<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Feb 9, 2011

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্দেশ

অনুবাদ২৩০. যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তৃতীয় বা চূড়ান্ত তালাক দিয়েই দেয়, তাহলে এ স্ত্রী তার জন্য আর বৈধ হবে না, যদি না তাকে অপর কোনো স্বামী বিয়ে করে এবং পরে কোনো কারণে যথারীতি তালাক দেয়; পরে তারা যদি মনে করে তারা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলতে পারবে তাহলে পুনরায় বিবাহবন্ধনে ফিরে আসতে কোনো দোষ নেই; এটা হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া স্বীমারেখা, তিনি তা বর্ণনা করেছেন মানবজাতির জন্য, যেন তারা জানতে পারে।
২৩১. যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা যখন ইদ্দত পূর্ণ করে তখন হয়তো মর্যাদার সঙ্গে তাদের ফিরিয়ে আনো, অন্যথায় ভালোভাবে তাদের বিদায় দাও। কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের কখনো আটকে রেখো না; এতে তোমরা আল্লাহর সীমারেখাই লঙ্ঘন করবে। আর যে ব্যক্তি এমন কাজ করে, সে প্রকারান্তরে নিজের ওপরই জুলুম করে। আল্লাহর নির্দেশগুলোকে তামাশা মনে করো না। আল্লাহ তোমাদের ওপর নেয়ামত দান করেছেন, তা স্মরণ করো। তিনি তোমাদের জন্য জ্ঞান ও যুক্তিপূর্ণ কিতাব নাজিল করেছেন, যা তোমাদের নিয়মকানুন বাতলে দেয়। অতঃপর তোমরা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ হও, জেনে রেখো, তিনি তোমাদের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।[সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩০-২৩১] ব্যাখ্যা  এ আয়াতের মাধ্যমেও তালাকসংক্রান্ত কতগুলো বিধিবিধান জারি করা হয়েছে। ২৩০ নম্বর আয়াতে তালাক চূড়ান্ত হয়ে গেলে পরে সেই স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে বিধান কী, তা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়, তালাক চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর তারা আবার বিবাহবন্ধন স্থাপন করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, তাদের যদি অন্যত্র বিয়ে হয় এবং সেখানে তালাক হয় তখন আগের স্বামীর সঙ্গে আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে, যদি তারা মনে করে যে দাম্পত্য সম্পর্ক সুখময় করা সম্ভব হবে, তথা আল্লাহর নির্দেশিত সীমারেখার মধ্যে থাকবে।
এ আয়াতটির অপব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দেশের অশিক্ষিত সমাজে নারীর ওপর অনেক সময়ই অবিচার করা হয়। এখানে চূড়ান্ত তালাক হয়ে যাওয়ার পরের কথা বলা হয়েছে। চূড়ান্ত তালাক মানে শুধু মুখে তিন তালাক উচ্চারণ করাই নয়। আর একবারে তিন তালাক উচ্চারণ করা তো তালাক প্রদানের কোনো ব্যবস্থাই নয়। হানাফি মাজহাবে তালাক বিষয়টিকে শাব্দিক অর্থে গ্রহণ করে কিছু মতবিরোধ তৈরি করা হয়েছে। পরে অতিমাত্রায় রক্ষণশীলতার কারণে এ ব্যাপারে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ আয়াতে এমন চূড়ান্ত তালাককেই তালাক বলা হয়েছে, যাতে ইদ্দত শেষে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আর না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ রকম ক্ষেত্রে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সঙ্গে পুনর্বিবাহ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং এ জন্য অন্য ঘরে বিয়ে হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের অশিক্ষিত সমাজে একবারে তিন তালাক বলাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী তালাকের ফতোয়া দিয়ে পাতানো সংসার ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরে অনিবার্য কারণে বিচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য 'হিল্লা' বা হালাল করার এক ঘৃণ্য ব্যবস্থাও উদ্ভাবন করা হয়েছিল।
২৩১ নম্বর আয়াতে তালাক ব্যবস্থাটিকে দুর্বল স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করার ব্যবস্থা হিসেবে না নিয়ে অধিকতর মানবিক করে তোলার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এই আয়াতে আল্লাহর নির্দেশকে তামাশা মনে না করার কথা বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: