অনুবাদ ১৩৪। সেই সম্প্রদায়ের যুগ অতীত হয়ে গেছে। তাঁরা যা করে গেছেন, তা তাঁদের নিজেদের জন্য, আর তোমরা যা করবে তা তোমাদের নিজেদের জন্য; তাঁরা যা করে গেছেন, সে ব্যাপারে তোমাদের কিছু জিজ্ঞেস করা হবে না।১৩৫। আর তারা বলে তোমরা ইহুদি হয়ে যাও অথবা বলে খ্রিস্টান হয়ে যাও, তাহলে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পাবে। (হে নবী) আপনি বলুন, বরং আমরা তো ইব্রাহিমের একনিষ্ঠ (হানিফ) মতাদর্শের অনুসারী, তিনি তো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।১৩৬। তোমরা বলো, আমরা তো আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি এবং তিনি আমাদের ওপর যা কিছু নাজিল করেছেন এর ওপরও; আরো ঈমান এনেছি যা কিছু নাজিল করা হয়েছে ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের সন্তানদের ওপর; (তা ছাড়া) যা কিছু দেওয়া হয়েছে মুসা, ঈসাসহ সব নবীকে, তাঁদের প্রভুর পক্ষ থেকে তার ওপরও আমরা ঈমান এনেছি। আমরা এদের কারো মধ্যে কোনো তারতম্য করি না, আমরা আল্লাহর অনুগত।(সুরা বাকারা, আয়াত-১৩৪-১৩৬)
ব্যাখ্যা : আগের আয়াতগুলোতে যেহেতু হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর দুই পুত্রের কথা বলা হয়েছে এবং তাঁদের বংশধরদের উত্তরাধিকারের প্রশ্ন আনা হয়েছে, সেহেতু ১৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে তাঁদের যুগ অতীত হয়ে গেছে। তাঁরা যা করে গেছেন, এর পরিণাম তাঁরা পাবেন আর তোমরা যা করেছ এর পরিণামও তোমরা পাবে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ইহুদিদের বিশ্বাস, পূর্বপুরুষের কর্মফল উত্তর পুরুষরা লাভ করে থাকে। এই আয়াতের মাধ্যমে এ শিক্ষাই সামনে আনা হয়েছে যে, শুধু উত্তরাধিকার নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, যে যা অর্জন করবে, সে তাই ভোগ করবে।
১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর আয়াতের শানে নজুল এ রকম : ইহুদিরা দাবি করে, তারা ইব্রাহিমের বংশধর এবং তাঁর প্রকৃত শিক্ষার ধারক। খ্রিস্টানরাও অনুরূপ দাবি করে। ইহুদিরা মুসলমানদের বলত, তোমরা বরং ইহুদি ধর্মে চলে এসো। যেহেতু তোমরা মিল্লাতি ইব্রাহিমের কথা বলছো। খ্রিস্টানরাও মুসলমানদের অনুরূপ কথাই বলত। কিন্তু ইহুদি ও খ্রিস্টানরা বুঝতে চাইত না যে তারা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মূল শিক্ষা_তাঁর একত্ববাদ ও সত্যনিষ্ঠতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তারা তাদের ধর্মের ভেতরে 'শিরক' ঢুকিয়ে ফেলেছে এবং সত্য ও ন্যায়ের অনুশীলন থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। অনুরূপ পটভূমিতে সত্যকে স্পষ্ট করে তোলার জন্যই এ আয়াতগুলো নাজিল হয়।
১৩৬ নম্বর আয়াতে মহানবী (সা.) ছাড়াও অন্য নবীদের সম্পর্কে এবং অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে ইসলামের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। শুধু নিজেদের নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর আনীত কিতাব ও ধর্মের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাই ঈমান নয়। অন্যান্য নবীদের ওপর এবং তাঁদের আনীত কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাও ঈমানের অংশ। এমনকি ইসলাম নবীদের কোনো তারতম্যের দৃষ্টিতে দেখে না। সব নবীই সত্য ধর্ম নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁদের সবারই মর্যাদা সমান, এটা ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস। ইসলামের মূল শিক্ষা হলো সত্যের অনুসন্ধান করা; সংকীর্ণতা বা বিভেদ সৃষ্টি করা নয়।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment