অনুবাদ :
৫৭। আমি তোমাদের ওপর মেঘের ছায়া দান করেছিলাম, 'মান' ও 'সালওয়াহ' নামক খাবারও তোমাদের জন্য পাঠিয়েছিলাম। (আমি তোমাদের বলেছিলাম) সেসব পবিত্র খাবার খাও। তারা কিন্তু (নিয়ামত অবজ্ঞা করে) নিজেদের ওপরই অত্যাচার করল; আমার ওপর নয়।৫৮। আমি যখন তোমাদের বলেছিলাম, তোমরা এই জনপদে ঢুকে পড়ো এবং এর যেখান থেকে ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার করো; এবং মাথা নত করে প্রবেশ করো, তোমরা ক্ষমার কথা বলবে। আমিও তোমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেব। আর সৎকর্মকারীদের আমি আমার দান বাড়িয়ে দিই।৫৯। অতঃপর জালিমরা এমন কিছু ব্যাপার রদবদল করে ফেলল, যা না করার জন্য তাদের বলা হয়েছিল। আমিও, যারা জুলুম করেছিল, তাদের ওপর আকাশ থেকে গজব নাজিল করলাম। এটা ছিল তাদের অত্যাচারের ফল।(সুরা আল-বাকারা, আয়াত_৫৭-৫৯)
ব্যাখ্যা :
বনি ইসরাইলিদের আদি বাসস্থান ছিল কিনান বা ফিলিস্তিনের সাগরতীর এলাকা। সেখান থেকে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর নেতৃত্বে মিসরে গিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। ইউসুফ (আ.) মিসরের রাজদরবারে প্রভাবশালী উজিরের আসন পেয়েছিলেন। ফিরাউনের সঙ্গে মূসা (আ.)-এর বিরোধের পর লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে তারা যে এলাকায় এসে উঠেছিল, সেটা ছিল মরুপ্রান্তর। তাদের পিতৃভূমি তখন অন্য আরেক জাতির দখলে চলে গেছে। সেখানে তারা ফিরে যেতে পারল না। ৪০ বছর তারা উদ্ভ্রান্তের মতো মরু প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছিল। আল্লাহর করুণায় সেখানে তারা মেঘের ছায়া পেয়েছিল। আর পেয়েছিল 'মান' ও 'সালওয়াহ' নামক দুই ধরনের খাবার। 'মান' হলো সাদা বরফের মতো একধরনের সুমিষ্ট খাবার, যা আকাশ থেকে পরে জমা হতো। আর সালওয়াহ একধরনের পাখি। এসব পাখি দলে দলে এসে নামত এবং এদের ধরা খুব সহজ ছিল। কিন্তু বনি ইসরাইলিরা এই একধরনের খাবারে সন্তুষ্ট ছিল না বলে এবং এই খাবারের অপব্যবহার করত বলে শেষে তারা ভোগান্তিতে পড়েছিল। এ কথাই ৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে।
৪০ বছর উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর পর তারা তাদের পিতৃভূমির জনপদ ফিরে পেয়েছিল। আল্লাহর নির্দেশেই হজরত মুসা (আ.)-এর লোকেরা সেখানে গিয়েছিল এবং বিজিত জনপদের সহায়-সম্পদ উপভোগ করার অনুমতি পেয়েছিল। আল্লাহ তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিনয়ের সঙ্গে মাথা নত করে সেখানে প্রবেশ করতে এবং 'তওবা বা ক্ষমা করো' শব্দটি উচ্চারণ করতে। কিন্তু বিজয়ী বনি ইসরাইলের অনেকেই তা করেনি। তাদের কেউ কেউ 'তওবা' শব্দটিকে বিকৃত অর্থে প্রকাশ করেছে এবং বিদ্রূপ করেছে। তা ছাড়া তারা সেখানে অন্যায়-অবিচারও করেছে, যা তাদের করতে নিষেধ করা হয়েছিল।
৫৯ নম্বর আয়াতে এ কারণেই তাদের জালিম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ সেখানে তারা আল্লাহর নাফরমানি করেছে এবং পরাজিতদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। আল্লাহতায়ালা এই নাফরমানির জন্য তাদের ওপর আসমানি মুসিবত নাজিল করেছিলেন। বর্ণিত আছে, এর ফলে বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ে ব্যাপকভাবে 'প্লেগ' রোগ দেখা দিয়েছিল। এখানে আল্লাহর বাণী রদবদলকারী বা অপব্যাখ্যা প্রদানকারীদের ভয়াবহ পরিণতির কথাই বলা হয়েছে। বনি ইসরাইলিরা আল্লাহর কথা রদবদল বা অপব্যাখ্যা করেছিল শুধু অজ্ঞতার কারণে নয়, বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতেই আল্লাহতায়ালা তাদের ওপর আসমানি মুসিবত নাজিল করেন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment