২১০। তারা কি সেদিনের অপেক্ষা করছে, যখন আল্লাহ স্বয়ং তাঁর ফেরেশতাসহ মেঘের ছায়া দিয়ে আসবেন, তখন সবকিছুর ফয়সালা হয়ে যাবে; সব বিষয়ের ফয়সালা তো তাঁর কাছেই ফিরে আসবে। (সূরা বাকারা: ২১০)
২১১। আপনি বনি ইসরাইলদের জিজ্ঞেস করুন কী পরিমাণ স্পষ্ট নিদর্শন আমি তাদের দান করেছি; যাদের কাছে পথপ্রদর্শনের মতো নেয়ামত আসার পর তারা নিজেরা তা বদলে ফেলে (তাদের জন্য) আল্লাহ কঠোর শাস্তিদানকারী।(সূরা বাকারা: ২১১)২১২। যারা অবাধ্য, তাদের জন্য এ পার্থিব জীবনটা বেশ লোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে, এরা ইমানদার মানুষদের বিদ্রূপ করে; এসব ইমানদার মানুষ যারা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ, শেষ বিচারের দিন তাদের মর্যাদা অনেক বেশি হবে। আল্লাহতায়ালা যাকে চান তাকে অপরিমিত সৌভাগ্য দান করেন।(সূরা বাকারা: ২১১) ব্যাখ্যা: ২১২ নম্বর আয়াতের শানে নুজুল এ রকম : ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় যাঁরা মুসলমান হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ছিলেন আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দরিদ্র। তাঁদের মধ্যে হাবশি ক্রীতদাসরাও ছিলেন। হজরত বেলাল ও আম্বার (রা.) প্রমুখ দরিদ্র ব্যক্তিরা অত্যন্ত উঁচু দরজার মুসলমান ছিলেন এবং রাসুল (সা.) তাঁদের বেশ সমীহ করতেন। এঁদের দেখে কাফের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও গোত্রপ্রধানরা বলত, 'মুহাম্মদ বলে থাকে যে আমি এসব দরিদ্র লোকদের সহযোগিতায় আমার কাজ সম্পন্ন করছি এবং তথাকথিত ধনাঢ্য সেসব কাফির গোত্রপ্রধানদের দর্পচূর্ণ করছি_এটা মুহাম্মদ (সা.)-এর মিথ্যা আস্ফালন।' তাঁর ধর্ম সত্য হলে তিনি অবশ্যই আরব গোত্রপ্রধানদের সহযোগিতা পেতেন। এদের এসব কথার জবাবে আল্লাহতায়ালা এ আয়াতটি নাজিল করেন।
এর আগের ২১০ ও ২১১ নম্বর আয়াত মূলত বনি ইসরাইলদের উদ্দেশ্য করেই নাজিল করা হয়েছে। বনি ইসরাইলদের দোদুল্যমানতার আর পরিসমাপ্তি হলো না, তারা নিজেদের জাত্যাভিমান ছেড়ে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারল না। তাদের দোদুল্যমানতার পরিপ্রেক্ষিতেই শেষ বিচারের দিনের ফয়সালার কথা বলা হয়েছে। ২১১ নম্বর আয়াতে আবার তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আল্লাহতায়ালা তাদের জন্য কত স্পষ্ট নিদর্শন অতীতে সামনে এনেছিলেন। কিন্তু এসবের বদৌলতে বনি ইসরাইলরা অর্জন করেছে কেবল জাত্যাভিমান। ২১২ নম্বর আয়াতটি কাফির আরব গোত্রপ্রধানদের উদ্দেশে নাজিল হলেও এর সরাসরি প্রাসঙ্গিকতা চিরন্তন। অবাধ্য ও বদ লোকেরাই ইহজাগতিক জীবনে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সুখ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে। তারা সৎ লোকদের বিদ্রূপ করে মনে মনে অথবা প্রকাশ্যে। কিন্তু তাদের এই সুখ-সুবিধা খুবই ক্ষণস্থায়ী। যাঁরা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ, তাঁরাই প্রকৃত সৌভাগ্যবান।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলীসূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment