<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Mar 10, 2011

সত্য ও ন্যায়ের প্রতি বিদ্রোহীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম

অনুবাদ : ১০। যারা আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর ওপর অর্থাৎ সত্য ও ন্যায়ের ওপর ইমান আনতে অস্বীকার করেছে, তাদের ধন-সম্পত্তি এবং সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর দরবারে তাদের বাঁচানোর জন্য কোনো উপকারেই আসবে না। এরা জাহান্নামের জ্বালানি হবে।
১১। তাদের পরিণতি হবে ফারাওদের বংশধর এবং তাদের পূর্ববর্তী নাফরমান জাতির মতো। তারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। অতএব, তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেছিলেন। পাপীদের শাস্তি প্রদানে আল্লাহতায়ালা অত্যন্ত কঠোর।
১২। (হে নবী) যারা আল্লাহ ও তার সত্য এবং ন্যায়কে অস্বীকার করে, তাদের আপনি বলে দিন, অচিরেই তোমরা পরাজিত হবে, আর পরিণতিতে তোমাদের জাহান্নামের আগুনের কাছে জড়ো করা হবে। এই জাহান্নাম হচ্ছে অতি নিকৃষ্ট ঠিকানা। [সূরা : আল ইমরান, আয়াত : ১০-১২]
ব্যাখ্যা : ১২ নম্বর আয়াতটি নাজিল হয়েছে বিশেষভাবে ইহুদিদের উদ্দেশ্য করে। এর আগের ১০ ও ১১ নম্বর আয়াত দুটিও অনুরূপ প্রসঙ্গ ধরেই নাজিল হয়েছে। বদরের যুদ্ধে জয়লাভের পর রাসুল (সা.) কায়নুকার বাজারে ইহুদিদের একত্রিত করে একটি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, 'কোরাইশরা আমাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য মদিনা আক্রমণ করতে আসছিল, কিন্তু তারা আমাদের কাছে পরাজিত হয়ে গেছে। আপনারা (ইহুদিরা) কোরাইশদের সঙ্গে সখ্য রাখেন, তাদের পথ চেয়ে বসেও থাকেন। আপনাদের অবস্থা তাদের মতো হওয়ার আগেই সত্য ও ন্যায়কে গ্রহণ করুন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর পথে আসুন।' তখন ইহুদি নেতারা বলল, 'কোরাইশরা ছিল যুদ্ধে অনভিজ্ঞ, তাদের পরাজিত করতে পেরেছেন বলেই আপনি ভুল ধারণায় পড়ে থাকবেন না। আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে বুঝতে পারবেন পরাজিত কারা হয়। আল্লাহর শপথ, আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে আপনারা পরাজিত হবেন। কারণ আমরা কোরাইশদের চেয়ে অনেক অভিজাত এবং যোদ্ধা জাতি। আমাদের মতো যোদ্ধা জাতির সঙ্গে আপনার এখনো কোনো যুদ্ধ হয়নি, এ জন্যই আপনি বুঝতে পারছেন না।' তাদের এসব কথার উত্তরেই আয়াতটি নাজিল হয়। এই আয়াতে আল্লাহ তাঁর রাসুল (সা.)-কে স্পষ্ট করে বলে দিতে বলেন যে তোমরা পরাজিত হবে। আর এই পরাজয়ের ধারাবাহিকতায়ই তোমাদের জাহান্নামের আগুনের পাশে জড়ো করা হবে।
এর আগের দুটি আয়াতে কাফের বা সত্য পথ অস্বীকারকারীদের করুণ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। যারা সত্যকে অস্বীকার করছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর পথকে অস্বীকার করছে, তাদের বিত্তবৈভব যত বেশিই দেখা যাক, ধনবল এবং জনবলের যত প্রাচুর্যই তাদের দেখা যাক, এসব ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্তুতি তাদের কোনো কাজেই আসবে না। ১১ নম্বর আয়াতে তাদের জন্য প্রাচীনকালের উদাহরণ সামনে আনা হয়েছে। ফারাও সম্রাটদের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এবং বনি ইসরাইল বংশোদ্ভূত আল্লাহ নবীদের সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের পরাজয়ের কাহিনীর ইঙ্গিত এখানে দেওয়া হয়েছে। ফারাওদের সঙ্গে ইহুদিদের সংগ্রামের কাহিনী উল্লেখ করেই এখানে ইহুদিদের সত্য পথ অনুসরণ করার উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আল্লাহর আয়াতগুলোকে যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চায়, সেই পাপিষ্ঠদের প্রতি আল্লাহতায়ালা যে ভীষণ কঠোর_এ কথাই এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: