<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Jan 25, 2011

বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের স্বরূপ

 অনুবাদ  ১৭। এদের উদাহরণ হচ্ছে সে ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালাতে চাইল, যখন তা তার সামনে আলোকোজ্জ্বল করে দিল, তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের আলোটুকু ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদের অন্ধকারে ফেলে রাখলেন যে তারা কিছুই দেখতে পেল না।
 
১৮। এরা (তাদের অন্তরে) বধির, অন্ধ ও মূক। অতএব এসব লোক ফিরে আসবে না।
১৯। অথবা এদের উদাহরণ এমন অবস্থা দিয়ে বর্ণনা করা যায় যে আসমান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির মধ্যে এরা। মাঝে রয়েছে অন্ধকার, মেঘের গর্জন ও বিদ্যুতের চমক। বিদ্যুতের গর্জন ও মৃত্যুর ভয়ে এরা নিজেদের কানে আঙুল ঢুকিয়ে রাখে, আল্লাহ তায়ালা কাফিরদের সব দিক থেকে ঘিরে রেখেছেন।
২০। মনে হয়, এখনই বিদ্যুৎ এদের চোখকে নিষ্প্রভ করে দেবে; আল্লাহ তায়ালা যখন এদের জন্য একটু আলো জ্বালিয়ে দেন তখন এরা তার মধ্যে চলতে থাকে, আবার যখন তিনি তাদের ওপর অন্ধকার চাপিয়ে দেন তখন এরা দাঁড়িয়ে যায়, অথচ আল্লাহ তায়ালা চাইলে সহজেই তাদের শোনার ও দেখার ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে পারতেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশক্তিমান।[সুরা বাক্বারা, আয়াত ১৭-২০]
ব্যাখ্যা 
মক্কার মুশরিক কোরাইশরা যখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্যের বাণী এবং তাঁর নবুওয়ত নিয়ে চরম বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ওপরোক্ত আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে। এখানে উদাহরণ দিয়ে তাদের অবস্থা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। উদাহরণগুলো অত্যন্ত সহজ এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাপ্রসূত। বলা হয়েছে, এদের উদাহরণ এসব লোকদের মতো, যারা অন্ধকারে আগুন জ্বালাতে চাইল। তাদের সামনে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় আলোটা নিভে গেল। এরা অন্ধকারে পড়ে রইল, কিছুই দেখতে পেল না। আল্লাহর কোরআন এবং রাসুল (সা.)-এর হেদায়েত অনুরূপভাবেই মক্কাবাসীর কাছে ক্ষণিকের আলোর ঝলকানির মতোই এল। বিভ্রান্তরা যেহেতু এটা গ্রহণ করতে চাইল না, তাই তারা অন্ধকারেই পড়ে রইল। তারা সত্যকে দেখতে পেল না। তাদের চোখ, কান, মুখ, জাগতিক জ্ঞান-বুদ্ধি_সবই আছে; কিন্তু প্রকৃত অর্থে এরা বধির, অন্ধ ও মূক। এরা এখান থেকে ফিরে আসতে পারবে না। এখানেও আল্লাহ তাদের অভিসম্পাত দেননি, বরং তাদের বিভ্রান্তি ও অপকর্মের পরিণতির কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
এখানে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের ব্যাপারে আরো দুটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ দুটি আয়াতের মূল বর্ণনায়ই বেশ জীবনঘনিষ্ঠ ও বাস্তবতাপ্রসূত। ১৯ ও ২০ নম্বর আয়াতে উদাহরণ দুটিকে আয়াতের মূল বর্ণনায়ই বেশ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের সত্যের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আল্লাহ তায়ালা এভাবে মানুষের উপলব্ধিকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: