শুনে তাদের মধ্য থেকে এক-জন সংগে সংগে সা’লাবার কাছে পৌঁছল এবং তাকে ভৎর্সনা করে বলতে লাগল তোমার ব্যাপারে কোরআনে আয়াত নাজিল হয়ে গেছে । একথা শুনে সা’লাবাহ ঘাবড়ে গেল এবং মদীনায় উপস্থিত হয়ে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কাছে নিবেদন করল, হুজুর আমার সাদাকাহ কবুল করে নিন । রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে তোমার সাদাকাহ কবুল করতে বারণ করেছেন । একথা শুনে সা’লাবাহ মাথায় মাটি নিক্ষেপ করতে লাগল।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, এটা তোমার নিজেরই কৃতকর্ম । আমি তোমাকে হুকুম করেছিলাম, কিন্তু তুমি ত মান্য করনি । এখন আর তোমার সাদাকাহ কবুল হতে পারেনা । সা’লাবাহ তখন অকৃতকার্য হয়ে ফিরে গেল । এর কিছুদিন পর রাসুলুল্লাহ (সঃ) ইন্তিকাল করলেন । অতঃপর হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ) খলীফা হলে সা’লাবাহ তাঁর সম্মুখে  উপস্থিত হয়ে সাদাকাহ কবুল করার অনুরোধ জানায় । হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ) উত্তর দিলেন, যে সাদাকাহ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কবুল করেননি, তা আমি কবুল করতে পারিনা ।
অতঃপর হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ) এর ইন্তিকাল হলে হযরত উমর (রাঃ) খলীফা হন ।  সা’লাবাহ তাঁর সম্মুখে  উপস্থিত হয়েও  সাদাকাহ কবুল করার অনুরোধ জানায় । হযরত উমর (রাঃ) উত্তর দিলেন, যে সাদাকাহ রাসুলুল্লাহ (সঃ) কবুল করেননি, আবুবকর সিদ্দীক(রাঃ) কবুল করেননি, তা আমি কবুল করতে পারিনা । তেমনিভাবে হযরত ওসমান  (রাঃ) এর খেলাফতকালেও সে সাদাকাহ কবুল করার অনুরোধ জানায়, কিস্তু তিনিও অস্বীকার করেন । হযরত ওসমান  (রাঃ) এর খেলাফতকালেই সা’লাবার মৃত্যু হয় ।
وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا 
রসূল (সঃ) বলবেনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছে। [ সুরা আল ফুরকান-৩০]
And the Messenger (Muhammad SAW) will say:”O my Lord! Verily, my people deserted this Qur’ân (neither listened to it, nor acted on its laws and orders).

No comments: