<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Oct 3, 2010

হজরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)

মুস্তাজাবুদ্ দাওয়াত হজরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)

রাসুলে করিম (সা.)-এর জবানে জীবদ্দশায় জান্নাতের শুভ সংবাদপ্রাপ্ত, সাবেকিনে আওয়ালিনের মর্যাদায় মহিমান্বিত হজরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ছিলেন কুরাইশ বংশের 'বনু যুহরা' গোত্রের সন্তানতিনি সম্ভবত ৫৯১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেনহজরত সা'দ এদিক থেকেও সৌভাগ্যবান, তাঁর মা-বাবা দুজনই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেনরাসুল (সা.)-এর এ প্রিয় সাহাবির নাম ছিল 'সা'', উপনাম 'আবু ইসহাক', বাবার নাম 'আবু ওয়াক্কাস' আর মায়ের নাম 'হামনা'তিনি ইতিহাসে সা' ইবনে আবি ওয়াক্কাস নামেই খ্যাত
হজরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ছিল গভীর বন্ধুত্ব
তাই ইসলামের সূচনালগ্নে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর প্রেরণায় তিনি ও তাঁর ভাই উমাইর ইসলাম গ্রহণ করেনইসলাম গ্রহণকালে তাঁর বয়স ছিল ২১ বছরবুখারি শরিফে হজরত সা'দের ইসলাম গ্রহণ করা প্রসঙ্গে একটি হাদিস সংকলিত হয়েছেহজরত আমের ইবনে সা'দ পিতা সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি (সা'দ (রা.) বলেন, 'আমার ভালোভাবে স্মরণ আছে, আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যক্তি (পুরুষ), যারা ইসলামে দাখিল হয়েছিলেন' হজরত সা'দের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে তাঁর মা পুত্রের মুসলমান হওয়ার খবর শুনে চিকার শুরু করে দেনতাঁর চেঁচামেচিতে লোকজন জড়ো হয়ে যায়সা'দ মায়ের কাণ্ড দেখে ঘরের এক কোণে নীরব অবস্থান গ্রহণ করেনতাঁর মা কিছুক্ষণ শোরগোল করার পর ছেলেকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য চরমপত্র ঘোষণা করলেনতিনি বললেন, 'সে যতক্ষণ না মুহাম্মদের ধর্ম থেকে ফিরে আসবে, ততক্ষণ আমি কোনো কিছু খাব না, পান করব না এবং রোদ থেকে ছায়াতেও আসব না' মায়ের ঘোষণা শুনে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেনতিন দিন কেটে গেল, সা'দের মা খাবার বা পানীয় কোনো কিছু স্পর্শ করলেন না, কারো সঙ্গে কথাও বললেন না, রোদ থেকে ছায়াতেও এলেন নাসা'দ অস্থির হয়ে পড়লেনতিনি রাসুল (সা.)-এর দরবারে হাজির হলেনঘটনা বিস্তারিত রাসুল (সা.)কে অবহিত করলেনসঙ্গে সঙ্গে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হলো, 'আমি মানুষকে মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিযদি তারা তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি সে বিষয়ে তাদের আনুগত্য কোরো নাআমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবেএরপর আমি তোমাদের জানিয়ে দেব তোমাদের কর্মফল' (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৮)পবিত্র কোরআনের এ আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর হজরত সা'দ (রা.)-এর মনের অশান্তি দূর হলোছেলের দৃঢ়তায় হামনার হৃদয়ে ভাবান্তর ঘটেতিনিও ইসলাম গ্রহণ করেন
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রায় সব যুদ্ধেই হজরত সা' অত্যন্ত সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেনইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদরে হজরত সা'দ ও তাঁর ভাই হজরত উমাইর (রা.) বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন যুদ্ধে উমাইর (রা.) শাহাদাত বরণ করেনউহুদ যুদ্ধে যখন কয়েকজন মুসলিম সৈনিকের ভুলের কারণে মুসলিম বাহিনীর নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে পরিণত হয়, তখন মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন সাহাবি নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে রাসুল (সা.)-এর জীবন রক্ষার্থে বূ্যহ রচনা করেছিলেন, হজরত সা'দ ছিলেন তাঁদেরই একজন সেদিনকার ঘটনা বুখারি শরিফের এক হাদিসে হজরত সা'দ (রা.) নিজেই এভাবে বর্ণনা করেছেন, উহুদের রণাঙ্গনে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় তীরদান হতে সব তীর আমার সামনে রেখে দিয়ে আমাকে বললেন, 'আমার মা-বাবা তোমার প্রতি উসর্গ হোক, তুমি যথাসাধ্য তীর ছুড়তে থাকে' (বুখারি)হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে হজরত আবু উবাদা ও মুসান্না (রা.)-এর নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী যখন পারস্য জয় করে ইরাকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তখন ইয়াজদিগার্দ মুসলিম বাহিনীকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে সেনাপতি রুস্তমের নেতৃত্বে এক বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে খলিফা উমর (রা.) পারসিকদের যুদ্ধপ্রস্তুতির সংবাদ পেয়ে হজরত সা'দকে ইরানি ফ্রন্টের সর্বাধিনায়ক করে অতিরিক্ত সেনাসহ প্রেরণ করেন৬৩৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বাধীন এক লাখ ২০ হাজার সেনার পারসিক বাহিনীর সঙ্গে হজরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনীর প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়যুদ্ধে রুস্তম নিহত হয় এবং পারসিক বাহিনী চরমভাবে বিধ্বস্ত ও পরাজিত হয়এরপর হজরত সা'দের কাছে সংবাদ আসে, ইয়াজিদগার্দ রাজধানী মাদায়েন থেকে সব মূল্যবান সম্পদসহ পলায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেনখলিফার অনুমতিক্রমে হজরত সা'দ (রা.) ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের রাজধানী মাদায়েন আক্রমণ ও দখল করেনসেখানে মুসলিম বাহিনী প্রচুর ধনরত্ন লাভ করেনহজরত সা'দ শ্বেত প্রাসাদে প্রবেশ করে আট রাকাত সালাতুল ফাতাহ্ আদায় করেনএরপর তিনি ঘোষণা দেন, এ শাহি প্রাসাদে আজ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবেএরপর মিম্বার তৈরি করে সেখানে সালাতুল জুমুয়া আদায় করা হয়এটাই ছিল পারস্যে প্রথম জুমার নামাজ
হজরত উমর (রা.) সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)কে কুফার গভর্নর নিয়োগ করেছিলেনকিন্তু কিছুদিন পর তাঁকে কুফাবাসী কয়েকজনের মিথ্যা অভিযোগের কারণে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়এ প্রসঙ্গে বুখারি শরিফের একটি হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছেহজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণনা করেছেন, কুফাবাসী সা'দ (রা.) সম্পর্কে হজরত উমর (রা.)-এর কাছে বিভিন্ন অভিযোগ করল তারা এও বলল, তিনি ভালোভাবে নামাজও পড়ান নাহজরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) ছিলেন আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয়তাঁর সমর্থনে পবিত্র কোরআনে একাধিক আয়াত নাজিল হয়েছেবদর যুদ্ধে হজরত সা'দ সাঈদ ইবনে আসকে হত্যা করে তার তলোয়ারটি রাসুল (সা.)-এর কাছে জমা দিয়ে সেটি তাঁকে দিয়ে দিতে আবেদন করেনরাসুলুল্লাহ (সা.) সেটি তাঁকে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটি না তোমার, না আমাররাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জবাব শুনে হজরত সা'দ কিছুদূর যেতে না-যেতেই সুরা আনফাল নাজিল হয়এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) সা'দকে ডেকে বলেন, 'তোমার তলোয়ারটি নিয়ে যাও' হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেছেন. 'একমাত্র সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় মাতা-পিতা উসর্গ বলে তাঁর সম্পর্কে উক্তি করেছেনঅন্য কারো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)কে এ রকম উক্তি করতে আমি শুনিনি' (বুখারি) একবার হজরত সা'দ কোথাও থেকে আসছিলেনতিনি নিকটবর্তী হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, 'এই দেখো, আমার মামা; অন্য কেউ এ রকম মামা নিয়ে এসো দেখি' (তিরমিজি)
হিজরতের দ্বিতীয় বছরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ৬০ জন উষ্ট্রারোহীর এক টহলদলকে কুরাইশদের গতিবিধি লক্ষ করার জন্য মদিনার উপকণ্ঠে প্রেরণ করেনটহলদলের সদস্য ছিলেন হজরত সা'ইকরামা ইবনে আবি জেহেলের নেতৃত্বে কুরাইশদের একটি দলকে তাঁরা দেখতে পানকুরাইশদের কেউ হঠা চিকার দিয়ে উঠলে সঙ্গে সঙ্গে হজরত সা'দ (রা.) তীর নিক্ষেপ করেনএটাই হলো ইতিহাসে কাফিরদের বিরুদ্ধে কোনো মুসলমানের ছোড়া প্রথম তীরদ্বিতীয় হিজরির রবিউসসানি মাসে রাসুল (সা.) ২০০ সাহাবির একটি দল নিয়ে মদিনার আশপাশে শত্রুদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এবং তাদের মুসলমানদের শৌর্য-বীর্য জানান দিতে বের হনএ দলের পতাকাবাহী ছিলেন হজরত সা'দ (রা.)রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় হজরত বেলাল (রা.)-এর অনুপস্থিতিতে হজরত সা'দ তিনবার আজান দিয়েছেনরাসুল (সা.) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, 'আমার সঙ্গে বেলালকে না দেখলে তুমি আজান দেবে'
হজরত সা'দ (রা.)-এর মধ্যে কাব্যপ্রতিভাও ছিলইবনে হাজার 'আল-ইসাবা' গ্রন্থে তাঁর কবিতার কয়েকটি চরণ উল্লেখ করেছেনহজরত সা'দ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেনসাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মধ্যে হজরত সা'দের একটি বিশেষ মর্যাদা ও অবস্থান ছিলএকবার হজরত সা' (রা.) মোজার ওপর মাসাহ সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনা করেনআবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হাদিসটি যাচাই করার জন্য স্বীয় পিতা উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে গেলে তিনি বলেন, যখন সা'দ তোমাদের কোনো হাদিস বর্ণনা করে, তখন সে সম্পর্কে অন্য কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা কোরো নাখুলাফায়ে রাশেদিনের সবাই হজরত সা'দের মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করতেনহজরত উসমান (রা.) শাহাদা বরণ করলে ইসলামের ইতিহাস এক চরম ক্রান্তিকালে উপনীত হয়তখন মুসলিম উম্মাহ তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েএকপক্ষে ছিল উসমানের বিরুদ্ধবাদীরা, অন্যপক্ষে ছিল হজরত উসমানের হত্যাকারীদের বিচারপ্রার্থীরাউভয় পক্ষেই ছিলেন বড় বড় সাহাবায়ে কেরামএ দুই দলের মধ্যবর্তী আরো একটি নীরব শ্রেণীর লোক ছিলেন, যাঁরা কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করাকে বৈধ মনে করতেন নাহজরত সা'দ ছিলেন এ নিরপেক্ষ লোকদের একজনতিনি তখন মদিনার নিজ ঘরে অবস্থান করেন
দশম হিজরিতে হজরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গী ছিলেনকিন্তু হজের অনুষ্ঠানাদি পালনের আগেই মক্কায় তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েনজীবনের আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.) মাঝেমধ্যে এসে তাঁকে দেখে যেতেনহজরত সা' (রা.) বলেন, একদিন রাসুলে করিম (সা.) আমাকে দেখতে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেনতিনি আমার কপালে হাত রাখলেনএরপর মুখমণ্ডলের ওপর দিয়ে হাতের স্পর্শ বুলিয়ে পেট পর্যন্ত নিয়ে গেলেনতিনি আমার জন্য দোয়া করলেন, 'হে আল্লাহ, সা'দকে শেফা দান করো, তার হিজরতকে পূর্ণতা দাও, আর হিজরতের স্থান মদিনাতেই তাঁর মৃত্যু দান করো' তিনি এরপর আরো ৪৫ বছর জীবিত ছিলেন হজরত সা'দ বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতের শীতল স্পর্শ আমি আজও অনুভব করি৫৫ হিজরি মোতাবেক ৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে মদিনা থেকে ১০ মাইল দূরে আকীক উপত্যকায় কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর হজরত সা'দ (রা.) ৮৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেনতাঁর ইন্তেকালের পর হজরত আয়েশা (রা.) ও আজওয়াজে মুতাহ্হারাতের অনুরোধে তাঁর লাশ মসজিদে নববীতে আনা হয় এবং রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীগণ তাঁর জানাজায় শরিক হন হজরত সা'দ (রা.) যে জুব্বাটি পরে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁর অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী সেটি দিয়ে তাঁর কাফন দেওয়া হয়
লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব
রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ

No comments: