অনুবাদ : ১৬৩। আর তোমাদের মাবুদ; তিনি তো একই মাবুদ, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, তিনি করুণাময় ও দয়ালু।১৬৪। নিঃসন্দেহে আকাশমণ্ডল ও জমিনের সৃষ্টির মধ্যে, রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে, সাগরে ভাসমান জাহাজগুলোর মধ্যে_যা মানুষের জন্য কল্যাণকর দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে ঘুরে বেড়ায়_আল্লাহ তা'আলার নিদর্শন মজুদ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আকাশ থেকে যে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এর দ্বারা নির্জীব হয়ে যাওয়া ভূমি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতঃপর এই ভূমিতে বিচিত্র প্রাণিকুলের আবির্ভাব ঘটান; অবশ্যই বাতাসের প্রবাহ সৃষ্টি করার মধ্যে এবং সেই মেঘমালা, যা আকাশ ও জমিনের মধ্যে বশীভূত করে রাখা হয়েছে, তার মধ্যে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।১৬৫। মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে তাঁর সমকক্ষ মনে করে। আর তারা এগুলোকে এমন ভালোবাসে, যেমনটি শুধু আল্লাহকেই ভালোবাসা উচিত। আর যারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনে, তারা তো তাঁকে সর্বাধিক ভালোবাসে। যারা বাড়াবাড়ি করছে, তারা যদি এর শাস্তি স্বচক্ষে দেখতে পেত! সমগ্র বিশ্বজগতের শক্তি একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।
ব্যাখ্যা : উলি্লখিত আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর স্বরূপ উন্মোচিত করা হয়েছে। আল্লাহর অস্তিত্ব আসলে কী এবং কী রকম, তা এখানে খানিকটা স্পষ্ট করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৬৩ নম্বর আয়াতটি আল্লাহর মৌলিক পরিচয়বাহী। একত্ববাদের মৌলিক ঘোষণা এই আয়াতের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। কোরআন মজিদের সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ আয়াতগুলোর মধ্যে এটি একটি। কিন্তু এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর মক্কার কুরাইশ বংশীয় কাফিররা বলাবলি করতে থাকে, আমাদের পূর্বপুরুষরা ৩৬০টি দেব-দেবীর উপাসনা করে আসছে। এত দেব-দেবী মক্কা নগরীকে সুচারুভাবে চালাতে হিমশিম খায়, অথচ মুহাম্মদ (সা.) কিনা বলছেন পৃথিবীর সবার মাবুদ মাত্র এক আল্লাহ। তিনিই নাকি সারা বিশ্বের যাবতীয় কাজ নির্বাহ করে থাকেন। এটা কেমন করে সম্ভব! তাঁর এই দাবি সত্য হলে তিনি এর পক্ষে প্রমাণ হাজির করুন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলা পরবর্তী আয়াতগুলো নাজিল করেন। এই আয়াতে তাঁর সৃষ্ট বিশ্বজগতে তাঁর একক ক্ষমতার নিদর্শনগুলো বর্ণনা করেছেন। ১৬৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সৃষ্ট প্রকৃতির ভেতর দিয়ে তাঁর একক ও অসীম ক্ষমতার প্রকাশ কিভাবে ঘটে, তা বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনায় আল্লাহর একক নিয়ন্ত্রণের অধীনে বিশ্বজগতের শৃঙ্খলার কতিপয় উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।
১৬৫ নম্বর আয়াতে মুশরিকদের দেব-দেবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। ভালোবাসা তো হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর প্রতি। এই আয়াত দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয়, আল্লাহ তা'আলা ভালোবাসার পাত্র; ভয়ের পাত্র নন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment