<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Jan 5, 2011
হজ ফরজ হওয়ার বিধান ও নিয়মাবলি
অনুবাদ : ১৯৬. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ ও ওমরাহ সম্পন্ন কোরো; পথে যদি তোমাদের কোথাও আটকে দেওয়া হয়, তাহলে সে স্থানে কোরবানির জন্য যা কিছু সহজভাবে পাওয়া যায়, তা দিয়েই কোরবানি আদায় করে নাও। কোরবানির পশু তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পেঁৗছানোর আগ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন কোরো না। যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে অথবা যদি তার মাথায় কোনো রোগ থাকে, তাহলে সে যেন এর বিনিময়ে ফিদিয়া আদায় করে এবং তা হচ্ছে কিছু রোজা রাখা অথবা অর্থ দান করা কিংবা কোরবানি আদায় করা। অতঃপর তোমরা যখন নিরাপদ হয়ে যাবে তখন তোমাদের কেউ যদি একসঙ্গে হজ ও ওমরাহ আদায় করতে চায়, তার উচিত যা সহজলভ্য তা দিয়ে কোরবানি আদায় করা; যদি কোরবানি করার মতো কোনো পশু সে না পায়, তা হলে সে হজের সময় তিনটি এবং বাড়ি ফিরে গিয়ে সাতটি_এভাবে পুরো ১০টি রোজা রাখবে। এটা শুধু তাদের জন্য যাদের পরিবার-পরিজন আল্লাহর ঘরের আশপাশে বসবাস করে না। তোমরা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ হও, জেনে রেখো আল্লাহ কঠোর শাস্তি প্রদানকারীও। (সূরা বাকারা: ১৯৬)
ব্যাখ্যা : এখানে আয়াতে হজ ও ওমরাহ সম্পর্কে কিছু বিধিবিধান বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াত থেকে গৃহীত প্রধান বিধিবিধানগুলো অনুরূপ : ক. সক্ষম ব্যক্তির ওপর হজ করা ফরজ, অক্ষম ব্যক্তির ওপরও ফরজ হয়ে যায় যদি তিনি হজের উদ্দেশ্যে এহরাম বাঁধেন। খ. হজ বা ওমরাহর এহরাম বাঁধার পর কোনো কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে_যেমন শত্রুর ভয় বা এ ধরনের কিছু; তবে একটি কোরবানির পশু হারাম শরিফে পাঠাবে। কোরবানি করতে হবে হারাম শরিফের সীমানার ভেতরে। অতঃপর যখন ধারণা হয়, কোরবানি হয়ে গেছে তখন মাথা মুণ্ডন করে এহরাম খুলতে হবে। পরে সুযোগমতো এর 'কাজা' আদায় করবে। মহিলাদের জন্য মাথা মুণ্ডন হারাম, তারা শুধু এক আঙুল চুল কাটবে। হজ বা ওমরাহ পূর্ণ করার আগে যদি রোগব্যাধি, উকুনের উপদ্রব বা এ ধরনের কোনো কারণে কারো মাথা মুণ্ডন করতে হয়, তবে তিনটি রোজা রাখবে বা ছয় ফিতরা পরিমাণ দান করবে অথবা একটি মেষ বা বকরি কোরবানি করে গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেবে। কোরবানির পশু সহজলভ্য না হওয়ার অর্থ এটাও বোঝায় যে যদি সেই ব্যক্তি অর্থসংকটের কারণে কোরবানির পশু ক্রয় করতে না পারে, তখন হজের সময় তিন দিন রোজা রাখবে এবং হজ থেকে বাড়িতে ফেরার পর সাত দিন রোজা রাখবে। এভাবেই ১০ রোজা পূর্ণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, হজ তিন প্রকার_১. এফরাদ। এটা হলো হজের দিনগুলোতে মীক্বাত থেকে শুধু হজের এহরাম বেঁধে হজ আদায় করা। ২. তামাত্তু। এটা হচ্ছে হজের দিনগুলোতে পৃথক পৃথক এহরামে হজ ও ওমরাহ উভয় ক্রিয়া পালন করা। ৩. হজে কেরান। কেরান হচ্ছে হজের মৌসুমে মীক্বাত থেকে একত্রে ওমরাহ ও হজের এহরাম বেঁধে উভয় ক্রিয়া সম্পন্ন করা। যিনি তামাত্তু ও কেরান হজ করবেন তাঁর পক্ষে কোরবানির দিনগুলোর মধ্যে হারাম শরিফের ভেতরে একটি পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি করতে অক্ষম হলে ১০টি রোজা রাখতে হবে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment