অনুবাদ১৬৭. হে ইমানদাররা, তোমরা নিজেরা যা অর্জন করেছ, সেই পবিত্র সম্পদ থেকে এবং যা আমি জমিনের ভেতর থেকে তোমাদের জন্য বের করে এনেছি তা থেকে উৎকৃষ্ট অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। এমন নিকৃষ্টতম জিনিসগুলো দান করো না, যা অন্যেরা তোমাদের দিলে তা গ্রহণ করতে চাইবে না; অবশ্য যা কিছু অনিচ্ছাকৃত ভাবে গ্রহণ করা হয়ে যায় তা আলাদা। জেনে রেখো, আল্লাহ কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন। সব প্রশংসা তো তাঁরই প্রাপ্য।২৬৮. শয়তান সব সময়ই তোমাদের অভাব অনটনের ভয় দেখাবে এবং অশ্লীল ও অসৎ কর্মকাণ্ডের পরামর্শ দেবে। আর আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে তাঁর কাছ থেকে অসীম ক্ষমা ও বরকতের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সম্যক অবগত। ২৬৯. আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে প্রজ্ঞা দান করেন, যাকে প্রজ্ঞান দান করা হয় তাকে প্রচুর কল্যাণ দান করা হলো। আর বিচক্ষণ ব্যক্তিরা ছাড়া এসব বিষয় থেকে কোনো শিক্ষা লাভ করতে পারে না।
২৭০. তোমরা যা কিছু খরচ করো আর যা কিছু খরচ করার জন্য মানত করো, আল্লাহ অবশ্যই তা জানেন। জালেমদের প্রকৃত কোনো সাহায্যকারী নেই।[সুরা বাকারা, আয়াত : ২৬৭-২৭০]
ব্যাখ্যা : ২৬৭ নম্বর আয়াতটির শানে নুজুল এ রকম : ইসলাম প্রচারের কাজে প্রতিনিয়তই যে অর্থ ব্যয় হতো রাসুল (সা.) তা মুসলমানদের কাছ থেকে দান আকারে গ্রহণ করতেন। সাহাবিরা শুধু নগদ অর্থই প্রদান করতেন না, খাদ্যশস্যসহ নানা দ্রব্যসামগ্রী তাঁরা দান করতেন। দেখা গেছে, কোনো কোনো লোক দানের উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.)-এর খেদমতে নিকৃষ্ট বস্তু নিয়ে উপস্থিত হয়। এ সম্পর্কেই এ আয়াতটি নাজিল হয়েছে। এ আয়াতের মূল বক্তব্য হলো ভালো বস্তু নিজের কাছে থাকা অবস্থায় নিকৃষ্ট বস্তু দান করা উচিত নয়। এ রকম দানে কোনো সওয়াব হবে না।
এর পরের তিনটি আয়াতেও মূলত দানের কথা এবং প্রজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। সম্পদ আল্লাহর পথে বা সৎপথে ব্যয় করা এক মহৎ কাজ। সম্পদশালীদের এ কাজ করা উচিত সমাজের কল্যাণচিন্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, তথা আল্লাহর ওয়াস্তে। শয়তান মানুষকে দানের পথে বাধা সৃষ্টি করে সম্পদ কমে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে, আর খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করাই তো শয়তানের বৈশিষ্ট্য। তবে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে শয়তানের খপ্পর থেকে মুক্ত হয়ে মহৎ কাজের দিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ২৬৯ নম্বর আয়াতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহ যাকে চান প্রজ্ঞা দান করেন, আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হলো, তাকে বিপুল কল্যাণ দান করা হলো। প্রজ্ঞা জ্ঞানের চেয়েও গভীরতর বিষয়। প্রজ্ঞা অর্থ উপলব্ধির ক্ষমতা এবং যথাযথ কৌশল প্রয়োগের দক্ষতা। এই প্রজ্ঞা মানুষের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ। এই গুণ আল্লাহ যাঁকে দান করেন তাঁকে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য দান করলেন। বস্তুগত ধনসম্পদ ও বিষয়-সম্পত্তির চেয়ে এই প্রজ্ঞা বা 'হেলম' এর গুরুত্ব অনেক বেশি। এই তাৎপর্যপূর্ণ উক্তিটি করার পর আবার বলা হয়েছে, বিচক্ষণ ব্যক্তিরা ছাড়া এসব বিষয় থেকে অন্যরা তেমন কোনো শিক্ষা লাভ করতে পারবে না। অর্থাৎ প্রজ্ঞা নামক সৌভাগ্য বোঝার জন্যও যথেষ্ট মানবিক গুণ বা বিচক্ষণতা দরকার। অভাবগ্রস্তদের সম্পদ দান করার উপদেশের পাশাপাশি উচ্চতর মানবিক গুণের কথাও এখানে উল্লেখ করা হলো।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)




No comments:
Post a Comment