অনুবাদ
৮১. হ্যাঁ, যারা পাপ কামিয়েছে এবং পাপ তাদের ঘিরে রেখেছে, এমন লোকেরাই হচ্ছে জাহান্নামের বাসিন্দা, আর সেখানে তারা চিরদিন থাকবে। ৮২. আর যারা ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে। ৮৩. যখন আমি বনি ইসরাইলদের কাছ থেকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম যে তোমরা এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না, আর মাতাপিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে, আত্মীয়স্বজন ও এতিম-মিসকিনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে; মানুষের সঙ্গে সুন্দর কথা বলবে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে এবং জাকাত দান করবে; অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে সামান্য কিছু লোক ছাড়া অধিকাংশই ফিরে গেছ; এভাবেই তোমরা অঙ্গীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।৮৪. তোমাদের কাছ থেকে আমি এ অঙ্গীকারও নিয়েছিলাম যে তোমরা পরস্পরে রক্তপাত ঘটাবে না এবং নিজদের লোকদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে না, অতঃপর তোমরা তা স্বীকার করে নিয়েছিলে, তোমরা তো নিজেরাই এর সাক্ষী।সুরা বাকারা, আয়াত ৮১-৮৪
ব্যাখ্যা
এখানে জগদ্বাসীর প্রতি পথনির্দেশনায় দুটো মোটা দাগের পথের কথাই বলা হয়েছে। একটা হলো পাপের পথ। যারা পাপ করেছে এবং পাপের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তাদের পরিণতি জাহান্নাম। তারা সেই জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। আর একটা হলো সৎপথ বা সঠিক পথ। যারা ইমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তারা বেহেশতবাসী হবে, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। প্রসঙ্গক্রমে এখানেও বনি ইসরাইলদের কথাই টেনে আনা হয়েছে।
বনি ইসরাইল সম্প্রদায় তাদের কিতাব ও নবীগণের মাধ্যমে যেসব নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল তার প্রধান প্রধান অংশের বিবরণ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ৮৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত কাজগুলো চিরায়ত ইসলামের কালোত্তীর্ণ শিক্ষা। হজরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমল পর্যন্ত এ কাজগুলো আল্লাহর প্রতি মানুষের পবিত্র অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহাসিক বিবেচনায় বনি ইসরাইলরা এ শিক্ষায় বিশেষভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। কিন্তু সে জাতির অল্প কিছু লোক ছাড়া অনেকেই এর বরখেলাপ করেছে। ৮৪ নম্বর আয়াতে আরেক ধরনের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে, তা হলো শান্তির অঙ্গীকার। পরস্পরে যুদ্ধ নয়, বরং শান্তির পথ মেনে চলা। অথচ অন্যান্য কলহপ্রিয় জাতির মতো বনি ইসরাইলরাও এই অঙ্গীকার বারবার ভঙ্গই করেছে।
৮১ নম্বর আয়াতে পাপাচারীদের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, 'যারা পাপ কামিয়েছে এবং পাপ তাদের ঘিরে রেখেছে'_এর মর্মগত অর্থ হচ্ছে যারা পাপে লিপ্ত। পাপের পথ নেতিবাচক পথ। মানুষ পাপ করেও পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে পারে। যারা পাপ করেছে এবং ফিরে আসেনি তাদেরকেই চিহ্নিত করা হয়েছে জাহান্নামি হিসেবে। অপরদিকে ইমান, সৎকর্ম ও জান্নাতের পথ হচ্ছে ইতিবাচক পথ। মানুষ এ পথে চলবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ এ পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারে, তবে আবার ফিরেও আসতে পারে। সুরা ফাতিহায় আল্লাহ তায়ালা এ পথকে 'সিরাতাল মুস্তাকিম' বা সরল পথ বলে অভিহিত করেছেন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)




No comments:
Post a Comment