হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা:) মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ
মানব জীবনের কার্যাবলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচারের পর হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহ প্রত্যেকের জন্য জান্নাত বা জাহান্নামের ফায়সালা ঘোষণা করবেন। পার্থিব জীবনে সে বিচারের ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সহচরবৃন্দের কেউ কেউ তাঁদের জ্যোতির্ময় পার্থিব জীবনের উজ্জ্বল দীপ্তিতে মানব সভ্যতাকে এমনভাবে আলোকিত করেছিলেন যে, মহান আল্লাহ তাঁদের প্রতি স্বীয় রেজামন্দির বিষয়টি রাসুলের জবান দিয়ে পার্থিব জীবনেই তাঁদের জন্য জান্নাতের ঘোষণা দিয়েছেন। মহানবী (সা.)-এর মুখে জান্নাতের শুভসংবাদপ্রাপ্ত আশারায়ে মুবাশশিরীনের অন্যতম হজরত 'সাঈদ ইবনে যায়েদ' (রা.)। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন আরবের ঐতিহ্যবাহী কোরাইশ বংশে। হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)-এর বংশপরম্পরা অষ্টম পুরুষ কাব ইবনে লুওয়াইয়ে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধারার সঙ্গে মিলিত হয়। হজরত সাঈদের বাবার নাম ছিল যায়েদ আর মায়ের নাম ফাতিমা বিনতে বাজা। তিনি ছিলেন হানিফ পরিবারের সন্তান। তাঁর জন্ম সন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায় না। তবে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের দু-এক বছর আগে অথবা পরে তাঁর জন্ম হয়েছিল বলে অনুমান করা যায়।
হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) ছিলেন উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর ভগি্নপতি। হজরত উমর (রা.)-এর বোন ফাতিমা ছিলেন তাঁর স্ত্রী। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াতপ্রাপ্তির পর অল্প কিছুদিনের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেন। হজরত সাঈদ (রা.)-এর বাবা যায়েদ ছিলেন হানিফ ঘরানার লোক। যারা তাদের বিবেকের তাড়নায় নীতিহীনতার পথ থেকে বিরত থেকেছেন। দেব-দেবীকে প্রণাম করেননি কোনো দিন। সমকালীন জাহেলিয়াতের প্রভাব থেকে তিনি নিজেকে রক্ষা করেছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। তখনো হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর রেসালাত প্রকাশ পায়নি, এমনি সময় একদিন যায়েদের দেখা হলো মোহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে 'বালদাহ' উপত্যকায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য কিছু খাবার আনা হলে তিনি তা খেতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। যায়েদকে সে খাবার খেতে অনুরোধ করলে তিনি বলে দেন, তোমাদের দেব-দেবীর নামে বলি দেওয়া পশুর গোশত আমি খাই না।
একদিন যায়েদ গোপনে মক্কায় প্রবেশ করে ওরাকা ইবনে নওফল, আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ, উসমান ইবনুল হারিস ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফু উমাইমা বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আরবের লোকদের বর্বরতা নিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের বললেন, আল্লাহর কসম, আপনাদের জাতি মারাত্মক গোমরাহির মধ্যে রয়েছে। তারা দ্বীনে ইবরাহীমিকে বিকৃত করে ফেলেছে। তারা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা যদি মুক্তি চান, তাহলে নিজেদের জন্য সত্য দ্বীন অনুসন্ধান করুন। এরপর তাঁরা চারজন ইহুদি, নাসারা ও অন্যান্য ধর্মের বিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে গেলেন দীনে হানিফ তথা দ্বীনে ইবরাহীমি সম্পর্কে জানার জন্য। ওরাকা ইবনে নওফল খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ ও উসমান ইবনুল হারিস কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলেন না। আর হজরত সাঈদ (রা.) পিতা যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল ছুটে চললেন মহা সত্যের সন্ধানে। তিনি নিজেই সে বিষয়ে বর্ণনা করেছেন, আমি ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম সম্বন্ধে অবগত হলাম। কিন্তু মানসিক প্রশান্তি লাভের মতো কোনো কিছু সেখানে দেখতে পেলাম না। একপর্যায়ে আমি সত্যের সন্ধানে সিরিয়া গিয়ে উপস্থিত হলাম। আমি সেখানে একজন বিজ্ঞ রাহিবকে খুঁজে পেলাম। আমি তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে আমার বিষয়ে বিস্তারিত তাঁকে জানালাম। তিনি আমার সব কথা শোনার পর বললেন, ওহে ভাই মক্কী, তুমি বোধ হয় দ্বীনে ইবরাহীমির অনুসন্ধান করছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি দ্বীনে হক খুঁজে ফিরছি। এরপর রাহিব বললেন, আজকের দিনে দ্বীনে ইবরাহীমি খুঁজে পাওয়া যাবে না। সত্য তো তোমার শহরেই প্রকাশিত হবে। আমি তোমাকে একটি শুভসংবাদ দিচ্ছি, আল্লাহ তোমার কওমের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি দ্বীনে ইবরাহীমিকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। যদি তাঁর সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হয় তাহলে তুমি তাঁর অনুসরণ করবে। রাহেবের কথা শুনে যায়েদ প্রতিশ্রুত মহামানবকে খুঁজে বের করতে মক্কার পথে ফিরে চললেন। তিনি যখন মক্কা থেকে সামান্য দূরে, তখন শেষ নবী মোহাম্মাদে আরাবি (সা.)-এর প্রকাশ হলো। কিন্তু দুর্ভাগ্য যায়েদের, তিনি মহানবী (সা.)-এর সাক্ষাৎ পেলেন না। কারণ মক্কায় পেঁৗছার আগেই একদল ডাকাত তাঁর ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে হত্যা করে। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি যদি আমাকে এ মহাকল্যাণ (দ্বীনে হক) থেকে মাহরুম কর, তার পরও আমার পুত্র সাঈদকে তুমি তা থেকে বঞ্চিত করো না।' মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন। তাই তাঁর পুত্র সাঈদ মহানবী (সা.) ইসলাম প্রচার শুরু করার প্রথম দিকেই সস্ত্রীক মুসলমান হয়ে 'সাবেকিনে আউয়ালিনের' অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।
মহা সত্যের সন্ধানে আজীবন ছুটে চলে সে সত্যের দোরগোড়ায় এসে আৎসর্গকারী বাবার ঔরসে জন্ম নিয়ে হজরত সাঈদ (রা.) তাঁর যৌবনের শুরুতেই সে সত্যকে কবুল করে নিয়ে নিজ জীবনের সর্বস্বকে উজাড় করে দিয়েছিলেন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য। খোদার দুশমন কাফের-মুশরিকদের সীমাহীন নির্যাতনে সত্য ধর্ম থেকে তাঁর হৃদয় বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয়নি। যৌবনের সমুদয় শক্তি সঙ্গে নিয়ে তিনি আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে সব জেহাদেই শরিক হয়েছেন। রাসুলের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে সিরিয়ায় অবস্থান করায় একমাত্র বদর যুদ্ধে অংশ নিতে না পারলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বদরি বলে গণ্য করে গনিমতের অংশ দান করেন। যুদ্ধের ময়দানে তার অসীম সাহসিকতা মুসলিম বাহিনীর জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল। রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি বীরত্বের যে চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে চিরদিন। ঘটনা তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন এভাবে, 'ইয়ারমুকের যুদ্ধে আমরা সৈন্যসংখ্যায় ছিলাম মাত্র ২৬ হাজার। বিপরীত দিকে রোমান সৈন্যদের সংখ্যা ছিল এক লাখ ২০ হাজার। তারা অত্যন্ত দৃঢ়পদক্ষেপে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। তাদের সম্মুখভাগে ছিল ধর্মযাজকদের একটি বিরাট দল। যাদের হাতে ছিল ক্রুশচিহ্ন অঙ্কিত পতাকা আর মুখে প্রার্থনা সংগীত। আর তাদের পেছনে ছিল সুসজ্জিত বিশাল এক সেনাবাহিনী। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হয়ে ব্যাঘ্র গর্জনের মতো হৃদয়ে আঘাত করছিল। তাদের আগ্রাসী ভঙ্গিমা মুসলিম সৈন্যদের মনে কিছুটা হলেও ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। এমন সময় মুসলিম সেনাপতি আবু উবাইদা ইনবুল জাররাহ (রা.) সেনাবাহিনীর উদ্দেশে এক ভাষণ দান করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর বান্দারা! ধৈর্য ধারণ কর। ধৈর্য হলো কুফরি থেকে মুক্তি লাভের উপায়, মহান রবের সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। লজ্জা আর লাঞ্ছনা থেকে বাঁচার পথ। তোমরা তীর, বর্শা শাণিত করে, ঢাল-তরবারি হাতে প্রস্তুত হও। অন্তরে আল্লাহর স্মরণ ছাড়া সব চিন্তা দূর করে দাও। সময় হলে আমি তোমাদের নির্দেশ দেব। হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) বলেন, সেনাপতি আবু উবাইদার ভাষণ শেষ হতে না হতেই মুসলিম সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে এসে আবু উবাইদাকে বললেন, 'আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ মুহূর্তেই আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পেঁৗছে দেওয়ার মতো কোনো সংবাদ আছে কি? তখন আবু উবাইদা (রা.) বললেন, হ্যাঁ আছে। রাসুল (সা.)-কে আমার ও মুসলিম বাহিনীর সালাম পেঁৗছে দিয়ে বলবে, আমাদের সঙ্গে আমাদের রব যে অঙ্গীকার করেছিলেন, আমরা সত্যিই তা পেয়ে গেছি।' হজরত সাঈদ (রা.) বলেন, কথা শেষ হতে না হতেই আমি দেখলাম, লোকটি তরবারি কোষমুক্ত করে শত্রুবাহিনীর দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমি তাঁর এ অবস্থা দেখে আর স্থির থাকতে পারলাম না। বর্শা হাতে প্রস্তুতি নিয়ে আমি অগ্রসর হলাম। শত্রু সৈন্যের মধ্য থেকে যে ঘোড়সওয়ারটি প্রথম আমার দিকে এগিয়ে এল আমি তাকে ধরাশায়ী করে ফেললাম। আল্লাহ সেদিন আমার হৃদয় থেকে ভয়-ভীতি একেবারে দূর করে দিয়েছিলেন। আমি সাহসিকতার সঙ্গে শত্রু সৈন্যদের ভিড়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। এরপর মুসলিম বাহিনী রোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ চালাল। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর মুসলিম বাহিনী রোমানদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। দামেশক অভিযানেও হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর রণকৌশল ও সাহসিকতা দামেশক বিজয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। সেনাপতি আবু উবাইদা (রা.) হজরত সাঈদকে (রা.) দামেশকের ওয়ালি নিয়োগ করেন। তিনি হলেন ইতিহাসের প্রথম মুসলিম ওয়ালী। কিন্তু রক্তে যার যুদ্ধের নেশা, সিংহাসন কি তার ভালো লাগে? হজরত সাঈদ সেনাধ্যক্ষ আবু উবাইদাকে (রা.) লিখলেন, "আপনারা জেহাদ করবেন। আর আমি বঞ্চিত হব। এটা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। চিঠিপ্রাপ্তি মাত্রই আমার জায়গায় কাউকে পাঠিয়ে দিন। আমি সত্বর আপনার কাছে পেঁৗছতে চাই। উপায়ান্তর না দেখে আবু উবাইদা (রা.) ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানকে দামেশকের ওয়ালি হিসেবে নিয়োগ করলেন আর সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) জিহাদের ময়দানে প্রত্যাবর্তন করলেন।
হজরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) ছিলেন সততা ও ন্যায়ের প্রতীক। বিনয়, ভদ্রতা ও ইনসাফের একনিষ্ঠ সাধক। সত্য প্রকাশে ও অন্যায়ের প্রতিবাদে অত্যন্ত সাহসী। একবার হজরত মুগিরা ইবনে শুবা (রা.)-এর সামনে এক কুফাবাসী হজরত আলীকে (রা.) গালাগাল দিতে লাগলে হজরত সাঈদ (রা.) উত্তেজিত হয়ে বলেন, ওহে মুগিরা রাসুলুল্লাহর সাহাবিদের আপনার সামনে গালি দেওয়া হবে, আর আপনি চুপ করে শুনবেন_এটা বরদাশত করা যায় না। আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহর সঙ্গে একটিমাত্র জেহাদে শরিক হয়েছে, রাসুলুল্লাহর সঙ্গে তাঁর মুখমণ্ডল ধূলিযুক্ত হয়েছে। তাঁর জীবনের এই একটিমাত্র কাজ যেকোনো ব্যক্তির জীবনের সব আমল অপেক্ষা উত্তম। যদিও সে নূহ (আ.)-এর সমান হায়াত লাভ করে। ওয়াকেদির বর্ণনা মতে, তিনি সত্তরোর্ধ্বর্ বয়সে আকিক উপত্যকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু সন ৬৭০, মতান্তরে ৬৭১ বা ৬৭২ খ্রিস্টাব্দ। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাঁর লাশের গোসল করান এবং কাফন পরান। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) তার জানাজায় ইমামতি করেন। এরপর রাসুলের এ প্রিয় সাহাবিকে মদিনায় দাফন করা হয়।
লেখক : পেশ ইমাম ও খতিব, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Oct 9, 2010
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment