<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Oct 9, 2010

আসহাবে রাসুলের (সা:) এর জীবন বৈশিষ্ট্য

আসহাবে রাসুলের (সা:) এর জীবন বৈশিষ্ট্য

যারা ঈমানের সাথে হযরত রাসুলে করিম সাৎ এর  সাক্ষাৎও সহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন এবংঈমানের সাথে মৃত্যু বরন করেছেন তারাই সাহাবী ।আমাদের মত মানুষ হওয়া সথ্‌েতও রাসুরে করিম সাঃ এর সান্নিধ্য ও সাহচর্য সাহাবীদেরকে এক খাটি মানব সম্প্রদায়ে পরিনত করেছে । হাদিসে সাহাবায়ে কেরাম সাঃ এর অনেক গুন  বৈশিষ্ট বর্ণনা করা হয়েছে । আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাহাবায়ে কেরামের পরিচয় দিতে গিয়ে তাদের কতক গুনের কথা বলেছেন ।
১.    কাফিরদের  প্রতি কঠোর
২.    বেশী বেশী রুকু সেজদাকারী
৩.    নিজেদের মধ্য পরস্পরের প্রতি সহানুভুতিশীল ।
৪.    আল্‌লাহর সন’ষ্ট ওঅনুগ্রহ কামনাকারী ।
৫.    তাদের মুখমন্ডলে সিজদার চিহ্ন পরিস্ফুট।
৬.    পূর্ববতি আসমানি কিতাবের মধ্য রয়েছে।
৭.    সাহাবিরা কবিরা গুনাহ থেকে দুরে থাকে ।
৮.    যাবতীয় অশ্লীলতা ও নোংরামী খেকে বেচে  খাকে
৯.    কেরাগান্বিত হলে ক্ষমা করে ।
১০.    প্রতিপালকের আহ্বানে সারা প্রদান করে ।
১১.    নামাজ কায়েম করে ।
১২.    পরস্পর পরামর্শ করে ।
১৩.    অর্জিত অর্খ যথারীতি ব্যয় করে ।
১৪.    কারো অত্যাচারকে নিরবে মাথা পেতে নেয়  না।
১৫.    আল্লাহর আয়াত দ্বরা উপদেশ গ্রহন করে ।
১৬.    আল্লাহর পবিত্রতা ঘোসনা করে ।
১৭.    রাতের বিভিন্ন সময়ে শয্যা ত্যাগ করে ও আশা আকাঙখার মধ্য ডাকে ।
১৮.    আল্লাহর রহমত প্রথ্যশা কজরে ।
১৯.    পরকালের জবাবদিহিতার ভয় করে ।
২০.    তারা নিরহংকারী ।
সাহাবীরা ছিলেন পরোপকারী, জনসেবক ও দানশীলঃ ইসলামে পরোপকার জনসেবা ও দানশীলতার জন্য এমনভাবে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রানিত করে যে, মানুষের মনে কৃপনতা, সংকীর্ণতা,দারিদ্র্যভীতি ইত্যাকার শয়তানী প্ররোচনা ঢুকতেই পারে না। সাহাবীরা ছিল এক্ষেত্রে মূর্ত প্রতীক,যখন নাযিল হল-কে আছো যে আল্লাহকে উত্তম দান দেবেন। তখন আবু দারদাহ নামক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আল্লাহ তা’আলাও কি তার বান্দাদের কাছে দান চান? রাসূল (সাঃ) বললেন, হ্যাঁ। আবু দারদাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনার হাতটা এগিয়ে দেন এবং সাক্ষী হোন, আমি আমার মালিকানা ভুক্ত অমুক বাগানটা আল্লাহর পথে সাদাকা করে দিলাম, ঐ বাগানে আমার শরীক নেই। উল্লেখ্য যে ঐ বাগানে সাতশ ফলবান খেজুর গাছ ছিল। এরপর এই সাহাবী বাড়িতে গেলেন। তিনি নিজের সিদ্ধানে-র কথা স্ত্রীকে জানালেন স্ত্রী শোনা মাত্রই বাড়ি খালি করে দিতে লাগলেন এবং আনন্দের সাথে বললেন আপনি দারুন লাভজনক ব্যবসা করেছেন। যখন নাযিল হলো তোমরা যা ভালোবাস তা থেকে যতক্ষণ আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে ততক্ষণ পূণ্য লাভ করতে পারবে না। তখন আবু তালহা আল আনসারী (রাঃ) বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আমার ভূ-সম্পত্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় আমি ওটা আল্লাহর পথে সদকা করে দিচ্ছি। এর প্রতিদান আমি আল্লাহর কাছে কামনা করি। আপনি এটা যেভাবে ব্যয় করতে চান করুন। এরপর হযরত ওমর (রাঃ) তার খায়বরের জমি ওয়াকফ করেন। একবার খলিফা আবু বকর সিদ্দিকের (রাঃ) যুগে মদিনায় অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। সে সময় হযরত উসমান (রাঃ) গম তেল ও কিসমিস বোঝাই এক হাজার উটের এক বিরাট বানিজ্য বহরের পুরোটাই গরিব মুসলমানের জন্য সদকা করে দেন। সে সময় অন্য ব্যবসায়ীরা তাকে এই সামগ্রীর জন্য মুনাফা হিসেবে ক্রয় মূল্যের পাঁচ গুণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন’ তিনি ত‍াতে রাজি হননি।
হযরত আবু বকর (রাঃ) খলীফা হওয়া সত্ত্বেও তিনি মহল্লার সেই দরিদ্র মেয়েদের ছাগল দোহন করে দিতে গেলেন যাদের পিতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
হযরত উমার ইবনে খাত্তাব রাঃ বলেন আমি প্রতিদিন সকালে এক বৃদ্ধার বাড়িতে তার ঘরের কাজ করে দিতাম। প্রতিদিনের মত একদিন তার বাড়িতে উপস্তিত হলে বৃদ্ধা বললেন আজ কোন কাজ নেই। একজন সৎলোক তোমার আগেই কাজ গুলো শেষ করে গেছে। হযরত উমর (রাঃ) পরে জানতে পারলেন সেই সৎ লোকটি হযরত আবু বকর রাঃ । খলীফা হওয়া সত্ত্বেও এভাবে এক অনাথ বৃদ্ধার কাজ করে দিয়ে যেতেন।
রাসূল সাঃ তাবুক অভিযানের প্রস’তির ঘোষণা দিলেন। তখন সাহাবীরা ব্যাপকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আবু বকর রাঃ তার সকল অর্থ রাসুলের হাতে তুলে দিলেন। উমর রাঃ তার মোট অর্থের অর্ধেক নিয়ে হাজির হলেন। আর এযুদ্ধের এক তৃতীয়াংশ সৈন্যের যাবতীয় ব্যয়ভার উসমান নিজের কাধেতুলে নিলেন। তিনি সাড়ে নয়শ উট ও পঞ্চাশটি ঘোড়া সরবরাহ করেন।
নিজের চাইতে অন্যের প্রয়োজন কে অগ্রাধিকার দান করতেন।
ভন্ড নবী তুলাইহার বিরুদ্ধে হযরত খালিদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। তুমুল লড়াই চলছে। প্রতিটি সংঘর্ষে তুলাইহার সঙ্গীরা পরাজয় বরন করছে। একদিন তুলাইহা তার ঘনিষ্টজনদের কাছে জিজ্ঞেস করলো আমাদের এমন পরাজয় হচ্ছে কেন ? তারা বলল,
কারন আমাদের প্রত্যেকেই চায় তার সঙ্গীটি তার আগে মারা যাক। অন্য দিকে আমরা যাদের সাথে লড়ছি তাদের প্রত্যেকে চায় তাদের সঙ্গীর পূর্বে সে মৃত্যুবরণ করুক।
তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি পারস্যের সাথে মুসলমানদের তুমুল লড়াই হল।ইয়ারমুকের ময়দানে হারিস ইবনে হিসমে আয়্যাশ  ইবনে আবি রাবিআ ও ইকরামা  ইবনে ইবনে আবি জাহেলকে (রাঃ) ক্ষত বিক্ষত অবস’ায় দেখা গেল। পিপাশায় কাতর হযরত হারিস (রাঃ) পানি চাইলেন। যখন তাকে পানি দেয়া হল এবং তিনি পানি পান  করতে যাবেন  তখন ইকরামা (রাঃ) তার দিকে তাকালে হারিস বললেন ইকরামাকে দাও। পানির গ্লাসটি যখন ইকরামার কাছে নিয়ে যাওয়া হল তখন আয়্যাশ  (রাঃ) তার দিকে তাকালেন। তা দেখে ইকরামা বললেন আয়্যাশকে দাও। আয়্যাশের (রাঃ) এর কাছে পানির গ্লাসটি নিয়ে যাওয়া হলে দেখা গেল তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ  করেছেন। তার পর গ্লাসটি  হাতে নিয়ে তার অপর দুই সাথীর কাছে নিয়ে গিয়ে দেখা গেল তারাও  একই পথের পথিক হয়েছেন। সবাই চেয়েছেন নিজের জীবনের উপর অন্যের জীবনকে প্রাধান্য দিতে।
একদিন রাসুল (সঃ) এর একজন মেহমান আসলে তিনি বললেন যে আজ এই লোকটিকে মেহমান হিসেবে নিয়ে যাবে আল্লাহ তার প্রতি সদয় হবেন। আবু তালহা (রাঃ) তাকে সঙ্গে করে বাড়িতে আসলেন বাড়িতে সেদিন ছোট ছেলে মেয়েদের খাবার  ছাড়া অতিরিক্ত কোন খাবার ছিল না। তাই স্ত্রী উম্মু সুলাইমা ভুলিয়ে ভালিয়ে সন্তানদের ঘুম পাড়ালেন। তারপর যে সামান্য খঅবার ছিল তা মেহমানের  সামনে হাজির  করে নিজেরাও খেতে  বসলেন। মেহমান তা বুঝ না পেরে পেট ভরে আহার করলেন।
উম্মুল  মুমিনিন হযরত আয়েশা (রাঃ) একদিন রোজা আছেন। ইফতারের  জন্য ঘরেন কেবল এক টুকরা রুটি আছে। ইফতারের আগে এক দুস’ মহিলা এসে কিছু খাবার চায়। তিনি দাসীকে রুটির টুকরাটি তাকে দিতে বলেন। দাসী বলে, আপনি ইফতার  করবেন কি দিয়ে? তিনি  বললেন, রুটির  টুকরোটি তাকে দাও। ইফতাররে  কথা পরে চিন্তা  করা যাবে।

কাফরদের প্রতি অত্যন্ত কঠিনঃ
বদর যুদ্ধের দিন আবু উবাইদা (রাঃ) যুদ্ধের ময়দানে এমন বেপরোয়াভাবে কাফিরদের উপর আক্রমন করেন। মুশরিকরা তার আক্রমনে ভীত সন্ত্রস- হয়ে পড়ে অশ্বারোহী সৈনিকরা প্রাণের ভয়ে দিশেহারা হয়ে দিকবিদিক ছুটতে  থাকে। কিন’ শত্রু পক্ষের এক ব্যক্তি বার বার  ঘুর ফিরে তার সামনে এসে দাড়াতে লাগল। আর তিনিও তার সামনে থেকে সরে যেতে লাগলেন। অবশেষে সে শত্রু পক্ষ ও আবু উবাইদার মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়িয়ে গেল। যখন আবু উবাইদার ধৈর্য্যের বাধ যখন ভেঙ্গে গেল তিনি তার তরবারির এক আঘতে লোকটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। লোকটি মাটিতে গড়িয়ে পড়ল। আর লোকটি ছিল আবু উবাইদার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনুল জাররাহ।
ইবনে ইসহাক  বলেন, বদরের যুদ্ধে বন্দিদের রাসূল (সঃ) এর নিকট আনার পর তিনি তাদেরকে সাহাবীদের মধ্যে বন্টন করে দিয়ে তাদের সাথে উত্তম আচরন করতে নির্দেশ দিলেন। মুস’আব ইবনে উমায়ের রাঃ এর আপন ভাই আবু আযীয ইবনে উমায়র ইবন হিশাম যুদ্ধ বন্দিদের মধ্যে ছিল। আবু আযীয বললো ভাই মুসআব আমাকে তুমি নিয়ে যাও। মুস’আব তাকে আটককারী আনসারীকে বললেন, ওকে মুক্তি দেবেন না। ওর মা একজন ধনাঢ্য মহিলা এবং সম্ভবত ওর মুক্তির জন্য তিনি আপনাকে ভালো মুক্তিপণ প্রদান করবেন। ইবন হিসাম বর্ণনা করেন আবু আযীয মুশরিকদের নিশান বরদার ছিল। আন নাদার ইবন আল হারিছ নিহত হওয়ার পর সে এই দায়িত্ব গ্রহন করে। তার ভাই মুসয়াব (রাঃ) যখন তাকে গ্রেফতাররকারী আবু আল ইয়াসারকে এ কথা বলছিলেন তখন আবু আযীয তাকে বললো হে ভাই আমার জন্য এই কি তোমার সুপারিশ? মুসআব উত্তরে বলেন আমার গ্রেফতারকারী আবু ইয়াসার আমার ভাই , তুমি নও।
হযরত আবু সিদ্দিকের (রাঃ) সন-ানদের সকলে প্রথম ভাগে ইসলাম গ্রহন করলেও আবদুর রহমান (রাঃ) দীর্ঘদিন পর্যন- ইসলাম থেকে দূরে থাকেন। বদর যুদেধ মক্কার কুরাইশদের পক্ষে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। যুদেধর মাঝামাঝি পর্বে তিনি  একটু সামনে এগিয়ে এসে মুসলমানদের প্রতি চ্যালেঞ্জের সুরে বললেন- হাল মিন মুবরিযিন- আমার সাথে দ্বন্দ্বযুদেধর সাহস রাখে এমন কেউ কি আছে? তার এ চ্যালেঞ্জ শুনে পিতা আবু বকর (রাঃ) তিনি পুত্রের সাথে দ্বন্দ্ব যুদেধ অবতীর্ণ হওয়ার কথা ব্যক্ত করলেন কিন’ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) তাকে নিবৃত্ত করেন। আবদুর রহমান (রাঃ) উহুদ যুদেধও কুরাইশদের পক্ষে ছিলেন। পরবর্তীকালে একদিন আবদুর রহমান স্নৃতিচারন করতে গিয়ে বলেন উহুদ যুদ্ধে আমি আপনাকে সামনে পেয়ে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। জবাবে আবু বকর (রাঃ) বলেন আমি তোমাকে নাগালে পেলে ছেড়ে দিতাম না।
ইসলামও রাসূল (সাঃ) এর কট্টর দুশমন ছিলেন উতবা। তার পুত্র আবু হুজাইফা রাঃ সেই প্রথম পর্বে মুসলমান হন। বদর যুদ্ধে একপক্ষে তিনি এবং অন্য পক্ষে তার পিতা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। সেদিন আবু হুজাইফা রাঃ চেচিয়ে পিতা প্রতি পক্ষের দু’সাহসী বীর উতবাকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহবান জানান। তার এ আহবান শুনে তার সহোদর ভাই হিন্দ এক কবিতায় তাকে তিরস্কার ও নিন্দা করেন।
শেষ পর্যন- বদর যুদেধ উতবাসহ অধিকাংশ কুরাইশ নেতা মুসলিম বাহিনীর হাতে নিহত হয় এবং তাদের সকলের লাশ একটি কুপে নিক্ষেপ করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
 
সাহাবীরা ছিলেন সাম্য ও সমতার প্রতীক:
খলিফা হযরত উমর রাঃ মদীনার একটি গলি দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। সহসা একটা জীর্ণশীর্ন মেয়ে শিশুকে দেখলেন ওঠি-পড়ি করে ছুটে যাচ্ছে। তিনি সাথীদের জিজ্ঞেস করলেন মেয়েটার এমন দুরবস্থা কেন? তোমাদের কেউ কি একে চেন? হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর বললেন ওতো আমারই মেয়ে। হযরত উমর রাঃ বললেন তা ওর এমন করুন দশা কেন? আবদুল্লাহ বললেন আপনার কাছে যা কিছু আছে তা থেকে আমাদেরকে তো যথেষ্ট পরিমাণে দেন না। এ কারনেই মেয়েটার এমন দশা হয়েছে। উমর রাঃ বললেন আল্লাহর কসম আমার কাছে তোমাদের জন্য সাধারণ মুসলমানের সমপরিমাণ ভাতার চেয়ে বেশী কিছুই নেই। তাতে তোমাদের প্রয়োজন পূরন হোক বা না হোক। আমার ও তোমার মধ্যে আল্লাহর কিতাবই চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।
উহুদ যুদ্ধে হযরত হামযা (রাঃ) শহীদ হলেন। হযরত সাফিয়া (রাঃ) হযরত হামযা (রাঃ) এর বোন। ভাইয়ের দাফনের জন্য দুই খন্ড  কাপড় নিয়ে আসলেন। দেখলেন হামযার (রাঃ) লাশের পাশে আর একজন অনসারী ব্যাক্তির লাশ পড়ে আছে। ইসলাম সাফিয়ার মধ্যে যে মূল্যবোধ সৃষ্টি করেছিল তার কারনে তিনি এক খানা কাপড় তার দাফনের জন্য দানের সিদ্ধান- নিলেন। কিন’ কোন কাপড়খানা দিবেন?

সাদাসিদে নিরহংকারী মানুষ
হযরত সাঈদ ইবনে আমির আল জুমাহী (রাঃ) তখন হিমসের ওয়ালী । খলিফা হযরত উমর(রাঃ) তাকে মদিনায় ডেকে পাঠালেন। তিনি মদিসায় খলিফার দরবারে উপসি’ত হলেন। হাতে তার একটি লাঠি এবং খাওয়ার জন্য একটি মাত্র পেয়ালা। খলিফা জিজ্ঞাসা করলেন তোমার সাজ-সরঞ্জাম এতটুকুই। তিনি জবাবে বললেন এর চেয়ে বেশি জিনিসের প্রয়োজন কি জন্যে। পিয়ালায় খাই এবং লাঠিতে সাজ-সরঞ্জাম ঝুলিয়ে রাখি।
খলিফা হযরত উমর (রাঃ) সাঈদ ইবনে আমিরকে (রাঃ) হিসামের ওয়ালী তাকে ভাতাও নির্ধারিত করে দিতে চাইলেন। সাঈদ বিনীত ভাবে আরজ করলেন আমিরুল মুমিনিন আমি ভাতা দিয়ে কি করবো। বায়তুল মাল থেকে যে ভাতা আমি পাই তাইতো আমার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যায়। সাঈদ(রাঃ) হিমসে চলে গেলেন । কিছুদিন পরের কথা আমীরুল মুমিনীনউমারের(রাঃ) কয়েকজন বিশ্বস- লোক হিমস থেকে মদিনায় আসলেন তিনি তাদেরকে বললেন তোমরা তোমাদের গরীব মিসকীনদের একটি তালিকা আমাকে দাও। আমি তাদেরকে কিছু সাহায্য করবো। তারা একটা তালিকা প্রস’ত করে উমরের হাতে দিল। সেই তালিকায় সাঈদ ইবনে আমিরের নামটিও ছিল। খলিফা জিজ্ঞেস করলেন এ সাঈদ ইবনে আমির কে? তারা বললেন আমাদের আমীর। তিনি জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের আমীরও কি এত গরিব । তারা বললেন হ্যাঁ। আল্লাহর কসম একাধারে কয়েকদিন পর্যন- তার বাড়িতে উনুনে হাড়ি চড়ে না।
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন হযরত ফারুকে আজমে(রাঃ) যখন আমীরুল মুমিনীন ছিলেন তখন দেখেছি তার জামার উপর তিনটি তালি ছিল। হযরত উমর (রাঃ) যখন সিরিয়ায় গেলেন তখন তার জামার নিচের দিকটা ছেড়া ছিল। জামাটি ছিল লম্বা ও মোটা। তিনি জামাটি খুলে ধোয়ার ও তালি লাগানোর জন্য দিলেন। সাথে সাথে তার জন্য আরেকটি নতুন মসৃন জামা তৈরী করে আনা হলো। তিনি তা নেড়েচেড়ে দেখে ছুড়ে ফেললেন এবং বললেন আমার পুরনো জামাটি আমাকে দাও। কারণ সেটা আমার ঘাম শুষে নেয়।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) তখন মদিনার ওয়ালী। নিজ পরিবারের জন্য সংগৃহিত কাঠের বোঝা পিঠে চাপিয়ে একদিন মদিনার একটি পথ দিয়ে তিনি চলছেন। পথে ছালাবা ইবনে মালিকের পাশ দিয়ে যাবার সময় বললেন ছালাবা আমীরের জন্য পথটা একটু ছেড়ে দাও। ছালাবা বললেন আল্লাহ আপনার ওপর রহমত করুন এত প্রশস- পথ দিয়েও যেতে পারছেন না। আবু হুরায়রা(রাঃ) বললেন তোমাদের আমীর ও তার পিঠের বোঝাটির জন্য পথটা একটু প্রশস- করে দাও।

প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গিকার পালনে
বিজয়ী মুসলিম বাহিনী দিমাশক হিমস ও সিরিয়ার অন্য শহর গুলোকে একে একেজয় করে। তার পর সন্ধির শত অনুসারে সেখানকার অধিবাসীদের জান ও মালের হিফাজত ও দেশের প্রতিরক্ষার জন্য কিছু কর আদায় করে। কিন’ পরবর্তীতে রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস মুসলিম বাহীনিকে পরাজিত করার জন্য অগ্রসর হতে থাকেন । এ সিদ্ধানে-র কারণে হযরত খালিদ(রাঃ) হিমসবাসীকে আবু উবাইদা(রাঃ) ছিমাশক বাসীকে এবং অন্যান্য সেনাপতিগণ অন্যান্য শহর বাসীকে একত্র করে বললেন আমরা আপনাদের কাছ থেকে আপনাদের জান ও মালের হিফাজত করার জন্য এবং বহিরাগত হানাদার আক্রমন থেকে আপনার রক্ষার জন্য যে কর আদায় করেছি। কিন’ দু:খের বিষয় এখন আমরা আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পালন করতে পারছিনা। সুতরাং আপনাদের নিকট থেকে গৃহিত টাকা পয়সা আমরা ফেরত দিচ্ছি। এই নিন আপনাদের সেই সব টাকা পয়সা।
কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময় হযরত সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস(রাঃ) এর নিকট মদ পানের অভিযোগে হযরত আবু মিনহাজকে (রাঃ) গ্রেফতার করে আনা হয়। তিনি তাকে বন্দি করে রাখার নির্দেশ দেন। লড়াই তুমুল আকার ধারণ করে, বন্দি অবস’ায় তিনি সেনাপতি সাদের(রাঃ) স্ত্রীকে বললেন আপনি আমার বেড়ী খুলে দেন। আমি আপনার সাথে অঙ্গীকার করছি আল্লাহ আমাকে নিরাপদে রাখলে আমি অবশ্যই ফিরে আসবো এবং নিজ হাতে পায়ে বেড়ী পরবো। আর যদি যদ্ধেআমি মারা যাই আপনারা আমার থেকে নিষকৃতি পাবেন। হযরত সাদের স্ত্রী তাকে ছেড়ে দিলে তিনি এক লাফে সাদের (রাঃ) বালকা নামক ঘোড়ায় আরোহণ করে তীর ধনূক নিয়ে যদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে শত্রুরা পরাজিত হলে আবু মিনহাজ (রাঃ) অঙ্গিকার মত ফিরে এসে নিজ হাতে বেড়ী পরলেন। অত:পর হয়রত সাদ (রাঃ) তার স্ত্রী এর নিকট হতে ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি আবু মিনহাজ কে মুক্তি দেন।

যুদ্ধ ও শান্তি সর্বদাই তারা ছিলেন মানবতাবাদী
আবু হুজানা (রাঃ) যখন শত্রু সেনাদের কাতারের পর কাতার খন্ড খন্ড করে সামনে এগুতে থাকেন তখন হামজার (রাঃ) কলজে চিবানো হিন্দা তার সামনে পড়ে যায়। হিন্দা যুদ্ধে শরীক ছিল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে তার আবেগ ছিল বিষাক্ত, তাই তাকে হত্যা করা কোন দোষের ছিল না।আবু হুজানার ও তার মাথা তাক করে তরবারী উচু করেছিলেন। কিন’ তৎক্ষণাত তিনি তরবারী দিয়ে কোন নারীর প্রাণ সংরক্ষন করা সমীচিন নয়।

জীব জন্ন্তুর প্রতি সদয়
হযরত আবু দারদা (রাঃ) মৃত্যুর সময় নিজের উটকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন হে উট কিয়ামতের  দিন আল্লাহর সামনে আমার সাথে ঝগড়া করিসনে। কেননা আমি কখনো তোর ক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝা তোর পিঠে চাপাইনি। হযরত আদী ইবন হাতিম (রাঃ) পিপড়াদের খাওয়ার জন্য রুটি টুকরো টুকরো করে দিতেন এবং বলতেন এরা আমাদের পতিবেশী। কাজেই আমাদের কাছে তাদের অনেক অধিকার পাওয়া রয়েছে।
একবার হযরত উমর (রাঃ) দেখলেন, এক ব্যক্তি ছাগলের পা ধরে মাটির ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে জবাই করার জন্য তিনি তাকে বললেন তোমার ওপর আক্ষেপ। ওকে মৃত্যর দিকে ভালোভাবে নাও।
তথ্য সূত্রঃ-
১.    আসহাবে রাসুলের জীবন কথা
২.    মানবতার বন্ধু মোহাম্মদ (সঃ)
৩.    সীরাতে ইবনে হিশাম
৪.    রাসুলের যগে মদীনার রুপ ও বৈশিষ্ট্য
আসহাবে রাসুলের জীবন কথা
-মু. মিজানুর রহমান আশিক

আবু মুসা আশয়ারী (রাঃ): তার জীবন ছিল রাসুলুল্লাহর জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি সর্বদা চেষ্টা করেতেন রাসুলুল্লাহর (সঃ) কথা, কাজ, চলন ইত্যাদি হুবহু অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন।  রাত দিনের প্রতিটি মূহুর্ত কুরআন তেলাওয়াত ও কুরআন শিক্ষা দানের মাধ্যমে ব্যয় করতেন । ইয়ামানের ওয়ালী থাকা কালে একবার মুয়াজ রাঃ জিজ্ঞাস করেন আপ িন কিভাবে কুরআন তেলাওয়াত করেন ? বললেন রাত দিনে যখনই সময় পাই একটু করে পড়ে নেই। রাসূল সাঃ বলতেন আবু মুসা দাউদ আঃ এর লাহানের কিছু অংশ লাভ করেছে [ দেখুন আসহাবে রাসূল ২য় খন্ড]

হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ): হযরত আম্মার ও সুমাইয়া একই সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত আম্মার সুমাইয়্যার সন-ান যিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ। মুশরিকরা আম্মারের (রাঃ) উপর অত্যন্ত কঠোর নির্যাতন করতেন। একদিন মুশরিকরা আম্মারকে আগুনের অঙ্গারের উপর শুইয়ে দিয়েছে। এমন সময় রাসূল (সঃ) সেখানে উপসি’ত হয়ে আম্মারের মাথায় পবিত্র হাতটি রেখে বললেন হে আগুন ইব্রাহিমের মতো তুই আম্মারের জন্য ঠান্ডা হয়ে যা। একদিন মুশরিকরা তাকে দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবিয়ে রাখে যে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। এ অবস’ায় শত্রুরা তার মুখ তেকে তাদের ইচ্ছেমতো স্বীকৃতি আদায় করে নেয়। এরপর কাঁদতে কাঁদতে রসূল(সঃ) এর নিকট হাজির হয়ে বললেন, আজ আপনার শানে কিছু খারাপ ও তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে কিছু ভাল না বলা পর্যন্ত আমি মুক্তি পায় নি। রাসূল(সঃ) বললেন তোমার অন্তর কি বলছে? তিনি বললেন আমার অন্তর ঈমানে পরিপূর্ণ। এমতাবস্থথায় রাসূল(সঃ) নিম্মোক্ত আয়াতটি তিলাওয়াত করেন “যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর কুফরী করে তবে যাদেরকে বাধ্য করা হয় এবং তাদের অন-র ঈমানের ওপর দৃঢ় তাদের কোন দোষ নেই । (আন নাহল-১৪ )
ইয়ামামার যুদ্ধে আম্মারের দেহ থেকে একটি কান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে একজনতো তাকে কান কাটা বলে গালি দিয়েই বসেন।জবাবে তিনি বলেন আফসুস তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয় ও উত্তম কানটিকে গালি দিলে যে কানটি আল্লাহর পথে কাটা গিয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ): ওমরের পুত্র হযরত ওমরের (নবুয়তের ষষ্ঠ বছরে) ইসলাম গ্রহন করার সময় তার বয়স ছিল ৫ বছর। বদর যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল তের বছর জিহাদে যোগদানের জন্য আবেদন জানালেন জিহাদের বয়স না হওয়ার কারণে রাসূল (সঃ) তার আবেদন প্রত্যাখান করেন। ওহুদের যুদ্ধেও তিনি ব্যর্থ হলেন। এরপর হিজরির পঞ্চম সনে খন্দকের যুদ্ধে তিনি জিহাদে গমনের অনমতি লাভ করলেন। তিনি কুরআনের সুরা গুলোর উপর গবেষনা করে জীবনের বড় একটা অংশ ব্যয় করেন । কেবল সূরা বাকারার উপর গবেষনা করে ১৪ বছর ব্যয় করেন। একরাতে সম্পূর্ন কুরআন খতম করতেন। প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন  সূরা তৈরি করে নিতেন ।তিনি খুবই দানশীল ছিলেন । সব সময় প্রিয় জিনিসটিকে আল্লার পথেব্যয় করতেন । তিনি এত বেশি দাস দাসী আযাদ করতেন যে তার আযাদকৃত দাস দাসীর সংখ্যা ১৫ হাজারের ও বেশি । নিজের প্রশংসা শুনতে খুবই অপছন্দ করতেন । এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করলে তিনি তার মুখে মাটি ছুরে মারলেন ।পথ চলতে কোন ব্যক্তিকে সালাম দিতে ভুলে গেলে ফিরে এসে সালাম দিয়ে যেতেন ।[আসহাবে রাসূল ২য় খন্ড]

আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রাঃ): হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ ছিলেন রাসূল (সঃ) এর ফুফাতো ভাই ও শ্যালক। তিনি ছিলেন সাবেকীন ইলাল ইসলাম বা প্রথম ভাগে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। হিজরীর দ্বিতীয় সনের রজব মাসে রাসূল(সঃ) আটজন সাহাবীর একটি দলকে নির্বাচন করে আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশকে দলের আমীর নিযুক্ত করেন। এভাবে তিনি মুমিনদের একটি দলের প্রথম আমীর হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। রাসূল সাঃ তাকে যাত্রাপথ নির্দেশ করে তাকে একটি চিঠি দিয়ে বললেন দুই দিনের আগে এই টিঠিটা খুলবে না ।দুদিন পথ চলার পর চিঠিটা খুলবে এবং চিঠির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে। হযরত আব্দুল্লাহ তার সাথীদের নিয়ে মদিনা থেকে রওনা হয়ে গেলেন এবং দুদিন পর চিঠিটা খুলে পড়লেন । চিঠিতে নির্দেশ ছিল মক্কা ও তায়েফের মাঝ খানে নাখলঅ নামক স’ানে পৌছে কুরাইশদের গতিবিধি  ও অন্যান্য অবস্থা অবগত হবে । তিনি অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে এ দায়িত্ব মেনে নিলেন । সঙ্গীদের কে সম্বোধন করে তিনি বললেন  বন্দুগন আমি রাসূলুল্লার এ দায়িত্ব সম্পাদন করে ছাড়ব । তোমাদের মধ্যে যে শাহাদাতের অভিলাসী  সে আমার সাথে যেতে পারে এবং যে তা পছন্দ করো না সে ফিরে যেতে পার । আমি কাউকে বাধ্য করব না । এ ভাষন শুনে সবাই তার সাথে যেতে সম্মত হলো না । নাখলা পৌছতে তারা কুরাইশদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে লাগলেন । একদিন কুরাইশদের একটি  বানিজ্য কাফেলা কাফেলা এই পথ ধরে যাচ্ছিল  । কাফিলাটি আক্রমন করা না করা বিষয় নিয়ে  আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ তার সঙ্গীদের সাথে আলোচনা করেন । সেই দিন ছিল হারাম মাসের সর্বশেষ দিন ।প্রাচীনকাল থেকে  আরবরা এ  মাসগুলিতে যুদ্ধ , বিগ্রহ ও খুন খারাবি   নিসিদ্ধ  বলে মনে করতো । তারা ভেবে দেখলেন , একদিকে আজ কাফেলাটি আক্রমন করলে হারাম মাসে আক্রমন করা হবে ।অন্যদিকে আজ আক্রমন না  করে আগামী কাল করলে কাফেলাটি মক্কার হারামে পৌছে যাবে । মক্কার হারাম সকলের জন্য নিরাপদ স্থান ।সেখানে তাদের আক্রমন করা হলে হারাম মাসে আক্রমন করা হবে । পরামর্শের পর তারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করলো আক্রমন করার ।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাঃ): খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাঃ) ইসলাম গ্রহন করেন মক্কা বিজয়ের অল্প কিছুদিন পূর্বে। রাসূল (সাঃ) তাকে সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারী উপাদিতে ভূষিত করেছেন । ইসলাম গ্রহনের পর সর্বপ্রথম তিনি মুতার অভিযানে অংশগ্রহন করেন।খালিদ (রাঃ) প্রায় ১২৫টি যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। যেখানে গেছেন সেখানেই বিজয়ী হয়ে ফিরেফেন। তার উপর রাসূল (সাঃ) এর এতখানি আস্থা ছিল যে তার হাতে পতাকা এলে তিনি নিশ্চন্ত হয়ে যেতেন ।হযরত খালিদ এর জীবনের সবচেয়ে উজ্জল ও গৌরবময় অধ্যায় ‘জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ’- আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ । জীবনের বেশির ভাগ সময় তার রনক্ষেত্রে কেটেছে।

খাব্বাব  ইবনুল আরাত (রাঃ): খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) হলেন বিশ্বের ষষ্ট মুসলসান তাই তাকে ‘সাদেকুল ইসলাম’ বলা হয়। তিনি ছিলেন আনমারের দাস। এবং মক্কা থেকে তরবারী নির্মানের কলা কৌশল নিয়ে একটি দোকান দিয়ে তাতে কাজ করতেন। খাব্বাব ইসলাম গ্রহনের পর আর গোপন রাখতে পারলেন্‌না ।অল্প সময়ের মধ্যে তার এ খবর তার মনিব উম্নু আনসারের নিকট পৌছে গেলে । তোমার সম্পর্কে আমরা একটি কথা শুনেছি, আমরা তা বিশ্বাস করিনি। তিনি বল্‌েন কি কথা?  শুনেছি তুমি নাকি ধর্ম ত্যাগ করে বনী হাশিমের এক যুবকের অনুসারী হয়েছো? তিনি বললেন আমি ধর্ম ত্যাগী হইনি ,  তবে লা শারিক এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি । তোমাদের মূর্তিপূজা ছেড়ে দিয়েছি, মুহাম্নদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল (সাঃ) । কথা গুলি শুনামাত্র তারা তার উপর ঝাপিয়ে পরলো এবং দোকানের হাতুড়ি,লোহার পাত ও টুকরা তার উপর ছুড়ে মা লো এতে তিনি সংঞ্জা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলো ,দেহ তার রক্তে রন্‌িজত হয়ে গেলো । আগুন জালিয়ে পাথর গরম করলো এবং সেই পাথরের ওপর তাকে শুইয়ে দিয়ে একজন তার বুকের উপর পা দিয়ে ঠেসে ধরেন।  এভাবে তিনি শুয়ে থাকতেন আর তাঁর দু’ কাধের চর্বি  গলে বেয়ে পড়তো। এতে তার পিঠের মাংস উঠে যেত।

হযরত আস’য়াদ ইতনে যুরারা (রাঃ): আস’য়াদ ও জাকওয়ানই প্রথম দুই ব্যাক্তি যারা সর্বপ্রথম মদীনায় ইসলামের তাবলীগের কাজ শুরু করেন। তার ঈমানী জযবা ছিল অতি তীব্র। তিনি মদীনায় জামায়াতে নামাযের ব্যবস্থা করেন এবং চল্লিশজন মুসল্লী নিয়ে সর্বপ্রথম জুমআর নামায আদায় শুরু করেন।

আসহাবে রাসূলের ঈমানি দৃঢ়তাঃ
ইয়াসির( রাঃ) ও সুমাইয়া (রাঃ) ইসলামের দাওয়াত পেয়ে ইসলাম গ্রহন করেন।আবু জাহল ও তার সঙ্গীরা ঈমান গ্রহন করার কারনে তাদেরকে দিনের বেলায় লোহার পোষাক পরিয়ে রোধে দাড় করিয়ে রাখে এবং বেদম পিটুনি দেয়। আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে যায় তাদের শরীর এবং  এক পর্যায়ে ইয়াসির শাহাদাত বরন করেন  এবং আবু জাহল সুমাইয়া রা কে ইসলাম ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। তিনি তার কথায় কান না দেয়ার কারনে আবু জাহল তার হাতের বল্লমটি ছুরে মারে তার লজ্জাস্থানে ।এর পরেও তিনি আকড়ে  ধরেন ঈমানের ঐশ্বর্য।এরপর সুমাইয়া বিনতে খবরাত (রা )শহীদ হন ,আল্লার  সন্তোষ অর্জন করে পৌছে যান জান্নাতের ঠিকানায়।

লুবাইনার (রা) ঈমানী দৃঢ়তাঃ
লুবাইনা রা ছিলেন  উমার ইবনে খাত্তাবের  (রা) দাসী । তিনি গোপনে ইসলাম গ্রহন করেন। উমার রা তখনও ইসলাম গ্রহন করেননি এবং লুবাইনা রা কে ইসলাম ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এবং চাবুক দিয়ে লুবাইনাকে পিটাতে পিটাতে ক্লান- হয়ে যান এবং ঘোষনা করেন তোমাকে পিটানোর মত শক্তি আমার গায়ে নেই। ক্ষত বিক্ষত দেহ নিয়ে ঈমানের বলে বলিয়ান লুবাইনা ঘোষনা করেন আপনি যদি ইসলাম গ্রহন না করেন আল্লাহ আপনার কাছ থেকে এর প্রতিশোধ নেবেন। নিদারুন যন্ত্রনা ভোগ করা সত্বেও তিনি ইসলাম ত্যাগ করেননি।

উম্মু শুরাইকের(রা)  ঈমানী দৃঢ়তা:
মক্কা নগরিতে ইসলামের বানী প্রচার হওয়ার সাথে সাথে উম্মু শুরাইকা রা ইসলাম গ্রহন করেন এবং দাওয়াতি কাজের জন্য বিভিন্ন গোত্রে গোত্রে যেতেন। একদিন মুশরিক নেতারা তাকে গ্রেফতার করে শুকনো রূটি এবং মধু খেতে বাধ্য করে।অতপর তাকে প্রচন্ড রোধে আর গরম রোধের উপর শুইয়ে দেয়। প্রচন্ড রোধে আর গরম বালুর  উত্তাপে তিনি ছটপট করতে থাকেন। এক পর্যায়ে এসে তিনি বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলেন । আল্লার প্রতি তার নিখাত ঈমান দেখে তার গো ত্েরর লোকেরা খুবই প্রভাবিত হয়। এক সময় তার গোত্রের লোকেরা তার পদাংক অনুসরন করে ইসলাম গ্রহন করে।

আসহাবে রাসূলের আল কুরআন চর্চাঃ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) কুরআন চর্চা-আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা নবীসাঃ এর নিকট থেকে কুরআন শেখেন। তিনি সুমধুর কন্ঠে আ ল কুরআন অধ্যয়ন করেন। এক দিন আবু  বকর আছ সিদ্দিক রা এবং উমার ইবনুল খাত্তাব রাসূল সাঃ এর সাথে গুরূত্বপূর্ন আলাপ সেরে বেরিয়ে আসেন। এক ব্যক্তি মসজিদে দাড়িয়ে সালাতরত অবস’ায় আল কুরআন তেলাওয়াত করছেন। অতপর িিতনি বললেন আল কুরআন যেমন অবতীর্ন  হয়েছে তেমন বিশুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করে কেউ যদি আনন্দিত হতে চায় সে যেন ইবনু উম্মুআবদের মত তেলাওয়াত করে।

হারিস ও ইকরিমা রা এর আত্ন-ত্যাগঃ
রোমানরা বিশাল সেনাবাহিনী সংগঠিত করে সিরিয়ার অন-র্গত ইয়ারমুক  উপতক্যায় মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়। এই যুদ্ধে এক লাখ বিশ হাজার রোমান সৈন্যের সাথে যুদ্ধ করে ২৬ হাজার মুসলিম সৈন্য । যুদ্ধে আহত অবস্থায় পরে ছিল ৩ মুসলিম বীর  হরিস ইবনু হিশাম , ইকরিমা ইবনে আলী জাহাল  এবং আইয়াশ ইবনে আবী বারীয়া (রা:)  । পানি পানি বলে চিৎকার করছিলেন হারিস ইবনু হিশাম (রা) ।একজন মুসলিম সৈন্য এক পেয়ালা পানি  নিয়ে ছুটে আসেন তার কাছে । তিনি পানি পান করতে যাবেন, এমন সময়  দেখেন ইকরিমা রা তাকিয়ে আছেন পেয়ালার দিকে, হারিস ইবনু হিশাম (রা:) পেয়ারা ধারী সৈনিককে বলেন আগে ইকরিমা কে পানি পান করাও, তিনি তার কাছে গেলেন, ইকরিমা পানি পান করতে যাবেন এমন সময় দেখতে পান আইয়াশ ইবনু আবী রাবীয়া (রাঃ) তাকিয়ে আছেন পেয়ালার দিকে, ইকরিমা রাঃ বললেন আগে আইয়াশকে পানি পান করাও  পেয়ালা হাতে সৈনিক আইয়াশ (রাঃ) কাছে পৌছার আগেই তিনি শাহাদাত বরন করেন, সৈনিকটি পানির পেয়ালা হাতে ইকরিমা রা এর কাছে, দেখেন ইকরিমা রাঃ শাহাদাত বরন করেছেন, এবার সৈনিকটি পানির পেয়ালা হাতে ছুটে আসেন হারিস ইবনু হিশামের রাঃ কাছে। দেখেন তিনিও আর বেচে নেই। ইনি-কালের পূর্বে প্রচন্ড পিপাষায় ছটপট করা কালেও অপর ভাইয়ের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া চাট্টিখানি কথা নয় ।

আছহাবে রাসূলের অল্পেতুষ্টি:
উমার ইবনুল খাত্তাবের (রাঃ)  অল্পে তুষ্টিঃ -আবু বকর (রাঃ) ইনে-কালের পর তিনি হন আল মদিনা রাষ্টের রাষ্ট্র প্রধান। রাষ্টের কাজে যখন ব্যবসাতে যথেষ্ট সময় দেয়া সম্ভব হচ্ছিল ন্‌া তখন আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) মাজলিসে শুরার সদস্য দেরকে নিয়ে তাকে বায়তুল মাল থেকে ভাতা গ্রহন করতে অনুরোধ করেন । তিনি বার্ষিক আটশত দিরহাম নিতে সম্মত হন। হিজরী ১৫ সনে বায়তুল মাল বেশ সমৃদ্ধি লাভ করে , তখন সকলের ভাতা বাড়ানো হয়। এই সময় তার ভাতার পরিমান নির্ধারিত হয় পাচ হাজার দিরহাম । এটাও বড়ো কোন অঙ্ক ছিল না।

আলী ইবনু আবী (রাঃ) তালিবের অল্পে তুষ্টি:
রাসূল (সাঃ) এর কন্যার সাথে আলী (রাঃ) এর বিবাহ হলে তাকে পৃথক ঘর নিতে হয়। টুকটাক কাজ করে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চালাতে থাকেন, তার স্ত্রী নিজ হাতে যাতায় গম পিষতেন, গমের রূটি বানাতেন ও সেকতেন, কুয়া থেকে নিজ হাতে পানি ওঠাতেন। তাদের কোন দাসদাসী ছিল না। উমার ইবনুল খাত্তাবের সময়ে তার জন্য পাচ হাজার দিরহাম নির্ধারিত হয়। আমিনুল মুমিনুল নির্ধারিত  হওয়ার পরও তার জীবন ধারন একই রকম ছিল।

মুসআব ইবনু উমাইরের (রাঃ) বীরত্বঃ
হিজরী তৃতীয় সনে মাক্কার মুশরিকদের বাহিনী আল মদিনা আক্রমন করতে এগিয়ে আসে। তাদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার, উহুদ প্রান-রে সাতশ মুজাহিদ নিয়ে তাদের মোকাবেলা করা। এই সময়ে মুসলিম বাহিনীর পতাকা হিল মুস আব ইবনু উমাইরের হাতে। এক অশ্বানেরাহি শত্রূ সেনা এগিয়ে এসে তার ডান হাতে আঘাত হানে। হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর বাম হাতে আঘাত আনলে বাম হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর দুই বাহু দিয়ে পতাকা আকড়ে ধরে থেকে মুস আব (রাঃ) উচ্চারন করেন -ওয়া মা মুহাম্মদদুন ইল্লা রাসূল ক্‌াদ  খালাত মিন কাবলিহির রসূল। এরপর তার শরীরে তীর নিক্ষেপ করে তার শরীরে। পতাকাসহ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। শাহাদাত লাভ করেন তিনি।

৫.    রাসূলের যুগের মদীনার সমাজ

সাহাবীদের বিপ্লবী জীবন
## অভাব-অনটনের মাধ্যমে জীবন যাপন করাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত সাহাবী হযরত সায়ীদ বিন আমের আল জুমাহী (রা:) :-
১ম ঘটনা: হযরত উমর (রা:) এর খেলাফত কালে তিনি (উমর) হযরত যয়ীদ  বিন আমের আল জুমাহী (রা:) কে হিমসের গভর্নর করে পাঠালেন। কিছুদিন পর হিমসের একটি প্রতিনিধি দল ওমর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করে অভাবী লোকদের একটি তালিকা দিলেন। সেই তালিকায় সায়ীদ বিন আমের নাম দেখে ওমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ
“কে এই সায়ীদ বিন আমের?
উত্তরে তারা বললেন ঃ
“তিনি আমাদের গভর্নর।”
একথা শুনে হযরত ওমর (রাঃ) আশ্চার্যান্বিত হলেন এবং আবার প্রশ্ন করলেনঃ
“আমাদের গভর্নর কি অভাবী?”
তারা বললেনঃ “নিশ্চয়ই। আল্লাহর শপথ! আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের গভর্নরের পরিবারে দীর্ঘ সময় এমনও অতিবাহিত হয় যখন তাদের রান্না করার কিছুই থাকেনা এবং চুলায় আগুন জ্বলে না।”
এ কথা শুনে ওমর (রাঃ) এর চোখের পানিতে দাঁড়ি মোবারক ভিজে গেল।
তিনি সায়ীদের জন্য এক হাজার স্বর্ণমাদ্রার একটি থলি পাঠালে, সায়ীদ তা গরীবদের মাঝে বিতরন করে দিলেন।
দ্বিতীয় ঘটনাঃ কিছুদিন পর হিমসের সার্বক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য হযরত ওমর (রাঃ) হিমসে গেলেন। সেখানকার জনগণ ওমর (রাঃ) এর নিকট ৪টি অভিযোগ দিলেন সায়ীদ (রাঃ) এর ব্যাপারে।
১ম অভিযোগঃ“সায়ীদ (রাঃ) প্রত্যেহ অফিসে বিলম্বে আসে।”
এ অভিযোগের উত্তর সায়ীদ (রাঃ) এর কাছে ওমর (রাঃ) জানতে চাইলে তিনি বলেনঃ
“আমার বিলম্বে অফিসে আসার কারন হলো- আমার ঘরে কোন চাকরাণী নেই। তাই আমাকে রুটি তৈরী করে, গোসল সেরে অফিসে আসতে সামান্য দেরি হয়।”
দ্বিতীয় অভিযোগঃ “রাতের বেলা কোন প্রয়োজনে গভর্নরকে ডাকলেন তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দেন না,।”
এ অভিযোগের জবাবে সায়ীদ (রাঃ) বললেনঃ “আমি দিনকে রাষ্ট্রীয় কার্য ও জনসাধারণের খেদমতের জন্য এবং রাতকে ইবাদাতের জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়েছি। তাই রাত্রি বেলা কেউ আসলে তাদের ডাকে সাড়া দিতে পারি না বলে আমি দুঃখিত।
তৃতীয় অভিযোগঃ “সায়ীদ (রাঃ) মাসে এক দিন তার কার্যালয়ে অনুপসি’ত থাকেন।”
হযরত সায়ীদ (রা:) এই অভিযোগের জবাবে বললেন: “আমীরূল মুমেনীন আমার কোন কাজের লোক না থাকায় মাসে একবার আমাকে বাজার করতে হয়। এছাড়া পড়নের এই পোশাক ছাড়া আমার আর কোন পোশাক নেই, যা ঐদিনই বাজার শেষে পরিস্কার করতে হয়। কাপড় শুকাতে দেরি হওয়ার ফলে আর অফিসে আসার সুযোগ থাকে না।”
চতুর্থ অভিযোগ: “মাঝে মাঝে সায়ীদ বেহুশ ও অজ্ঞান হয়ে যান। ফলে তার পাশের লোকদের চিনতে পারেন না।”
এর উত্তরে তিনি বলেন: মুশরিক থাকা অবস’ায় মক্কার জনসমুদ্রের মাঝে হযরত খুবাইব (রা:) কে মক্কায় কাফিররা টুকরো টুকরো করছিল এবং বলছিল- হে খুবাইব তুমি কি রাজী আছ ? তোমাকে ছেড়ে মুহাম্মদ (সা:) কে হত্যা করি। তার সেই শাহাদাতের নির্মম দৃশ্য মনে পড়লে আমি বেহুশ হয়ে যাই। আর কাউকে চিনতে পারি না।
শাহাদাতের ঘটনা: মক্কার কাফিররা হযরত খুবাইব ইবনে আদী (রা:) কে বললেন ইসলাম ত্যাগ না করলে তোমাকে নি:শেষ করে দেওয়া হবে। এরপর শুরু হলো অত্যাচার ও নির্যাতন। কাফিররা বলল- তোমাকে ছেরে দিয়ে আমরা মুহাম্মদ (সা:) কে হত্যা করি।
খুবাইব (রা:) বললেন- আমার পরিবার পরিজন নিরাপদে থাকবে, আর মুহাম্মদ (সা:) এর গায়ে একটি কাটার আঁচড় লাগবে এটা হতে পারে না। পরিশেষে কাফিররা তাকে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে গেলে তিনি বলেন, আমাকে দুরাকাত নামায পড়তে দিন। নামায শেষে খুবাইব (রা:) বললেন, তোমরা এই মনে না কর যে আমি ফাঁসির জন্য নামায দীর্ঘায়িত করছি। তাহলে আমি আরো দীর্ঘায়িত করতাম।
এরপর ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলন- খুবাইবের উপর ছুড়ে মারে তীর, বর্ষা ও খঞ্জর। ফলে হযরত খুবাইব (রা:) কালেমা শাহাদাত পড়তে পড়তে শাহাদাতের অমীয় পেয়ালা পান করলেন।
সাহাবীদের বিপ্লবী জীবন (২য় খণ্ড)
আমানতদারিতা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ(রাঃ) ঃ-
একদিন কিশোর আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ দেখতে পেলেন দুই জন লোক তার দিকে এগিয়ে আসছে তাদের চোখে মুখে প্রচন্ড ক্লানি-র ছাপ বিদ্যমান। তারা আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ এর কাছে এসে বলল আমরা পিপাসার্ত তুমি তোমার বকরি থেকে একটি বকরী দাও যা দোহন করে আমরা আমাদের পিপাসা দূর করতে পারি। বালক আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ উত্তর দিলেন আমি বকরির মালিক নই আমি এর রক্ষক ও আমানতদার মাত্র। বালকের আমানতদারিতায় তারা মুগ্ধ হয়ে গেল। আর দুজন ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও হযরত আবু বকর (রাঃ)।
ইকরামা (রাঃ) এর জীবন বাজি রেখে জিহাদ করার প্রতিশ্রুতি ঃ
একদিন রাসূল (সঃ) ইকরামার জন্য দোয়া করেছেন দেখে ইকরামা বলে উঠলেনঃ“হে আল্লাহর রাসূল আল্লাহর শপথ এতদিন আল্লাহর দ্বীনের প্রতিবন্ধকতায় যত ধন সম্পদ ব্যয় করেছি, এখন থেকে তার দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে তার দ্বিগুন খরচ করবো। দ্বীনের বিজয়কে ঠেকানোর জন্য যত যুদ্ধ করেছি এখন থেকে দ্বীনের বিজয়ের জন্য তার চাইতে দ্বিগুন জিহাদ করবো। ”
ইসলামের সর্বপ্রথম সালাম প্রদানকারী ঃ
আবু যার গিফারী (রাঃ) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যিনি রাসূল (সঃ) সর্বপ্রথম সালাম দেন এবং তখন থেকেই ইসলামের এই সালাম প্রথা মুসলমানদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার লাভ করে।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ) একমাত্র মুসলিম যিনি রাসূল(সঃ) এর পরেই পৃথিবীতে প্রকাশ্যে করআন পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। ঘটনাটি ছিল এরকম ঃ একদিন মক্কার মুসলমান একত্রিত হয়ে বলতে লাগলেন, মক্কার কুরইশদেরকে প্রকাশ্যে পাঠ করে শুনানো সম্ভব হলোনা। এমন কে আছে যে তাদের কে সুউচ্চস্বরে কুরআন শুনাতে পারে? আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বললেন  ঃ আমি তাদেরকে কুরআন শুনাব। পরদিন সকালেই তিনি মাকামে ইব্রাহিমের পাশে দাড়িয়ে উচ্চস্বরে তেলাওয়াত আরম্ভ করলেন। তিনি তেলাওয়াত করে চলছেন তার এ কাজ কুরাইশদের দৃষ্টি আকর্ষন করল। তারা একযোগে সবাই তার দিকে ছুটে এলো এবং তার মুখমন্ডলেন উপর বেদম প্রহার করতে লাগলো। আর তিনি সেদিকে খেয়াল না করেই একমনে তেলাওয়াত করেই চলেছেন।
দারিদ্রতা ও অভাবমুক্ত থাকার সর্বোত্তম পন’া ঃ
রাসূল (সঃ) বলেছেন, যে প্রত্যেক রাতে সূরা আল ওয়াক্বিয়াহ  পাঠ করবে দারিদ্র ও অভাব তাকে স্পর্শ করবে না।
আবুজার (রা) এর ঘরের আসবাব পত্র ঃ
হযরত আবুজার (রাঃ) দুনিয়া ত্যাগী এবং পরকালমুখী জীবন যাপন করতেন। একবার এক ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে তার ঘরের ভিতরে দৃষ্টি দিয়ে কোন আসবাবপত্র ও সাজ সরঞ্জাম দেখতে পেলেন না। তিনি আবুজান (রাঃ) এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু যার আপনার ঘরের আসবাবপত্র কোথায় তিনি উত্তরে বললেন, সেখানে অর্থাৎ আখেরাতে যেখানে আমাদের আর একটি বাড়ি আছে ভাল ভাল ফার্নিচার ও জিনিস গুলো আমরা সেখানে পাঠিয়ে দেই।
আসহাবে রাসুলের জীবন বৈশিষ্ট্য
জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান ঃ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ছিল সাহাবীদে আসহাবে রাসুলের জীবনের বৈশিষ্ট্যের জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর ন তাঁর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদের যে কতখানি গুরুত্ব তারা তা ভালো করেই বুঝেছিলেন। তাই জিহাদের ডাক এলেই জীবনের সব চাওয়া পাওয়া ত্যাগ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেন। কাউকে কখনো বিন্দুমাত্র দ্বিধা সংকোচে ভুগতে দেখা যায়নি। হাদীসে তাদের জিহাদে গমনের প্রচন্ড আগ্রহের অনেক গটনা বণিত হয়েছে। রাসুল (স) যখন বদরে যাওয়ার সিদ্ধান- নিলেন , আবু উসামাও (রা) যাওয়ার সংকল্প করলেন। আবু উসামার (রা) বৃদ্ধা মা ছিলেন। তার সংকল্পর কথা জানতে পেরে তার মামা আবু বুরদা ইবনে নায়ার ছুটে এলেন এবং তাকে তার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য বললেন। আবু উসামা (র) তার মামাকে বললেন আমি জিহাদে যাব। আপনি আপনার বোনের কাছে থাকুন। কে যুদ্ধে যাবেন এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে ঝগড়া হল, বিসয়টি ফয়সালার জন্য রাসুল (স)এর কাছে গেলেন। তিনি আবু মুসাকে তার মায়ের কাছে থাকার সিদ্ধান- দিলেন৩। উমার (র)তো বলতেন , তিনটি বিষয় না থাকলে আমি মৃত্যুকেই পছন্দ করতাম। সেই তিনটি বিষয়ের একটি ছিল জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ। তিনি জিহাদকে হজ্জের চেয়েও উত্তম কাজ মনে করতেন।৪ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (র) বদর যুদ্ধে যাওয়ার জন্য রাসুল (স) এর সামনে দাড়ালেন। যুদ্ধে যাওয়ার বয়স না হওয়ায় তিনি তাকে ফিরিয়ে দেন। মনের কষ্টে কাঁদতে কাঁদতে সারাটি রাত তার কেটে যায়। তিনি বলতেন এত কষ্টের রাত আমার জীবনে আর আসেনি। ৫ সারা জীবন পরিবারের লোকদের মধ্যে অবস’ান করে কাজ করার চেয়ে এক ঘন্টা আল্লাহর পথে জিহাদে অবস’ান করা উত্তম -রাসুল (স) এর এই কথা শুনার পর সাহল ইবনে আমর (র) বলেন আল্লাহর পথে জিহাদে আমি আজীবন অশ্বারোহী থাকবো। মক্কায় আর ফিরবনা। তিনি সেই যে বেরুলেন আর ফিরলেন না। তিনি শামে আমওয়াসের সেই বিখ্যাত ‘তাঊন’মহামারিতে মৃত্যু বরণ করেন৭। সেনানায়ক খালিদ উবনে ওয়ালিদ (র) বলতেন , নব বধুর সাথে আমি বাসর করি , অথবা আমাকে নবজাতকের সুসংবাদ দান করা হয় এমন একটি রাতের চেয়ে আমার কাছে বেশি প্রিয় বরফজমা প্রচন্ড শীতের রাতে একটি মুহাজির বাহিনীর সাথে শত্রু বাহিনীকে পাহারা দেয়া এবং প্রত্যুষে আক্রমণ চালানো। জিহাদের ব্যস-তার কারনে কোরআনের অনেক কিছু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকার কথা তিনি প্রায়ই বলতেন৮। রাসুলের (স) ইনি-কালের পর বেলাল (র) খলিফা আবুবকর (র) এর নিকট গিয়ে বললেন ঃআমি রাসুল (স)কে বলতে শুনেছি ,একজন মুমিনের সবচেয়ে ভালো আমল হল জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ। অতএব আমি জিহাদে যেতে চাই। আবুবকর (র) অনুমতি দিলেননা। হযরত উমর (র) খলিফা হলেন। বেলাল (র) তার নিকট গিয়ে একই কথা বলে অনুমতি চাইলেন। উমার (র) অনুমতি দিলেন। বেলাল জিহাদে গেলেন৯। তিনি শামে মারা যান। আবু তালহা (র) বৃদ্ধ বয়সে একদিন কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। যখন তিনি সুরা তওবার ৪১নং আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন তকন বলে উঠলেনঃ আমার রব তো দেখি যুবক বৃদ্ধ সবাইকে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে বলেছেন। তারপর তিনি ছেলেদেরকে বললেন আমার জিহাদে যাওয়ার ব্যবস’া কর। তারা বললেন আপনিতো রাসুল (স) ,আবুবকর , উমরের (র) সাথে জিহাদে অংশ নিয়েছেন। এখন আপনি ঘরেথাকুন আমরা আপনার পক্ষে জিহাদে যাই। তিনি মানলেন না। তিনি একটি নৌ বাহিনীর সাথে বেরিয়ে পড়লেন এবং সাগরের মাঝে মারা গেলেন। সাতদিন চলার পর একটি দ্বীপ পাওয়া গেলে সেখানে দাফন করা হয়। মুত্যুর সাতদিন পরও লাশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল১১। হযরত হানজালা (র) বদর যুদ্ধে যোগ দিতে পারেননি। তাই তার অন-রে ছিল তীব্র জালা। তবে উহুদ  যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। আর এটাই ছিল তার ইসলামী জীবনের প্রথম ও শেষ যুদ্ধ। তিনি ঘরে স্ত্রী উপগত অবস’ায় ছিলেন। এমন সময় ঘোষকের কন্ঠ কানে গেলঃ‘এখনি জিহাদে বের হতে হবে। ’জিহাদের ডাক শুনে সোজা দাড়িয়ে গেলেন এবং তাহারাতের গোসলের কথা ভুলে গেলেন। সেই অশুচি অবস’ায় কোষমুক্ত তরবারি হাতে উহুদের প্রান-রে উপসি’ত হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লেন এবং শাহাদাৎ বরন করলেন। হানজালার সস্ত্রী বললেন হানজালা নাপাক ছিলে। সুতরাং তাকে গোসল করানো দরকার। এ বর্ণনা শুনে রাসুল (স) বললেন আমি ফেরেস-াদেরকে তাদের গোসল দিতে দেখেছি১৫।
২.আল্লাহর বিধি- বিধান বাস-বায়নে দৃঢ়তাঃ রাসুলুল্লাহর সাহাবীগণ আল্লাহ ও তার রাসুলের (স)আদেশ নিষেধ তথা শরীয়তের বিধি-বিধান সমূহ অক্ষরে অক্ষরে বাস-বায়নে দৃঢ় সংকল্প ছিলেন। জেনে বুঝে আল্লাহ ও তার রাসুলের (স)হুকুম তামিল করতে কোন রকম শৈথিল্য দেখিয়েছেন এমন কোন নজির পাওয়া যাবেনা। এখানে মাত্র দুটি ঘটনা বর্ণনা করবো এবং তাতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। রাসুলে করিমের (স)ইনি-কালের পর আরবের কিছু গ্রোত্রের লোক যাকাতকে ট্যাক্স মনে তা দিতে অস্বীকার করে। খলিফা আবুবকর (র) তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান- নিতে মজলিসে শুরার বৈঠক আহবান করলেন। সেখানে দুটি মত প্রকাশ পায়। ১.আল্লাহ ও তার রাসুলের উপর ঈমান পোষণকারী মানুষের সাথে শুধু যাকাত না দেওয়ার কারনে যুদ্ধ করা যাবেনা। ২.যাকাত অস্বীকারকারীদের সাথে যুদ্ধ করে হলেও তাদেরকে যাকাত পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হবে। এ মতের পক্ষে ছিলেন আবুবকর (র) । তিনি এখানে তার মতের পক্ষে যে দুঢ়তা দেখান তা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি একটি ভাষণ দেন এবং অত্যন- জোরালো কন্ঠে বলেনঃআল্লাহর কসম! যারা রাসুলের (স)কালে একটি রশিও যাকাত হিসাবে পরিশোধ করতো , তারা যদি আজ তা দিতে অস্বীকার করে তাহলে এই লোকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো। কারণ যাকাত হল ধন সম্পদের হক। রাসুল (স) ইরশাদ করেছেন ,ইসলাম গ্রহনকারী লোকদের উপর যে হক আসবে তা সব অবস’াতেই তার কাছ থেকে আদায় করতে হবে১৭। পরবর্তীকালে উমার (র) বলতেনঃ‘আবুবকরের (র)জবাব শুনে আমার প্রত্যয় হল যে, যাকাত অস্বীকারকারীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ তার সিনা খুলে দিয়েছেন।’আবুবকর (র)অত্যন- কঠোর হাতে যাকাত অস্বীকারকারীদের দমন করেন। আর এমন দৃঢ়তার কারনেই উমার (র) তার প্রিয় পুত্র আবু শামাকে কঠোর দন্ড দিতে দ্বিধা করেননি এবং আল্লাহর নির্দেশিত দন্ড প্রয়োগ করতে কোন রুপ স্নেহ-মমতার ও কোমলতার প্রশ্রয় দেননি। মানব জাতির ইতিহাসে এ এক অনন্য ঘটনা। হযরত আব্বাস (র)ঘটনাটি বর্ণনা করলেন এভাবেঃ আমি একদিন মসজিদে নববীতে বসে ছিলাম। আরো বহুলোক ফারুকে আযমের কাছে বসা ছিল। তখন এক যুবতী এসে আমীরুল মুমিনীনকে সালাম দিল। তিনি সালামের জবাব দিয়ে জানতে চাইলেন তোমার কিছু বলার আছে? সে বলল হ্যাঁ আমার পেটে জন্ন নেয়া এ বাচ্চাটি আপনার। তিনি বললেন আমি তো তোমাকে চিনিই না। যুবতীটি কেঁদে ফেলে বললো সন-ানটি আপনার নয় ,আপনার ছেলের। তিনি জানতে চাইলেন ,হালাল পথে না হারাম পথে? সে বললো , আমার িিদক হালাল কিন’ তার দিক থেকে হারাম ছিল। উমার (র) ঘটনাটি পরিষ্কার করে বলতে বললেন। সে বললোঃ বেশ কিছু দিন আগে আমি একদিন বনী নাজ্জারের এক বাগানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আপনার ছেলে আবু শামা মদ্যপ অবস’ায় আমার কাছে এসে তার কামনা চরিতার্থ করার প্রস-াব দিল এবং আমাকে জোর করে বাগানের দিকে টেনে নিয়ে বাসনা চরিতার্থ করলো। আমি বেহুশ হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ ঘটনাটি গোপন রেখেছিলাম। এক সময় আমি পেটে বাচ্চার অসি-ত্ব টের পেলাম। ফলে আমি অন্যত্র চলে গেলাম। সেখানে আমার এ শিশু জন্ম নিয়েছে। আপনি আমার ও তার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশিত বিধান প্রয়োগ করুন। খলিফা উমর (র) সাথে সাথে ঘোষককে লোক জমায়েত হওয়ার ঘোষনা দিতে বললেন। মসজিদে লোক সমবেত হল। তিনি বললেন আপনারা কেউ কোথাও যাবেন না,আমি এখনি আসছি। তারপর তিনি আমাকে বললেন আপনি আমার সাথে আসুন। সেখান থেকে তিনি ঘরে এসে হেঁকে বললেন , আবু শাহমা কি ঘরে আছে? জবাবে বলা হল সে আহার করতে বসেছে। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে বললেন হে ,আমার সন-ান! আহার সেরে নাও, এটাই হয়তো তোমার শেষ আহার। আব্বাস (র) বলেন , আমি দেখতে পেলাম যে, সাথে সাথে ছেলের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং কাঁদতে কাঁদতে হাতের লোকমা  পড়ে গেল। তিনি বললেন হে আমার সন-ান! বলতো আমি কে? সে বললো আপনি আমার পিতা ও আমিরুল মুমিনীন। তিনি বললেন আমার কি তোমার আনুগত্য লাভের অধিকার আছে? সে বললো হ্যা দুভাবে আপনি আনুগত্য লাভের অধিকারী। পিতা ও আমিরুল মুমিনীন হিসাবে। তখন তিনি বললেন তোমার নবী ও তোমার পিতার দাবির প্রেক্ষিতে বল , তুমি কি ইহুদিদের পাল্লায় পড়ে মদ পান করেছিলে? সে বললো হ্যা তবে আমি তওবা করেছি। তিনি বললেন আমার প্রিয় সন-ান !তুমি কি বনী নাজ্জারের বাগানে গিয়েছিলে এবং সেখানে এক যুবতীর সাথে পাপাচারে লিপ্ত  হয়েছিলে? এ প্রশ্ন শুনে আবু শাহমা চুপ হয়ে গেল ও কাঁদতে লাগল। তিনি বললেনঃ বেটা লজ্জার কিছু নেই, সত্য বল। আল্লাহ সত্যবাদীকে ভালোবাসেন। সে বললো, হ্যা তবে আমার দ্বারা তা হয়েছে। তবে আমি সেজন্য অনুতপ্ত হয়ে তওবা করেছি। হযরত ফারুকে আযম সাথেসাথে তাকে গ্রেপ্তার করলেন এবং তার জামা ধরে টেনে মসজিদে নিয়ে গেলেন। আবু শাহমা তখন কেঁদে কেঁদে বলছিল ,হে আমার পিতা! তরবারী দিয়ে আমাকে কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলুন ,মানুষের সামনে নিয়ে আমাকে লজ্জা দিবেননা। উমার (র) তখন বলেন তুমি  কি এ আয়াত পড়নি ঃ“আর তাদের দুজনের এ দন্ড দানের সময় মুমিনদের একদল লোক উপসি’ত থেকে তা প্রত্যক্ষ করবে”১৮। অত:পর উমার (র) তাকে টেনে নিয়ে আসহাবে রাসুলের সামনে হাজির করলেন এবং  বললেন যুবতীটি সত্য বলেছে এবং আবু শাহমা তা স্বীকার করেছে। তারপর তিনি তার দাস আফলাহকে বললেন একে শক্ত হাতে ধর এবং দোররা মার। একাজে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবেনা। আফলাহ কাঁদতে কাঁদতে বললো একাজ আমি করতে পারবো না। তিনি বললেন আফলা!আমার আনুগত্য মানে রাসুল (স)এর আনুগত্য। তাই আমি যা নির্দেশ দেই তাই কর। ইবনে আব্বাস বললেন , তিনি আবু শাহমাকে দিয়ে তার জামা খোলালেন। তা দেখে সবাই জোরে জোরে কান্না জুড়ে দিল। আবু শাহমা সকাতরে বললো হে আমার পিতা !আমার প্রতি দয়া করুন। উমারও কান্না জড়িত কন্ঠে বললেন তোমার রব তোমার প্রতি দয়া করবেন। আমি তোমাকে এজন্য দন্ড দিচ্ছি যেন আমাদের পরয়ারদিগার তোমার ও আমার উভয়ের উপর দয়া করেন। তারপর তিনি আফলাহকে দোররা মারার নির্দেশ দিলেন। সে মারা শুরু করলো। আবু শাহমা করুণ স্বরে কাতরাতে লাগলেন। আফলাহ যখন সত্তর দোররায় পৌছলেন তখন আবু শাহমা বললেন ঃহে আমারপিতা ! ্‌মাকে এক ঢোক পানি পান করান। তিনি বললেন হে আমার পুত্র! যদি আমার রব তোমাকে কবুল করেন তাহলে মুহাম্মদ (স) তোমাকে হাওজে কাওসারের পানি পান করাবেন। তারপর আর কখনো তোমার পানির পিপাসা লাগাবনা। তারপর  তিনি আফলাকে লক্ষ্য করে নির্দেশ দিলেন মারতে থাক। যখন আশি দোররায় পৌছল তখন আবু শাহমা বললেন হে আমার পিতা !আসসালামুয়ালায়কা। উমার (র) বললেন ওয়ালাইকাস সালাম। যদি তোমার সাথে মুহাম্মদ(স)এর দেখা হয় তাহলে তাকে আমার সালাম পৌছিয়ে বলবে ,আমি তাকে কোরআন পড়তে তার উপর আমল করতে এবং তার দন্ডবিধি বাস-বায়ন করতে দেখে এসেছি। তারপর বললেন আফলাহ মারতে থাক। যখন নব্বই দোরার মারা হল তখন আবু শাহমা নিশ্চুপ ও নিসে-জ হয়ে গেল। ইবনে আব্বাস (র)বলেনঃরাসুলের (স)সাহাবীগণ বললেন ,যে কয় দোররা বাকি রয়েছে তা পরে মারুন। উমার (র)বললেন পাপের কাজে যখন দেরি করা হয়নি তখন দন্ডদানে দেরি করা হবে কেন?আফলাকে তিনি দোররা মারতে বললেন। শেষ দোররাটি যখন মারা হল তখন আবু শাহমা চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। ফারুকে আযম তখন তার মাথাটি নিজের কোলে তুলে নিয়ে কেঁদে কেঁদে বললেন ঃসত্যের জন্য তোর মুত্যু হল। তুই  শেষ দন্ডটিও নিয়ে মরেছিস। তোর বন্ধু বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন এমনকি তোর বাপও তোকে বাচাতে পারলোনা১৯।
৩.ঈমানের মজবুতি ও দৃঢ়তাঃ সাহাবায়ে কেরামের জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাদের ঈমানের মজবুতি ও দৃঢ়তা। তারা যে যখনই ইসলাম গ্রহণ করুন না কেন, ইসলাম গ্রহণ করার পর তাদের ঈমান এত শক্ত রুপ ধারণ করে যে তাতে বিন্দু মাত্র দ্বিধা -সংকোচ দেখা যায়না। মক্কায় যারা ইসলাম গ্রহণ করেন তাদের প্রায় সকলের জীবন ,ধন সম্পদ ও মান সম্মান বিপন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষত দাস ,দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেনীর যারা ইসলাম গ্রহণ করেন তারাতো একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েন। শুধু দুর্বল শ্রেনী কেন সমাজের বিত্তবান ও সম্পদশালীদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেন তাদের অবস’াও বিশেষ সুবিধার ছিলনা। মদীনায় হিজরতের পূর্বে তাদেরকে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে হাবশায় হিজরত করতে হয়েছিল। বনী হাশিমও বনী আবদি মুন্নাফের সম্ভ্রানত লোকদের ও মক্কআয় শিয়াবে আবি তালিবে প্রায় তিন বছর বন্দী জীবন কাটাতে হয়। সে কি দু:সহ জীবন। ক্ষুধা ও অনাহারের জীবন। উপত্যকার বাইরে থেকে অনাহারক্লিষ্ট নারী ওশিশুদের কন্নার রোল ও আর্তনাদ শোনা যেত। গাছের পাতা সিদ্ধ করে খেতে খেতে তাদের মুখে ঘা হয়ে গিয়েছিল। এভাবে তাদের তিনটি বছর কেটে গেল। অনাহার ও অপুষ্টিতে তাদের অনেকের জীবন সংক্টাপন্ন হয়ে পড়েছিল। বলা হয়েছে হযরত ফাতিমা (র) এখান থেকেই অপুষ্টির শিকার হন এবং সে কারণে অল্প বয়সে মারা যান। আমরা যদি ইসলামের প্রথম ভাগের মক্কার মুসলমানদের প্রত্যেকের জীবনের দিকে তাকাই তাহলে কাউকে ভালো অবস’ায় দেখতে পাইনা। গোটা মক্কায় তখন সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। সে সন্ত্রাসের প্রধান পুরুষ আবু জাহল, উতবা ,শায়বা, উকবা, আবু সুফিয়ান পমুখ কোরাইশ নেতুবুন্দ এবং সে সন্ত্রাসের লক্ষ্যবস’ মক্কার মুসলমানদের জান,মাল, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। বেলাল, ায়িাসির, আম্মার, সুম্যাইয়া, সুহাইব, খাব্বাব, প্রমুখ দুর্বল          মুসলমানদের ওপর যে জুলুম ও নির্যাতন চালানো হয়েছে তার কোন নজীর ইতিহাসে খুজে পাওযা যাবেনা। হাবশী বেলালের ওপর মক্কার পাষান্ডরা যে অত্যাচার চালিয়েছে তা চিন-া করলেও গা শিউরে ওঠে। সুমাইয়াকে নরাধম আবু জাহল হত্যা করলো। খাব্বাবকে লোহা গরম করে গায়ে ঠেসে ধরা হতো। এভাবে তাদের উপর শাসি- ও নির্যাতনের নিত্য নতুন অনুশীলন চালানো হতো। শুধু দর্বলদের ওপর কেন , সবলদের ওপর কি তাদের আত্নীয়রা কম অত্যাচার করেছে? হযরত উমারের (র)বোন ইসলাম গ্রহণ করলেন। সেকথা উমারের কানে গেলে তিনি তাকে এমন নির্দয়ভাবে মারে যে তার সারা শরীর রক্তে ভিজে যায়। তিনি ভাইকে সাফ বলে দিলেন, যা ইচ্ছা করুন আমি ইসলাম গ্রহণ করেই ফেলেছি। উমার তার দাসী লাবীনাকেও মারতে মারতে ক্লান- হয়ে থেমে যেতেন। এমনিভাবে তিনি স্ত্রীর দাসী যুনাইরাকেও শাসি- দিতেন। মুসআব ইবনে উময়ার ছিলেন মক্কার এক ধনবতী মহিলার একমাত্র আদুরে ছেলে। তিনি ছিলেন মক্কার সর্বোৎকুষ্ট সুগন্ধি ব্যবহারকারী যুবক। এই যুবক একদিন গোপনে দারুল আরকামে ঢুকে পড়েন এবং ইসলাম গ্রহণ করে বের হলেন। প্রচন্ড ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী মা খুনাস বিনতে মালিক ছেলের এহেন দুর্মতির কথা জানতে পেরে রণমূর্তি ধারণ করলেন। তার অন-র থেকে স্নেহ মমতা দূর হয়ে পাষাণে রুপ নিল। তিনি ছেলেকে মারপিট, বকাঝকা, ও গালাগাল করতে লাগরেন। তাকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখা হল। এক পর্যায়ে মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। সে এক করুণ ইতিহাস! একদিন মুসলমানদের একটি দল রাসুলের (স)কাছে বসে ছিলেন। এমন সময় পাশ দিয়ে তারা মুসআবকে যেতে দেখলেন। তাকে দেখেই বৈঠকে উপসি’ত সকলের মধ্যে ভাবান-র সৃষ্টি হলো। তাদের দৃষ্টি নত হয়ে এল। কারো কারো চোখে পানি এসে গেল। কারণ মুসআবের গায়ে তখন শত তালির জীর্ণ শীর্ণ একটি চামড়ার টুকরা। তাদের সবার মনে তখন তার ইসলাম পূর্ব জীবনের ছবি ভেসে । উঠল। এ দৃশ্য দেখে রাসুল (স) একটু মুচকি হেসে বললেন ঃ‘মক্কায় এ মুসআবকে আমি দেখেছি। তার চেয়ে পিতামাতার বেশি আদরের আর কোন যুবক মক্কায় ছিলনা। আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসায় সে সবকিছু ত্যাগ করেছে২১। আরো অনেক দৃষ্টান- দেওয়া যায়। শত বিপদ-আপদ, বাধা বিপত্তি, জান-মালের হুমকি এমনকি জীবন হারানোর মুহূর্তেও সাহাবায়ে কিরাম তাদের ঈমান ও বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র টলেননি। বরং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে বিপদ যত মারাত্নক আকার ধারণ করেছে তাদের মজবুতিও তত বৃদ্ধি পেয়েছে। সাহাবায়ে কিরাম তাদের এমন মজবুত ঈমানের কারনেই আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রসংশা অর্জন করেছেন। আল্লাহ ও তার রাসুলের সন’ষ্টি তারা লাভ করেছেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- “লোকেরা যাদেরকে (সাহাবা) বললো ঃতোমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য লোকেরা সাজ সরঞ্জাম সমাবেশ করেছে। অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো । একথা তাদের ঈমানকে আরো বৃদ্ধি করে দিল। তারা বললো আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি কতইনা সফলতা দানকারী২৩।
আসহাবে রাসূলের জীবন কথা
মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ
আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)
হযরত আবু বকর (রাঃ)  ছিলেন তৎকালীন সম্মানিত কুরাইশ ব্যক্তিবর্গের অন্যতম। তিনি বয়সে রাসূল (সাঃ) এর দু’বছরের ছোট ছিলেন। রাসূল সাঃ তাঁর সম্পর্কে বরেনঃ আমি যাকেই দাওয়াত দিয়েছি, একমাত্র আবু বকর ছাড়া প্রত্যেকের মাঝে কিছু না কিছু দ্বিধার ভাব লক্ষ্য করেছি।  তাঁর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় তৎকালীন কুরাইশ বংশের বিশিষ্ট যুবক উসমান, যুবাইর, আব্দুর রহমান, সা’দ ও তালহার মত ব্যক্তিরা ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি তার সমস- সম্পত্তি ইসলামের জন্য ওয়াকফ করে দেন। তিনি বিল্লাল, খাব্বাব, আম্মার, সুমাইয়া, সুহাইব সহ অনেককে অর্থের বিনিময়ে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেন।
ক্স    মিরাজের কথা শুনে আবু বকর বিনা দ্বিধায় বিনা প্রশ্নে রাসূলের কথা মেনে নেন। রাসূল সাঃ তাই আবু বকর রাঃ কে সিদ্দীক উপাধিতে ভূষিত করেন।
ক্স    আবু বকর (রাঃ) কে  রাসূলের (সাঃ) এর সাথে হিজরতের পূর্বাভাষ পেয়ে তিনি সেদিন থেকেই প্রস’ত হতে থাকেন। হিজরতের রাতে রাসূল (সাঃ) আবু বকরের দরজায় কড়া নাড়ার সাথে আবু বকর তৎক্ষনাৎ দরজা খুলে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমি প্রস’ত। রাসূলের হিজরতের পূর্বাভাস দেয়ার পর থেকে আবু বকর (রাঃ) রাতে বিছানায় পিঠ লাগাতেন না।
ক্তাবুক অভিযান উপলক্ষে তিনি তার সকল সম্পদ রাসূলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
রাসূলের (সাঃ) ইন্তেকালের পর আবু বকর (রাঃ) খলিফা নির্বাচিত হয়ে তাঁর ভাষণে বলেছিলেনঃ আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে খলিফা বানানো হয়েছে। আপনারা যদি দেখেন আমি সঠিক কাজ করছি তবে আমাকে সহযোগিতা করবেন। যদি দেখেন আমি বিপথগামী হচ্ছি তবে আমাকে সতর্ক করে দিবেন।  রাসূলের (সাঃ) ওফাতের পর বিভিন্ন বিশৃংখলা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তিনি কঠোরহস্তে তা  দমন করেন।যাকাত দিতে অস্বীকারকারীর বিরুদ্ধে তিনি ঘোষণা করেনঃ কারো কাছে একটি উটের রশির পরিমাণ যাকাত পাওনা থাকলে তাও পরিশোধ করতে হবে। নতুবা তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করব।
# আবু বকর (রাঃ)  সর্ব প্রথম ওমরের (রাঃ) পরামর্শে সম্পূর্ণ কুরআন একত্র করেন।
# ওমর (রাঃ) বলেনঃ আমি প্রতিদিন সকালে এক বৃদ্ধার বাড়ীতে তার ঘরের কাজ করে দিতাম। একদিন গিয়ে শুনালাম আমার পূর্বেই এক নেককার ব্যক্তি কাজগুলি করে দিয়ে গেছেন।
হযরত উমর (রাঃ)
 #  রাসূলে কারীম (সাঃ) নবুয়তের প্রাপ্তির সময় গোটা কুরাইশ  বংশের মাত্র সতের জন লোক লেখা পড়া জানতেন। তাদের মধ্যে উমর একজন। তিনি রাসূল (রাঃ)এর তের বছরের ছোট ছিলেন।
#  হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাথা আনতে গিয়ে অবশেষে নিজেই রাসূলের দরবারে এসে কালেমা শাহাদাত পড়ে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা কে না জানে।
#  হযরত উমরই (রাঃ) প্রথম প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দিয়ে কাবাঘরে নামাজ আদায় করেন।
#   হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলী বাহ্যত অপমানজনক বিধায় উমর (রাঃ) প্রতিবাদ করেছিলেন।রাসূল (সাঃ) তাঁকে শান-না দিয়েছিলেন।
#    তাবুক অভিযান উপলক্ষে তিনি তাঁর সমস- সম্পদের অর্ধেক দান করে দিয়েছিলেন।
#   তাঁর আমলে ১০৩৬ টি শহর বিজিত হয়।
#  তিনি হিজরি সনের প্রবর্তক। তারাবীর নামাজের ব্যবস’া করেন তিনি। সেনাবাহিনীর স্তরভেদ নির্ধারণ, আদমশুমারি, কাযী নিয়োগ, রাষ্ট্রকে প্রদেশে বিভক্ত করণ ইত্যাদি ব্যবস’ার তিনিই প্রবর্তক।
#   রাসূল (সাঃ) বলেন- আমার পর কেউ নবী হলে উমরই হত।
#   মুগরা ইবনে শু’বার অগ্নি উপাসক দাস আবু লু’লু ফিরোজ ফজরের নামাজে দাঁড়ানো অবস’ায় খলিফা উমরকে ছুরিকাঘাত করে। তিন দিন পরই তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
উসমান ইবনে আফ্‌ফান
হযরত উসমান (রাঃ) ৫৭৬ কৃঃ মক্কায় কুরাইশ বংশের উমাইয়া শাখায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কুস্তিগীর।  লজ্জা ও প্রখর আত্নমর্যাদাবোধ ছিল তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মক্কার সমাজে একজন বিশিষ্ট ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে ‘গনী’ উপাধি লাভ করেন।
#   রাসূলের (সাঃ) দুই কন্যাকে  বিবাহ করার কারণে তাঁকে যুন-নূরাইন বলা হয়।
#   তাবুক যুদ্ধ উপলক্ষ্যে তিনি এক তৃতীয়াংশ সৈন্যের যাবতীয় ব্যয় ভার বহণ করেছিলেন।
#   কাফেরদের হাতে উসমান (রাঃ) এর আটক হওয়ার মধ্য দিয়ে হুদায়বিয়ার সন্ধির সূত্রপাত হয় এবং বাইয়াতে রিদওয়ান অনুষ্ঠিত হয়।
#   রাসূল (সাঃ) বলেছেন- প্রত্যেক নবীরই বন্ধু থাকে।জান্নাতে আমার বন্ধু হবে উসমান।
আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)
কিশোরদের মধ্যে হযরত আলী (রঃ) ১ম মুসলমান। রাসূলের (সাঃ) নবুয়ত প্রাপ্তির দশ বছর পূর্বে তাঁর জন্ম। উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।
#    হিজরতের সময় রাসূল সা. আলীকে নিজ বিছানায় রেখে রাতের আধারে বেড়িয়ে পড়েন। আলী (রাঃ) জানতেন এমতাবস’ায় তার জীবন চলে যেতে পারে।
#    সকল যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার কারণে রাসূল (সাঃ) তাঁকে ‘হায়দার’ উপাধি এবং ‘যুলফিকার’ তরবারি দান করেন। খায়বার অভিযানে দুর্জেয় কেল্লাগুলি তারই হাতে পতন হয়। তিনি রাসূল (সাঃ) কে গোসল দেওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। তাঁকে আলী মুরতাজা দেওয়া হয়।
#   হযরত উসমান (রাঃ) আলী (রাঃ) সম্পর্কে বলেন আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ফায়সালাকারী হলেন আলী। তিঁনি সব সময় মাটিতে শুয়ে থাকতেন বলে রাসূল (সাঃ) তাঁকে ‘আবু তুরাব’ লকব দান করেন। রাসূল (সাঃ) বলেন ‘আমি জ্ঞানের নগরী, আর আলী সেই নগরীর প্রবেশদ্বার।’
যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)
মাত্র ষোল বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে তার চাচা তাকে উত্তপ্ত পাথরের উপর চিৎ করে শুইয়ে বেদম প্রহার করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি হাবশায় হিজরত করেন। তাঁর সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন, প্রত্যের কনীরই হাওয়ারী থাকে। আমার হাওয়ারী যুবাইর। হযরত যুবাইর (রাঃ) এর বুকে ঝরনার মত দেখতে তীর বর্শার অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল।
সিজদারত অবস’ায় বিশ্বাসঘাতক ইবনে জারমুয তরবারির আঘাতে তাঁর মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাঃ)
একদল লোক হাত বাঁধা একজন যুবককে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে আসছে। তারা তাঁকে উপুর করে শুইয়ে পিঠে ও মাথায় বেদম মার শুরু করলো। পেছনে এক বৃদ্ধা মহিলা চিৎকার করে করে যুবকটিকে গালি দিচ্ছে। সেই যুবকটি হলেন তালহা (রাঃ) এবং বৃদ্ধাটি তাঁর মা।
উহুদ যুদ্ধে বিপর্যয়ের মুহুর্তে মুহাজিরদের মধ্যে একমাত্র তিনিই রাসূলকে আগলে রেখেছিলেন।  তিনি এক হাতে তলোয়ার অন্য হাতে বর্শা নিয়ে কাফিরদের উপর প্রচন্ড আক্রমণ চালান। এক পর্যায়ে সাহাবারা সমবেত হলে রাসূল (সাঃ) বলেন ‘তোমাদের বন্ধু তালহাকে দেখ।’ দেখা গেল তিনি একটি গর্তে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁর সারা দেহে তরবারী ও বর্ষার ৭০ টিরও বেশি আঘাত লেগেছিল। রাসূল (সাঃ) তাঁর সম্পর্কে
মন্তব্য করেন- যদি কেউ কোন মৃত ব্যক্তিকে পৃথিবীতে হেটে বেড়াতে দেখে আনন্দ পেতে চায় তবে সে যেন তালহাকে দেখে। তাঁকে জীবিত শহীদ বলা হতো।
#    হযরত আবু বকর (রাঃ) উহদের প্রসঙ্গ উঠলেই বলতেনঃ সে দিনটির সবটুকুই তালহার।
#    একবার হাযরামাউত থেকে ৭০ হাজার দিরহাম এল । সকাল হতেই সমুদয় অর্থ তিনি গরীবদের মাঝে বন্টন করে দেন।

আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা:)
তিনি ছিলেন ‘সাহিবুল হিজরাতাইন’। তার দ্বীনি ভাই সা’দ তাকে বলেন, আমি আমার সমস- সমপত্তি দু’ভাগে ভাগ করব। এমন কি আমার ২ জন স্ত্রী আছ্‌ে আপনি তাদের একজনকে পছন্দ করুন। আব্দুর রহমান (রাঃ) বলেন- ভাই, এসব কোন কিছুর প্রয়োজন আমার নেই। আমাকে শুধু বাজারে পথটি দেখিয়ে দিন।
উহুদ যুদ্ধে তাঁর শরীরে একত্রিশটি আঘাত লাগে। বনু খুযায়মার ঘটনায় তাঁর সাথে খালিদ বিন ওয়ালিদের বচসা ও বিতর্ক হয়। রাসূল (সাঃ) বললেন- তুমি সাবেকীন আওয়ালীন একজন সাহসীর সাথে ঝগড়া করলে?
হযরত আবু বকর (রাঃ) তার অন্তিম সময়ে পরবর্তী খলিফা নির্বাচনে ব্যাপারে আব্দুর রহমানের (সাঃ) সাথে পরামর্শ করেন। এ আমলে তিনি ফতওয়া বোর্ডের সদস্য ছিলেন। চব্বিশ হিজরী তিনি আমীরুল হজ্জ নিযুক্ত হন।
একবার তিনি বন্ধুদের দাওয়াত দিলেন। ভাল ভাল খাবার এলো। তা দেখে তিনি হাউমাউ করে কান্না শুরু করলেন। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূল বিদায় নিয়েছেন। তিনি নিজের ঘরে যবের রুটিও পেট ভরে খেতে পারেন নি। হযরত আব্দুর রহামন ইবনে উফ আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম একজন।

সাদ ইবনে আবী ওয়াককাস (রাঃ)
সাদ ইবনে আবী ওয়াককাস (রাঃ) আশারায়ে মুবাশশারার সদস্য ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহন করলে তাঁর মা অনশন পালন করতে শুরু করে। তিঁনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন তোমার মত হাজার মাও না খেয়ে জেদ ধরলে আমার পক্ষে ইসলাম ত্যাগ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন আমরা রাসূল (সাঃ) এর সাথে যুদ্ধ করতাম। তখন লতা পাতা খেয়ে আমাদের পায়খানা ছাগলে বিষ্ঠার মত হয়ে গিয়েছিল।

হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)
হযরত হামযা (রাঃ) রাসূলের আপন চাচ এবং দুধ ভাই। উবু জাহল একবার মুহাম্মদ (সাঃ)  কে শক্ত গালি ও কষ্ট দিল। তা শুনে হযরত হামযা ক্ষেপে গিয়ে আবু জাহলের মাথায় ধনুক দিয়ে সজোরে আঘাত করলেন। লোকজন বলন- হামযা সম্ভবত ধর্মত্যাগী হয়েছে। ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলে ফেলেনঃ ‘হ্যা, আমি সাক্ষ দিচ্ছি, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। এর কয়েকদিন পরেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
বদর যুদ্ধে হযরত হামযা পাগড়ীর উপর উটপাখির পালক গুঁজে রাখেন। উমাইয়া ইবনের খালফ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে  বলেন উপটপাখির  পালক লাগানো এ ব্যক্তিই আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করেছে। উহুদ যুদ্ধে হযরত হামযা একাই ৩০ জন কাফিরকে হত্যা করেন। এ যুদ্ধেই ওয়াহশীর অতর্কিত আক্রমণে হযরত হামযা শাহাদাত বরণ করেন। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা বিনতু উতবা হামযার নাক-কান কেটে অলংকার বানিয়েছিল।  বুক, পেট চিরে কলিজা বের করে চিবিয়ে থু থু নিক্ষেপ করেছিল। এ দৃশ্য দেখে রাসূল (সাঃ)  কেঁদে ফেলেন। ঘোষণা দেন কিয়ামতের দিন হযরত হামযা হবে ‘সাইয়েদুশ শুহাদা’। হযরত খাববাব  বলেন- একটি চাদর দিয়ে হামযার কাফনের ব্যবস’া করা হয় যা দিয়ে তার মাথা ঢাকলে পা বেড়িয়ে যাচ্ছিল।

No comments: