হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ চারিত্রিক মাধুর্য, ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠতা, জ্ঞানের গভীরতা, আদর্শিক একনিষ্ঠতা, নীতি-জ্ঞানে পরিপক্বতা, কর্তব্য-নিষ্ঠা, ত্যাগের মহিমা আর নিঃস্বার্থ প্রজা পালনে পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব রাষ্ট্রনায়ক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁর নামটি উচ্চারণ করতে হয় তিনি হলেন খোলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা, খলিফাতুর রাসুল হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। তিনি আরবের ঐতিহ্যবাহী কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের দুই বছরেরও কিছু বেশি সময় পরে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন রাসুলের ইন্তেকালের পর একই ব্যবধানে। হজরত আবু বকর রাসুলে করিম (সা.)-এর সমান আয়ুষ্কাল লাভ করেছিলেন। তাঁর বংশপরম্পরা ষষ্ঠ পুরুষে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধারায় মিলিত হয়। মহান এ খলিফার নাম ছিল আবদুল্লাহ, কুনিয়াত বা ডাকনাম ছিল আবু বকর, উপাধি আতিক, সিদ্দিক ও খলিফাতুর রাসুল। তাঁর পিতার নাম ছিল উসমান আর ডাকনাম ছিল আবু কুহাফা। মাতার নাম ছিল সালমা আর কুনিয়াত ছিল উম্মুল খায়ের।
উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, মেদহীন হালকা দেহসৌষ্ঠব ও প্রশস্ত ললাটবিশিষ্ট হজরত আবু বকর ছিলেন বেশ সুদর্শন, ব্যবসায়ী, সচ্ছল, সামাজিক নেতৃত্বে মর্যাদাবান। ঐতিহ্যবাহী কুরাইশ দলপতির একমাত্র পুত্র সন্তান হিসেবে হজরত আবু বকর (রা.)-এর কৈশোর ও শৈশব কেটেছে পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদাপূর্ণভাবে। বিলাসিতার মধ্যে প্রতিপালিত হলেও হজরত আবু বকর (রা.)-এর জীবনে জাহেলি যুগেও নীতিহীনতা বা বর্বরতার কোনো স্পর্শ লাগেনি। তিনি কোনোদিন শিরক করেননি এবং মূর্তির জন্য অর্চনা দেননি। তিনি ছিলেন হানিফ ঘরানার প্রথম সারির ব্যক্তি। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাল্যসঙ্গী। মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই তাঁকে পারিবারিক বাণিজ্যের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অধিকাংশ বাণিজ্য সফরে তিনি ছিলেন সফরসঙ্গী। ইতিহাসখ্যাত রাসুল (সা.)-এর সে বাণিজ্য সফর, যে সফরে সিরিয়া সীমান্তে খ্রিস্টান ধর্মযাজক বুহাইরা বা নাসতুরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবী হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সে সফরেও হজরত আব বকর রাসুলের সফরসঙ্গী ছিলেন। তাঁর মধুময় ব্যবহার, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সচ্ছলতা, ব্যবসায়িক দক্ষতা, পরোপকার, বিশ্বস্ততা, সচ্চরিত্র, জ্ঞান, মেধা ও পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি ছিলেন মক্কাবাসী সবার শ্রদ্ধার পাত্র। অনেকে তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনে আগ্রহী ছিল। বক্তব্য উপস্থাপনে তিনি খোদাদাদ যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর কাব্য প্রতিভাও ছিল চমৎকার। জাহেলি যুগেও তিনি কোনো দিন শরাব পান করেননি। জাহেলি যুগে মক্কাবাসীর রক্তপণের সমুদয় অর্থ তাঁর কাছে জমা হতো। তাঁর বাড়িতে প্রতিদিন মক্কার শরিফ লোকদের মজলিস বসত। হজরত আবু বকর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রেসালাতপ্রাপ্তির দ্বিতীয় দিনে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিই হলেন বয়স্ক ও পুরুষদের মধ্যে এবং কুরাইশ বংশের ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি। তিনি এ দিক দিয়েও সৌভাগ্যবান যে তাঁর মা-বাবা দুজনই ইসলাম কবুল করেছিলেন এবং তাঁর পরিবারের সবাই ছিলেন মুসলমান। এক হাদিসে রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, আমি যাকেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, একমাত্র আবু বকর ছাড়া সবার মধ্যে কিছু না কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব লক্ষ করেছি।
বাল্যকাল থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজরত আবু বকর (রা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রেসালাতপ্রাপ্তির পর সে সম্পর্ক আরো গভীর হয়। রাসুল (সা.)-এর অভ্যাস ছিল প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় আবু বকর (রা.)-এর বাড়িতে গমন করা। কোনো বিষয়ে পরামর্শের প্রয়োজন হলে তিনি আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গেই করতেন। দ্বীনি দাওয়াত নিয়ে কোথাও গেলে রাসুল (সা.) তাঁকে সঙ্গে নিয়েই যেতেন। হিজরতের কঠিন সফরে হজরত আবু বকরই ছিলেন রাসুলে করিম (সা.)-এর সফরসঙ্গী। হজরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) যে চরম মর্মবেদনা পেয়েছিলেন, হজরত আবু বকর (রা.) সেটা লক্ষ করেছিলেন। তাই তিনি স্বল্পবয়স্ক কন্যা হজরত আয়শা (রা.)কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে বিবাহ দেন এবং মোহরানার অর্থ নিজেই পরিশোধ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যতগুলো অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন, হজরত আবু বকর (রা.) ছিলেন প্রত্যেক অভিযানেই তাঁর সঙ্গী। নবম হিজরিতে প্রেরিত প্রথম ইসলামী হজ কাফেলায় রাসুল (সা.) হজরত আবু বকর (রা.)কে আমিরুল-হজ নিয়োগ করেন। রাসুল (স.) যখন অন্তিম শয্যায় শায়িত তখন তাঁর নির্দেশে হজরত আবু বকর (রা.) নামাজে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। এসব থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর কত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আর এ কারণেই তিনি উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি তাঁর এত নিখাদ বিশ্বাস ছিল যে, যখন মিরাজের ঘটনাকে কাফেরকুল মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে একটি মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল, যার ফলে কপট শ্রেণীর কিছু মুসলমান মুরতাদ হয়ে গেল এবং অনেক সাধারণ মুসলমানের মন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচালে দুলছিল, তখন হজরত আবু বকর (রা.) অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করলেন, আল্লাহর কসম তিনি আল্লাহর রাসুল। তিনি সত্যই বলছেন, তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না। কাফিরদের প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে হজরত আবু বকর (রা.)-এর দ্বিধাহীন ও দৃঢ় ঘোষণার কারণে রাসুল (সা.) তাঁকে সিদ্দিক উপাধিতে ভূষিত করেন।
ইসলাম প্রতিষ্ঠায় হজরত আবু বকর (রা.)-এ অবদান অসামান্য। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি প্রত্যেকটি মানুষের ইহসান পরিশোধ করেছি। কিন্তু আবু বকরের ইহসান এমন যে আমি পরিশোধে অক্ষম। তাঁর প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। তাঁর অর্থ আমার উপকারে যেমন এসেছে, অন্য কারো অর্থ তেমন আসেনি। তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবেই কুরাইশ বংশের বিশিষ্ট যুবক উসমান, যুবাইর, আবদুর রহমান, সাদ, তালহাসহ আরো অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি যখন ইসলাম কবুল করেন তখন তাঁর সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার দিরহাম। যার সম্পূর্ণটাই তিনি ইসলামের জন্য ব্যয় করেছেন। কুরাইশদের যেসব দাস-দাসী ইসলাম গ্রহণের কারণে চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, তিনি তাদেরকে নিজ অর্থের বিনিময়ে কিনে মুক্ত করে দেন। হজরত বেলাল, খাব্বাব, আম্মার ও তাঁর মা সুমাইয়া, সুহাইব, আবু ফুকাইহসহ অনেকেই তাঁর অর্থের বিনিময়ে স্বাধীন জীবনের অধিকারী হয়েছিলেন। তাঁর শানেই নাজিল হয়েছিল সুরা আল-লাইলের ৫, ৬ ও ৭ আয়াত_'যে ব্যক্তি দান করল ও তাকাওয়া অবলম্বন করল আর যা কিছু উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ করল, তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ (জান্নাত)। তবুক অভিযানে তিনি ছিলেন মুসলিম সেনাদলের পতাকাবাহী। এ অভিযানের ব্যয় নির্বাহের জন্য রাসুল (সা.) যখন সাহাবাদেরকে সাধ্যমত দানের আহ্বান জানালেন, হজরত আবু বকর (রা.) তখন তাঁর সমুদয় অর্থ রাসুলের খেদমতে পেশ করলেন। রাসুল (সা.) যখন তাঁকে প্রশ্ন করলেন, পরিবারের জন্য বাড়িতে কী রেখে এসেছ? তিনি তখন জবাব দিলেন তাদের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই যথেষ্ট।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) একেবারেই হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। রাসুলের মৃত্যু হতে পারে বিষয়টি তাঁদের ভাবনাতেই যেন ছিল না। হজরত ওমর (রা.) কোষমুক্ত তরবারি হাতে ঘোষণা করলেন, যে বলবে মুহাম্মদ (সা.) মারা গেছেন তাঁকে হত্যা করব। এমন অবস্থায় হজরত আবু বকর (রা.) এগিয়ে গেলেন, স্থির চিত্তে তিনি ঘোষণা করলেন, যারা মুহাম্মদের ইবাদত করত তারা জেনে রাখো, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করো তারা জেনে রাখো, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। অতঃপর তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-ইমরানের ১৪৪ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করলেন, 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর আগে বহু রাসুল অতীত হয়েছেন। তিনি যদি মারা যান বা নিহত হন তাহলে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে?' আবু বকর (রা.)-এর বক্তব্য শুনে সাহাবায়ে কেরাম সম্বিত ফিরে পেলেন। অবস্থা স্বাভাবিক হলো, রাসূল (সা.)-এর দাফনকাজ তখনো সম্পন্ন হয়নি এমন সময় মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে রাসুল (সা.)-এর উত্তরাধিকারী নির্বাচন নিয়ে চরম বিরোধের সৃষ্টি হলো। আনসাররা দাবি করলেন যেহেতু আমরা রাসুলকে আশ্রয় দিয়েছি, জীবন ও সম্পদের বিনিময়ে দুর্বল ইসলাম শক্তিশালী করেছি, তাই রাসুলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার হক আমাদেরই। অপর দিকে মহাজিররা বললেন, ইসলামের বীজ আমরা বপন করেছি, আমরাই তাঁকে যত্ন ও লালন করেছি। সুতরাং খেলাফতের হকদার আমরাই। অবস্থা যখন দুই দলের বাদানুবাদে বিস্ফোরণোন্মুখ তখন রাসুল (সা.)-এর দেহ মোবারকের কাছ থেকে বেরিয়ে এলেন হজরত আবু বকর। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করলেন। আনসাররা তাঁর যুক্তি মেনে নিলেন। উপস্থিত সবার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি রাসুল (সা.)-এর খলিফা নিযুক্ত হলেন। এভাবে হজরত আবু বকর (রা.)-এর বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তায় এক মারাত্দক ও জটিল সমস্যার সমাধান হয়। খোলাফায়ে রাশেদিনের মধ্যে একমাত্র তাঁকেই খলিফাতুর রাসুলুল্লাহ বলা হয়। খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর হজরত আবু বকর (রা.) এক সংক্ষিপ্ত ও নীতিনির্ধারণী বক্তব্য প্রদান করেন, যা চিরকাল জগদ্বাসীর জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের প্রতি দরুদ পাঠের পর বলেন, আল্লাহর শপথ আমি চাচ্ছিলাম আপনাদের মধ্য থেকে কেউ এ গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করুক। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হলো। যদি আপনারা চান আমার আচরণ রাসুলের আচরণের মতো হোক তাহলে সে ক্ষেত্রে আমাকে অক্ষম মনে করবেন। কারণ তিনি ছিলেন নবী, সব ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত। আর আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমি যদি সঠিক কাজ করি তাহলে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। আর যদি দেখেন আমি বিপথগামী হচ্ছি, তাহলে আমাকে সতর্ক করে দেবেন।
হজরত আবু বকর (রা.) খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের সুযোগে আবাস ও জুবইয়ান গোত্রদ্বয় জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। বিষয়টি নিয়ে খলিফার দরবারে পরামর্শ সভা বসে। হজরত ওমর (রা.)সহ অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু খলিফা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ জীবদ্দশায় উটের যে বাচ্চাটি জাকাত হিসেবে দেওয়া হতো, এখন যদি কেউ সেটিও দিতে অস্বীকার করে তাহলেও আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আবার কিছু লোক রমরমা ব্যবসার মানসে নবুওয়াতির মিথ্যা দাবি করে বসে। কিছু বেদুঈন সম্প্রদায় ইসলামী খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করে। হজরত আবু বকর (রা.) সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে কঠোর হাতে তাদের দমন করে ইসলামী খেলাফতকে সংকটমুক্ত করেন। বুদ্ধিমত্তা ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসলামী খেলাফতকে রক্ষার জন্য ঐতিহাসিকরা তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলে অভিহিত করেন।
হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইসলামের সবচেয়ে বড় যে খেদমতটি করেছেন তা হলো, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপিগুলো একত্রে করে একটি পূর্ণাঙ্গ কপি তৈরি করেন, যা মাসহাফে সিদ্দিকী নামে খ্যাত।
আর এ মাসহাফে সিদ্দিকীই পরবর্তী সময়ে পবিত্র কোরআন গ্রন্থাকারে সংকলনে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সিদ্দিকে আকবর (রা.) অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কারণে খুব বেশি হাদিস বর্ণনা করেননি। এ মহৎ জীবনের ধারক, খলিফাতুর রাসুল ১৫ দিন রোগভোগের পর ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসের ২৩ তারিখ ১৩ হিজরি ২২ জমাদিউস সানি ইন্তেকাল করেন। হজরত ওমর ফারুক (রা.) তাঁর জানাজায় ইমামতি করেন। অতঃপর হজরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরায়, রাসুল (সা.)-এর পাশে পূর্ব দিকে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জীবনের মহৎ যে গুণগুলো তাঁকে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর সর্বাধিক প্রিয় করে তুলেছিল সেগুলো আমাদের জীবনে অনুসৃত হোক।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Sep 12, 2010
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment