অনুবাদ
৪০. হে বনি ইসরায়েল জাতি, তোমাদের আমি যেসব নিয়ামত দিয়েছি তোমরা সেগুলো স্মরণ করো এবং আমার আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি পূরণ করো; তাহলে আমিও তোমাদের পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর তোমরা একমাত্র আমার সঙ্গেই অঙ্গীকারবদ্ধ থাকো।৪১. আর আমি যা নাজিল করেছি (কোরআন) তোমরা এর ওপর ইমান আনো। এ কোরআন তোমাদের কাছে যা আছে (তাওরাত) এর সত্যায়নকারী। তোমরা কোনোক্রমেই এর প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হইও না। আমার আয়াতগুলো তোমরা অল্প মূল্যে (ক্ষুদ্র স্বার্থে) বিক্রি কোরো না এবং আমার প্রতি তোমরা দায়িত্বনিষ্ঠ হও।৪২. তোমরা মিথ্যাকে সত্যের আবরণ দিয়ো না এবং জেনেশুনে সত্য লুকিয়ে রেখো না।(সুরা : বাকারা : আয়াত ৪০-৪২) ব্যাখ্যা
মদিনা ও এর আশপাশে বসবাসরত ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াতসমূহ নাজিল হয়েছে। আমরা জানি, মক্কার মুশরেক কোরাইশদের অত্যাচারে বিপন্ন হয়ে রাসুলে করিম (সা.) ইয়াসরেব বা মদিনার কিছু সত্যান্বেষী মানুষের আহ্বানে সেখানে হিজরত করেছিলেন। মদিনার বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে ইহুদি গোত্রগুলোর বেশ প্রাধান্য ছিল। ইহুদিরা তাদের তাওরাত গ্রন্থের মাধ্যমে শেষ নবীর আগমন সম্পর্কে অবহিত ছিল। শেষ নবী কোরাইশ বংশে জন্মাবেন, এটাও ইহুদি আলেমদের অনেকেই জানতেন। উল্লেখ্য, ইহুদিরা নিজেদের অত্যন্ত অভিজাত এবং আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত বলে বিশ্বাস করত। তারা বিশ্বাস করত তারাই জগতের শ্রেষ্ঠ জাতি; কোরাইশরাসহ অন্য জাতিগোষ্ঠীর লোকেরা তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট। তারা আরো বিশ্বাস করত যে আল্লাহ তাদের ভবিষ্যতে পুরো মানবগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার দেবেন। কোরাইশ বংশোদ্ভূত নবী মুহাম্মদ (সা.) যখন কোরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে আসেন তখন ইহুদিরা কিছুটা আনন্দিতই হয়ে উঠেছিল। তারা ভেবেছিল কোরাইশদের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা নবীকে হাতে নিয়ে হয়তো তারা ইহুদিপ্রাধান্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই তাদের সেই মোহ ভঙ্গ হয়ে যায়। তারা দেখতে পেল নবী মুহাম্মদ (সা.) তাদের মতলববাজ আলেমদের দেওয়া তাওরাতের উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন না। বরং তিনি সত্যকে গ্রহণ করার কথা বলছেন, তাতে মানুষের ওপর মানুষের কর্তৃত্ব, বিশেষ করে দুর্বলের ওপর সবলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার আশঙ্কা একেবারে নেই। এ অবস্থায় তারা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে প্রচ্ছন্নভাবে শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওই আয়াতসমূহ নাজিল হয়।
এখানে বনি ইসরায়েল সম্প্রদায়কে বেশ সমীহ করে তাদের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের বর্তমান বিভ্রান্তি থেকে বিরত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইহুদিদের তাওরাত কিতাব এবং বর্তমান কোরআন উভয় যে আল্লাহর বাণী, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এখানে তাওরাতকে বিকৃত করা ও এর উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যা করা থেকে তাদের বিরত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেনে-বুঝে মিথ্যাকে সত্য দিয়ে আড়াল করা এবং প্রকৃত সত্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে লুকিয়ে রাখার যে অপকৌশল ইহুদিরা গ্রহণ করেছিল, তার স্বরূপ এখানে উন্মোচিত করে দেওয়া হয়েছে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment