<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Feb 5, 2011

অতীতের বকেয়া সব সুদ পরিত্যাগ করার নির্দেশ


অনুবাদ২৭৬। আল্লাহ তায়ালা সুদ ধ্বংস করেন এবং দান-খয়রাতকে উৎসাহিত করেন, আল্লাহ অবাধ্য ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের কখনো পছন্দ করেন না।
 
২৭৭। অবশ্যই যারা আল্লাহর ওপর ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং জাকাত আদায় করেছে তাদের জন্য কোনো ভয় নেই, কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। 
 
২৭৮। হে ইমানদার লোকেরা তোমরা (সুদের ব্যাপারে) আল্লাহর প্রতি দায়িত্বনিষ্ঠ হও, আগের সুদি কারবারের যে বকেয়া আছে তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহর ওপর ইমান এনে থাকো।[সুরা বাক্বারা, আয়াত : ২৭৬-২৭৮]
ব্যাখ্যা : এই আয়াতগুলোও সুদ পুরোপুরি পরিত্যাগের প্রসঙ্গে এসেছে। আল্লাহ তায়ালা সুদকে ধিক্কার জানান এবং দান-খয়রাতকে উৎসাহিত করেন।
সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত এখানে তাই তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা দেখতে চান বৈষম্যহীন সাম্যের সমাজ সেখানে শোষণ থাকবে না এবং দরিদ্র ও অক্ষমদের জন্য আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা থাকবে। শোষণ ও বৈষম্য দূরীকরণের অন্যতম ব্যবস্থা হলো সুদ পরিহার করা। বিশেষ করে মহাজনি ধরনের ঋণের সুদ সমাজে শোষণ ও বৈষম্য বাড়ায়। এ জন্য সুদকে ধিক্কার জানিয়ে এর নিপাতের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে দান-খয়রাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে সমাজের দুস্থ অসহায়দের জীবনে নিরাপত্তা সৃষ্টি হয় এবং সমাজব্যবস্থা জনকল্যাণের লক্ষ্যে অগ্রসর হয়। এখানে ইমান, সৎকাজ, সালাত প্রতিষ্ঠা ও জাকাত আদায়কে কল্যাণমুখী কাজ হিসেবে এক কাতারে শামিল করা হয়েছে। যারা এই নীতি ও আদর্শের পথে চলবে, তাদের জন্য অভয়বাণী ঘোষণা করা হয়েছে।
২৭৮ নম্বর আয়াতে খুব স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, অতীতের সুদি কারবারের যে বকেয়া আছে তা পরিত্যাগ করার কথা। সুদ মওকুফ নয় বরং সুদ প্রত্যাহার। মহাজনি ধরনের ঋণের বেলায় সুদের সংজ্ঞা কী তা শরিয়তে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। তবে আধুনিককালে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ বা ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপারে মুনাফা, সার্ভিস চার্জ ও সুদের মধ্যে পার্থক্য কী সেসব বিষয় যুক্তি, বুদ্ধি ও বিবেক কাজে লাগিয়ে জীবনঘনিষ্ঠভাবে নিরূপণ করা দরকার।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাংলাদেশে কতিপয় ধার্মিক গোষ্ঠী সুদ পরিহার করার নামে এমন সব ঋণের প্রবর্তন করেছে, যা সুদের চেয়ে আরো বেশি শোষণমূলক। সুতরাং কায়দা করে সুদের নাম পরিহার করে শোষণব্যবস্থা বহাল রাখলে তা ইসলামের দৃষ্টির অনুকূল হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণকে কিভাবে সুদমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী করা যায়, সে ব্যাপারে এখন ভাববার সময় এসেছে।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: