অনুবাদ
১২৩. বদরের যুদ্ধে আল্লাহতায়ালা তোমাদের বিজয় ও সাহায্য দান করেছিলেন, অথচ সমর শক্তির বিচারে তোমরা কত দুর্বল ছিলে। অতএব, আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ হও, হয়তো তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে সক্ষম হবে।১২৪. (হে নবী!) যখন আপনি মুমিনদের বলেছিলেন, তোমাদের প্রভু যদি তিন হাজার ফেরেশতা অবতরণ করিয়ে তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে তোমাদের বিজয়ের জন্য তা কি যথেষ্ট হবে না? ১২৫. অবশ্যই তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করো এবং আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ হও, এ অবস্থায় এরা যদি তোমাদের ওপর দ্রুতগতিতে আক্রমণ করে বসে তাহলে তোমাদের প্রভু পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়েও তোমাদের সাহায্য করবেন।[সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২৩-১২৫] ব্যাখ্যা
এই আয়াতগুলোও পূর্ববর্তী আয়াতের ধারাবাহিকতায় এসেছে, যেখানে কুরাইশদের বিরুদ্ধে বদর ও ওহুদের যুদ্ধের প্রসঙ্গ বর্ণনা করা হয়েছে। বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের যোদ্ধা সংখ্যা ছিল ৩১৩ আর কুরাইশদের পক্ষে যোদ্ধা ছিল হাজারের বেশি। সেই যুদ্ধে আল্লাহর রহমতে মুসলমানদের মনোবলের ওপর নির্ভরশীলতায় বিজয় তাদেরই হয়েছিল। বিজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে আল্লাহতায়ালা তাঁর রাসুলকে উদ্ধৃত করে বলছেন, 'তোমাদের নবী তোমাদের বলেছিলেন, তোমাদের প্রভু যদি তিন হাজার ফেরেশতা অবতরণ করিয়ে তোমাদের সাহায্য করেন তবে কি তা তোমাদের বিজয়ের জন্য যথেষ্ট হবে না? এখানে মুসলমানদের মনোবল দৃঢ় করার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে পরিচালিত হয়। তিন হাজার ফেরেশতা আল্লাহর হুকুমে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে মানে বাস্তবেই আল্লাহর বিরাট সাহায্য। এভাবে আল্লাহতায়ালা তাঁর রাসুলের সাহাবিদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বহুগুণ। ফেরেশতাদের অবতরণ এখানে প্রতীকী বিষয়। বাস্তব বিষয় হচ্ছে মুসলমানদের মনোবল ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস।
এই আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে ওহুদের যুদ্ধের প্রাক্কালে। বদরের যুদ্ধে যেমন তিন হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তেমনি আসন্ন ওহুদের যুদ্ধেও পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবেন বলে অভয়বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। ১২৫ নম্বর আয়াতে মুসলমানদের ধৈর্য ও দায়িত্বনিষ্ঠতার সঙ্গে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর এ অবস্থায় যদি শত্রু আক্রমণ করেই বসে, তবে এর জবাব দিতে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মুসলমানদের মনে সাহস জাগানো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আল্লাহতায়ালা তাদের মনের ভেতর সাহস জাগানোর জন্য এবারও পাঁচ হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে সাহায্য করার আশ্বাস দিচ্ছেন। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ওহুদের যুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলমানদের জয় হয়েছিল। কিন্তু পরে তাদের কয়েকজন যোদ্ধার ভুলের কারণে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এ যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে যোদ্ধা ছিল মাত্র ৭০০ আর আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কুরাইশদের যোদ্ধা সংখ্যা ছিল তিন হাজারের ওপরে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment