<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Aug 11, 2011

এতিম মেয়েদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার নির্দেশ

অনুবাদ : ১২৭. (হে নবী) তারা আপনার কাছে নারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে চায়। তাদের বলে দিন, আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে তোমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন। আর এ কিতাবে এতিম নারীদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর যা পঠিত হচ্ছে, বিশেষ করে আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য যেসব অধিকার দান করেছেন এবং যে অধিকারগুলো সাধারণত তোমরা তাদের প্রতি আদায় করতে চাও না, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে করতে চাও। অসহায় শিশুসন্তান এবং এতিমদের ব্যাপারে তোমরা যেন সুবিচার প্রতিষ্ঠা করো। তোমরা যেটুকুই ভালো কাজ করো, আল্লাহ এর সব কিছু সম্পর্কেই সম্যক অবগত আছেন।
১২৮. যদি কোনো স্ত্রী লোক তার স্বামীর কাছ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা অবজ্ঞার আশঙ্কা করে, তাহলে সে ব্যাপারে পারস্পরিক আপস-মীমাংসা করে নিলে কোনো দোষ নেই। কারণ আপস তো উত্তম পন্থা। মানুষ স্বভাবত লালসার দিকে ঝুঁকে। এ অবস্থায় তোমরা সততার সঙ্গে পরস্পর সদয় হও এবং দায়িত্বনিষ্ঠ হও। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খবর রাখেন।[সুরা : আন নিসা, আয়াত : ১২৭-১২৮] 

ব্যাখ্যা : 
এই আয়াতগুলোতে নারীদের সম্পর্কে এবং দাম্পত্যজীবন সম্পর্কে কিছু মৌলিক নীতিগত প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে। ১২৭ নম্বর আয়াতটির শানে নুজুল এরকম : আরবে জাহেলিয়াত যুগে নারীর অধিকার ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং সামাজিক পরিবেশ ছিল তাদের জন্য যথেষ্ট প্রতিকূল। বিশেষ করে যুদ্ধবিগ্রহে তখন অনেক পুরুষ লোক মারা যেত এবং অনেক অনাথ শিশু ও নারীরা অন্যের অভিভাবকত্বের আওতায় আসত। বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের বেলায় এই সমস্যা হতো প্রকট। কোনো কোনো অনাথ মেয়ে আবার এমন হতো যে, তারা পৈতৃক সূত্রে বেশ কিছু ধন-সম্পদের মালিক। এসব মেয়ের মধ্যে যারা সুশ্রী ও সুন্দরী হতো, তাদের অভিভাবকরা নিজেরাই বিয়ে করে ফেলত। তবে বিয়ে করার মূল কারণ হতো তাদের সম্পদ। অপরদিকে যারা দেখতে কুশ্রী হতো, তাদের নিজেরা বিয়ে করতে আগ্রহী হতো না, আবার অন্যত্র বিয়ে দিতেও আগ্রহী হতো না, তারা সম্পদ নিয়ে চলে যাবে এই আশঙ্কায়। এ ভাবেই মেয়েদের জন্য সামাজিক পরিবেশটা ছিল যথেষ্ট প্রতিকূল। এই আয়াতে সেই প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে তোলার জন্য মেয়েদের ন্যায্য অধিকারগুলো আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এখানে মেয়েদের ব্যাপারে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে এখানে কিছু আইন বা বিধি-বিধানের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে, তবে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিবেকের প্রতি। অর্থাৎ তাদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার উপদেশ শোনানো হয়েছে। কোরআন মজিদে যে নারীদের অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে বেশ কিছু বিধি-বিধান জারি করা হয়েছে, এর প্রতি এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সর্বোপরি মানুষকে নারীসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
১২৮ নম্বর আয়াতে দাম্পত্যজীবনের কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে এর সমাধানের পথ দেখানো হয়েছে। সমস্যার মূল সমাধান হলো পরস্পরের মধ্যে আপস-মীমাংসা হওয়া, আর এর মৌলিক পথ হলো নিজের দিক থেকে কিছু ছাড় দেওয়া। এ ক্ষেত্রে ধন-সম্পদের দিক থেকে কিছু ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে তার প্রতি অস্তুষ্ট দেখতে পায়, তবে তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজের হক থেকে কিছু ছাড় দিয়ে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। অর্থ-সম্পদ মানুষের জীবনযাত্রার জন্য খুবই জরুরি। সে জন্য স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ ছাড় পেলে স্বামী তার প্রতি প্রসন্ন হতে পারে। আর অর্থ ছাড়ের সংগতি বা অবস্থা না থাকলে সম্মানজনক যেকোনো ধরনের আপসরফায় স্বামীকে খুশি করানো যেতে পারে।

গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: