<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Mar 16, 2011

হজরত ঈসা মাসিহকে (আ.) পিতার মাধ্যম ছাড়াই জন্ম দেওয়া হয়েছিল

অনুবাদ৪৮. মারইয়াম (আ.) বললেন, হে প্রভু! আমার গর্ভে সন্তান আসবে কিভাবে? আমাকে তো কখনো কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি। আল্লাহ তায়ালা বললেন, এভাবেই আল্লাহ যাকে চান (স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রমভাবেই) তাকে জন্ম দেন। তিনি যখন কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তখন শুধু বলেন, 'হও', অতঃপর তা হয়ে যায়।
৪৮. আর আল্লাহ তাকে শিক্ষা দেবেন কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং তাওরাত ও ইনজিল।
৪৯. আল্লাহ তাকে বনি ইসরাইলের কাছে রাসুল করে পাঠালেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাছে এসেছি তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে কিছু নিদর্শন নিয়ে। (উদাহরণস্বরূপ) আমি মাটি দিয়ে পাখির মতো করে বানাব এবং পরে তাতে ফুঁ দেব, এরপর এটি জীবন্ত পাখি হয়ে উড়ে যাবে, আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদেরও সুস্থ করে দেব, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি মৃতকেও জীবিত করে দেব, আমি তোমাদের আরো বলে দেব, তোমরা তোমাদের ঘরে কী কী জিনিস খাও এবং কী কী জিনিস জমা করে রাখো। তোমরা যদি আল্লাহর ওপর ইমান আনো তবে নিঃসন্দেহে এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।[সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৪৭-৪৯]

ব্যাখ্যাএই আয়াতগুলোও আগের আয়াতের ধারাবাহিকতায় একই কাহিনীর বর্ণনা এসেছে। ইমরান বিনতে মারইয়াম (আ.)-কে যখন ফেরেশতা এসে ঈসা মাসিহের জন্মের খবর দিলেন, তখন মারইয়াম জবাব দিলেন, আমাকে তো কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি, অর্থাৎ বৈধ বা অবৈধভাবে পুরুষের সঙ্গে সঙ্গম হয়নি। তবে আমার সন্তান হবে কীভাবে?
এটাই স্বাভাবিক যুক্তি। মারইয়াম জানতে চেয়েছিলেন সন্তান জন্মদানের জন্য তাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা হবে না কি এমনিতেই সন্তান হবে? উত্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্তান এমনিতেই হবে। যে প্রক্রিয়ায় আল্লাহ 'কুন' বা 'হয়ে যাও' বলে তাঁর ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেই সব কিছু হয়ে যায়। সেই প্রক্রিয়ায় পিতা ছাড়া মায়ের গর্ভে তিনি সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম। আর এর ফলে আল্লাহর কার্যকারণ নিয়মেরও কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। আল্লাহর সৃষ্টি জগৎ কার্যকারণ নিয়মেই চলে। এখানে কারণ হিসেবে পিতার অস্তিত্ব ছাড়াই মাতৃগর্ভে সন্তানের জন্ম_দৃশ্যত কারণের অনুপস্থিতি দেখা গেলেও প্রকৃত অর্থে কার্যকারণ নিয়ম অনুপস্থিত নয়। আল্লাহ তায়ালা ঈসা ইবনে মারইয়ামকে পিতার মাধ্যম ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন_এটা সম্ভব। আর এর সত্যতার অনুসর্গ হলো তাঁকে কিতাব ও প্রজ্ঞা দান করা। তাওরাত ও ইনজিলের জ্ঞান তাঁর মাধ্যমে মানুষকে দান করা। এ ছাড়া আরো অনেক নিদর্শন আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে মোজেজা দান করেছেন।
৪৯ নম্বর আয়াতে ঈসা মাসিহ (আ.)-কে দেওয়া কিছু মোজেজার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মাটি দিয়ে ছোট পাখির আকৃতি বানিয়ে একে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে হাতের স্পর্শ দিয়ে আরোগ্যলাভ করিয়ে দেওয়া, আল্লাহর ইচ্ছায় মৃতকে সাময়িকভাবে জীবিত করে দেওয়া। লোকেরা তাদের ঘরে কী খায় এবং কী জমিয়ে রাখে তা বলে দেওয়া ইত্যাদি মোজেজা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: