<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Jan 22, 2011

বনি ইসরাইলদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের ইতিকথা

অনুবাদ
৪৭. হে বনি ইসরাইল, তোমরা আমার সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের দান করেছি। আমি জগতের ওপর তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
৪৮. তোমরা সে দিনটির জবাবদিহিতা সম্পর্কে দায়িত্বনিষ্ঠ হও, যেদিন একজন অপরজনের কোনো কাজে আসবে না। একজনের কাছ থেকে অপরজনের পক্ষে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কারো কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ নেওয়া হবে না এবং কাউকে কোনো রকম সাহায্য করা হবে না।
৪৯. (স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের ফেরাউনের লোকদের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম, তারা তোমাদের ওপর ভীষণ অত্যাচার করত। তারা তোমাদের পুত্রসন্তানদের (জন্মের সঙ্গে সঙ্গে) হত্যা করত এবং কন্যাসন্তানদের জীবিত রেখে দিত। তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এতে এক বড় ধরনের পরীক্ষা নিহিত ছিল।(সুরা-বাকারা : ৪৭-৪৯)
ব্যাখ্যা
রাসুলে করিম (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর মুসলমানদের শক্তি-সামর্থ্য ও ইসলামের ভিত্তিভূমি মজবুত হতে দেখে মক্কার কোরাইশরা ভীষণ ক্ষিপ্ত হতে থাকল। তারা মদিনা আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিল। এ অবস্থায় মদিনার ইহুদি সম্প্রদায়কে সত্যের পথে নিয়ে আসা বা অন্তত নিরপেক্ষ রাখার ব্যাপারে রাসুল (সা.) আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ইহুদিরা কোনো কিছুতেই যেন মনস্থির করতে পারছিল না। এ রকম অবস্থায়ই এ আয়াতগুলোসহ পরবর্তী আরো কতগুলো আয়াত নাজিল হয়েছে। এসব আয়াতে ইহুদি জাতির ইতিহাসের নানা ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। একথা সত্য যে আল্লাহ তায়ালা ইহুদি জাতিকে অনেক সৌভাগ্য দান করেছিলেন। তারা দীর্ঘকাল মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় হিসেবে পৃথিবীতে বিচরণ করেছে। খ্রিস্টপূর্ব অন্তত হাজার বছর আগে তারা ফিলিস্তিনে উত্তম সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। ব্যাবিলন ও মিসরীয় সভ্যতায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। আল্লাহর খলিল মহান পুরুষ ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধর হিসেবে তারা সভ্যতার শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারের দাবিদারও ছিল। এসবের মধ্য দিয়ে তারা হয়ে উঠেছিল দারুণ অহংকারী।
ওই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইহুদিদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও সৌভাগ্য দানের কথা। ৪৭ নম্বর আয়াতে বনি ইসরাইলকে জগতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কথা স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু এ শ্রেষ্ঠত্ব ছিল তাদের সৎকর্ম ও কঠোর সাধনার ফসল। আল্লাহ তাদের জগদ্বাসীর ওপর কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী করে দেননি, এটাই এখানে বলা হয়েছে।
৪৯ নম্বর আয়াতে মিসরের ফারাউ শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে বনি ইসরাইলের বিবাদ, শাসকগোষ্ঠীর অমানবিক অত্যাচার এবং তা থেকে আল্লাহর অনুগ্রহে মুক্তিলাভের কথা বলা হয়েছে। এখানে সে ঘটনারই কথা বলা হয়েছে। পুত্রসন্তানদের মেরে ফেলা এবং কন্যাদের বাঁচিয়ে রাখা_সেটি ঘটেছিল হজরত মুসা (আ.)-এর জন্মের আগে। জ্যোতিষীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ইসরাইল বংশে এমন এক পুরুষের জন্ম হবে যে ফারাউয়ের ক্ষমতা কেড়ে নেবে। এ অবস্থার মধ্য দিয়েই আল্লাহ তায়ালা মুসা (আ.)-কে ফেরাউনের ঘরে মানুষ হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: