আমিরুল মুমেনিন হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ রাসুলে করিম (সা.)-এর মোবারক জবানে, জীবদ্দশায় যাঁরা জান্নাতের শুভ সংবাদ লাভ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম খোলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমিনিন হজরত উমর ফারুক (রা.)। তিনি ৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে আরবের কুলীন বংশ কুরাইশের 'আদি' গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নাম উমর আর ডাকনাম ছিল আবু হাফ্স। বাবার নাম 'খাত্তাব' আর মায়ের নাম ছিল 'হানতামা'। তাঁর বংশপরম্পরা অষ্টম পুরুষ 'কাব'-এ গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধারায় মিলিত হয়। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসারে হজরত উমর (রা.)-এর জন্মোৎসব বেশ ঘটা করেই পালিত হয় বলে জানা যায়। হজরত উমর (রা.)-এর কৈশোর কেটেছে মক্কার নিকটবর্তী 'দাজনান' নামক ময়দানে বাবা খাত্তাবের উট চরিয়ে।
হজরত উমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষিত ব্যক্তির একজন। ঐতিহাসিক 'বালাজুরি' লিখেছেন, 'মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে কুরাইশ বংশের মাত্র ১৭ জন শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে হজরত উমর (রা.) অন্যতম।' তিনি বংশাবলির জ্ঞান লাভ করেছিলেন পারিবারিকভাবে। তাঁর বাবা ও দাদা ছিলেন এ বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী। বক্তৃতা ও বাগ্মিতা ছিল তাঁর জন্মগত গুণ। যুদ্ধবিদ্যা ও কুস্তি লড়াইয়ে তাঁর সুখ্যাতি ছিল কুরাইশদের জন্য গর্বের। তিনি ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ মল্লযোদ্ধা। তিনি উকাজ মেলায় কুস্তি লড়তেন। আল্লামা জুবইয়ানি বলেছেন, 'উমর ছিলেন এক মস্ত বড় পাহলোয়ান।' তিনি ছিলেন আরবের বিখ্যাত ঘোড়সওয়ারদের একজন। কুরাইশ বংশের বিখ্যাত বীর হওয়ার কারণে সব ধরনের দূতিয়ালির দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। যুদ্ধ কিংবা সন্ধি এবং যেকোনো জটিল সমস্যায় তাঁকেই দূতের দায়িত্ব পালন করতে হতো। কুরাইশরা তাঁর ফয়সালা নির্দ্বিধায় মেনে নিত। যৌবনে হজরত উমর (রা.) ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া, ইরাকসহ অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর সুনাম আরব ও আরবের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, 'হজরত উমরের ইসলাম গ্রহণ ছিল আমাদের জন্য বিজয়, তাঁর হিজরত ছিল আমাদের জন্য মদদ আর তাঁর খিলাফত ছিল আমাদের জন্য রহমত।' বস্তুত হজরত উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল মুসলমানদের জন্য মহা-আনন্দের বার্তা। তিনি নিজেই বলেছেন, 'আমি কালিমায়ে শাহাদাৎ উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে দারুল আরকামে উপস্থিত মুসলমানরা এত জোরে তাকবির ধ্বনি উচ্চারণ করেছিলেন যে, পুরো মক্কাবাসী তা শুনতে পেয়েছিল।' নবুওয়তের ষষ্ঠ বছর জিলহজ মাসের কোনো এক দিনে ঘটেছিল এ ঘটনা। বীর হামজার ইসলাম গ্রহণের মাত্র তিন দিন পর কুরাইশদের শক্তি ও অহংকারের প্রতীক উমর (রা.) ইসলাম কবুল করলেন। এক দিন সকালে আবু সুফিয়ানের প্ররোচণায় ক্রোধে ফুঁসতে ফুঁসতে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে কোষমুক্ত তরবারি নিয়ে উমর এগিয়ে চললেন। পথিমধ্যে নাঈম ইবনে আবদুল্লাহর কাছে বোন ফাতিমা ও ভগি্নপতি সাঈদের মুসলমান হওয়ার সংবাদ শুনে ক্রোধে উন্মত্ত উমর গন্তব্য পরিবর্তন করে ছুটে গেলেন ভগি্নপতির বাড়িতে। ঝাঁপিয়ে পড়লেন সাঈদ (রা.)-এর ওপর। অসহায় স্বামীকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সহোদরা ফাতিমাও প্রচণ্ড মার খেলেন উমরের হাতে। রক্তাক্ত কলেবরে অত্যন্ত দৃঢ় ও উত্তেজক কণ্ঠে ফাতিমা ঘোষণা করলেন, উমর তোমার দ্বীনের বাইরে কোথাও যদি সত্য থেকে থাকে, তাহলে আমরা সেটা গ্রহণ করেছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। বীর উমরের সামনে একজন মেয়ে মানুষের দৃঢ়তা তাঁকে হতবাক করে দিল। সহোদরার চেহারায় নির্যাতনের ছাপ রক্ত দেখে তিনি লজ্জিত হলেন। উমর তাঁর আগমনকালে তাঁদের তালিমের বিষয়বস্তু পবিত্র কোরআনের সুরা তোয়াহার অংশটুকু চেয়ে নিয়ে আবৃত্তি করলেন। কোরআনি নুরের স্পর্শে উমরের হৃদয়ের দ্বার খুলে গেল। তিনি বললেন, এ যে পবিত্র বাণী। তোমরা আমাকে মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে নিয়ে চলো। এরপর তিনি সাফা পর্বতের পাদদেশে দারুল আরকামে উপস্থিত হয়ে মহাসত্যের ঘোষণা দিলেন। হজরত উমর (রা.) নিজেই বর্ণনা করেছেন, 'অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা কি হকের ওপরে নই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তাহলে আর লুকিয়ে থাকা নয়। অতঃপর আমরা দুটি কাতারে কাতারবন্দি হয়ে কাবা শরিফে গেলাম। এক কাতারের প্রথমে ছিলাম আমি। আর অপর কাতারের প্রথমে ছিলেন হজরত হামজা (রা.)। আমরা মসজিদে হারামে প্রবেশ করলাম এবং নামাজ আদায় করলাম। কুরাইশরা হামজা (রা.)-কে এবং আমাকে দেখছিল। সেদিন তারা এমন ভীত হয়েছিল, যা এর আগে হয়নি। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে 'আল ফারুক' উপাধি দান করেন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৪০ বা এর থেকে সামান্য বেশি। হজরত সুহাইব ইবনে সিনান (রা.) বলেন, তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর আমরা কাবার পাশে জটলা করে বসতাম, কাবার তাওয়াফ করতাম, আমাদের সঙ্গে কেউ রূঢ় ব্যবহার করলে প্রতিশোধ নিতাম এবং আমাদের ওপর যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতাম।
মুসলমানদের ওপর যখন কাফেরদের অত্যাচারের মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে গেল তখন হজরত উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুমতিক্রমে ২০ জন মুসলমানের একটি দল নিয়ে মদিনা হিজরত করেন। এর আগে সব মুজাহিদই অত্যন্ত গোপনে হিজরত করেছেন। পক্ষান্তরে হজরত উমর (রা.)-এর হিজরত ছিল প্রকাশ্যে। শাইখ জালালুদ্দীন আবদুর রহমান সুয়ুতি (রহ.) হজরত আলী (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, উমর (রা.) যখন হিজরতের ইচ্ছা করলেন, তিনি গলায় তরবারি ঝোলালেন। তীর-ধনুক হাতে নিলেন, এরপর কাবা শরিফে গেলেন। তখন কুরাইশ নেতারা কাবার পাশে আড্ডা দিচ্ছিল। তিনি প্রথমে কাবাঘর সাতবার তাওয়াফ করলেন। তারপর মাকামে ইবরাহিমে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। এরপর কুরাইশদের আড্ডায় গিয়ে বললেন, আমি মদিনা যাত্রা করছি। যে তার মাকে সন্তানহারা করতে চায়, সন্তানদের এতিম করতে চায় আর স্ত্রীকে বিধবা করতে চায় সে যেন এ উপত্যকার অপর প্রান্তে আমার মোকাবিলা করে। এভাবে বীরদর্পে তিনি হিজরত করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সব সময় ছায়ার মতো রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে অনুসরণ করেছেন। রাসুলের নিরাপত্তার জন্য সব সময় জীবন বাজি রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে প্রায় সব যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। ওহুদ যুদ্ধে চরম সংকটময় মুহূর্তে তিনি ছিলেন রাসুলের পাশে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতই গভীর ছিল যে, রাসুলের ইন্তেকালের সংবাদে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি ঘোষণা করেন, যে বলবে আল্লাহর রাসুল মারা গেছেন, আমি তার শিরশ্ছেদ করব। কুফর ও বাতিলের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। হজরত সায়াদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে খাত্তাবের পুত্র, সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শয়তান তোমাকে কোনো রাস্তায় চলতে দেখলে, অন্য পথে সে পালিয়ে যায়। (বুখারি, মুসলিম)
হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যখন অন্তিম শয়ানে, তিনি ইসলামী খেলাফতকে সংঘাতমুক্ত রাখতে খেলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করতে চাইলেন। তিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফ, উসমান, আলীসহ শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ইন্তেকালের আগের দিন হজরত সিদ্দিকে আকবর (রা.) সমবেত মুসলমানদের উদ্দেশে বলেন, আমি মানুষের মতামত গ্রহণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি কোনো নিকটাত্দীয়কে বেছে নিইনি। আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে আপনাদের খলিফা মনোনীত করেছি। আপনারা তাঁর আনুগত্য করুন, তাঁর কথা মান্য করুন। এভাবে ১৩ হিজরি ২২ জমাদিউস সানি, ১৩ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে হজরত ফারুকে আযম (রা.) খেলাফতের আসনে সমাসীন হন। তিনি সর্বপ্রথম আমিরুল মুমেনিন উপাধি লাভ করেন।
হজরত উমর (রা.) ছিলেন ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। হজরত উমর (রা.) বলতেন, পরামর্শ ছাড়া কোনো খেলাফত চলতে পারে না। 'মজলিসে খাস' ও 'মজলিসে আম' এ দুটি পরামর্শ সভা-ই ছিল হজরত উমর (রা.)-এর শাসনব্যবস্থার বুনিয়াদ। তাঁর শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন। হজরত উমর (রা.)-এর গণতান্ত্রিক শাসনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ জনগণ সরাসরি খলিফার যেকোনো কাজের সমালোচনা ও কৈফিয়ত তলব করতে পারত। হজরত উমর (রা.) প্রশাসনিক কাঠামোকে সুষ্ঠু, মজবুত ও কার্যকর করার জন্য পুরো আরব ও বিজিত অঞ্চলগুলোকে ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। তিনি বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের ভাতা নির্ধারণ করে দেন। তিনি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিকে সবল ও সংহত করার জন্য 'দিওয়ানুল খারাজ' নামে স্বতন্ত্র রাজস্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য 'দিওয়ানুল আহদাত' নামে পুলিশ বিভাগ এবং সুসংহত একটি সামরিক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। হজরত উমর (রা.)-এর সামরিক বাহিনী ৯টি ডিভিশনে বিন্যস্ত ছিল। তিনি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন কাজিউল কুজ্জাত। তাঁর শাসনামলে নারীরা পূর্ণ সম-অধিকার লাভ করেন। তাঁরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করতেন। তিনিই সর্বপ্রথম হিজরি সনের প্রবর্তন করেন। তিনি ছিলেন ভাষা ও শিক্ষার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। আরব জাতীয়তাবাদকে রক্ষার জন্য তিনি আরব উপদ্বীপকে শুধু মুসলমানদের জন্য আর শত্রুভাবাপন্ন ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আরবের বাইরে বসবাসের ফরমান জারি করেন। তিনি খাল খনন করে যোগাযোগ ও কৃষিব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।
জনসাধারণের অবস্থা চাক্ষুষ দেখার জন্য তিনি মদিনার গলিতে গলিতে রাতের আঁধারে ঘুরে বেড়াতেন এবং অসহায় মানুষের কাজ নিজ হাতে করে দিতেন। নবী পরিবার সম্মানিত ব্যক্তিদের এবং অসহায় মানুষের ভরণপোষণের ব্যবস্থা বাইতুল মাল থেকে করেন হজরত উমর (রা.)। হজরত উমর (রা.) ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজেতা। তবে রাজ্য জয় তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল না। ইসলাম ও মুসলিম খেলাফতের নিরাপত্তাই ছিল হজরত উমর (রা.)-এর যুদ্ধাভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেছেন, 'শূন্য হইতে আরম্ভ করিয়া আরবীয় মুসলিম খেলাফতও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হয়।' তাঁর আমলে পুরো বাইজান্টাইন্স, রোম, পারস্যসহ মোট ১০৩৬টি দেশ ও শহর বিজিত হয়। তাঁর সময়ে জিম্মি ও অমুসলিম নাগরিকরা পূর্ণ নাগরিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করেন।
হজরত উমর (রা.)-এর সমর্থনে পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে। শাইখুল ইসলাম জালালুদ্দীন আবদুর রহমান সুয়ুতি (রা.) 'তারিকুল খুলাফা' নামক গ্রন্থে ২০টি এমন ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যেখানে হজরত উমরের সমর্থনে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে। হজরত উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় সম্পদ তথা বাইতুল মাল সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। মজলিসে শূরা কর্তৃক নির্ধারিত ভাতাতেই তাঁর সংসার চলত। আল্লাহর রাসুলের প্রিয়তম সাথি, প্রতাপশালী খলিফা হজরত উমর (রা.)-কে একদিন ফজরের নামাজরত অবস্থায় 'আবু লুুলু ফিরোজ' নামক এক অগি্নপূজারি ছুরিকাঘাত করে। মারাত্দক আহত অবস্থায় তিন দিন যন্ত্রণাভোগের পর ২৩ হিজরি ২৭ জিলহজ বুধবার তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর খেলাফতকাল ছিল ১০ বছর ৬ মাস ৪ দিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল রাসুল (সা.)-এর আয়ুষ্কালের সমান ৬৩ বছর। হজরত সুুহাইব (রা.) তাঁর জানাজায় ইমামতি করেন। রওজায়ে নববির মধ্যে হজরত সিদ্দিকে আকবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। মহান আদর্শের ধারক, রাসুল (সা.)-এর জবানে জান্নাতি বলে ঘোষিত, হজরত উমর (রা.)-এর জীবনধারা, আমাদের জীবন ও সমাজের উন্নয়নে হতে পারে সার্থক নিদর্শন।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ, রাজশাহী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment