অনুবাদ
২৭৪. যারা দিন-রাত প্রকাশ্যে ও গোপনে নিজেদের ধনসম্পদ ব্যয় করে, তাদের জন্য প্রভুর দরবারে এ দানের প্রতিফল রয়েছে। তাদের জন্য কোনো ভয়ভীতি ও দুশ্চিন্তার কারণ নেই।২৭৫. যারা সুদ খায়, তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না, দাঁড়ালেও তার দাঁড়ানো হবে সেই ব্যক্তির মতো_যাকে শয়তান নিজের পরশ দিয়ে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। এটা এ কারণে যে তারা বলে, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সুদের মতোই। আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের কাছে তার প্রভুর পক্ষ থেকে এ উপদেশ পেঁৗছেছে, সে এরপর সুদের কারবার থেকে বিরত থাকবে। আগে (অর্থাৎ এ আদেশ আসার আগ পর্যন্ত) যে সুদ সে খেয়েছে, তা তো অতিবাহিত হয়েই গেছে। তার ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহতায়ালাই সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু এরপর যে ব্যক্তি সুদি কারবারে ফিরে আসবে, তারা অবশ্যই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।[সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৪-২৭৫]
ব্যাখ্যা
২৭৪ নম্বর আয়াতটি এসেছে আগের প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতায়। এখানে দানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ খরচ করার জন্য মানুষকে উৎসাহী করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যাঁরা প্রকাশ্যে এবং গোপনে ধনসম্পদ দান করবেন তাঁরা আল্লাহর কাছ থেকে এর প্রতিফল পাবেন।
পরবর্তী প্রসঙ্গ অর্থাৎ ২৭৫ নম্বর আয়াতে এসেছে সুদ হারাম হওয়াসংক্রান্ত নির্দেশের বিবরণ। আরবে ইসলামপূর্ব যুগে সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল, যেমন_বাংলাদেশেও ব্রিটিশ আমলে সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল। তবে মহাজনি সুদ একটা নিন্দনীয় কারবার। সুদ যারা খাবে, তারা সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না_যদি সেই সমাজ সুস্থ হয়। সুদখোররা নিন্দনীয় হয়ে মাথা নিচু করেই থাকবে, যদি তারা অনেক ধনসম্পদের মালিকও হয়। তারা শয়তানের প্ররোচনায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে থাকবে এই পৃথিবীতে, আর পরকালেও তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
সুদ খাওয়া নিষিদ্ধ করে এই আয়াত যখন নাজিল হয়, তখন মুসলমানদের কেউ কেউ সুদের সঙ্গে জড়িত ছিল; সুতরাং অতীতে যে সুদ খাওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে আল্লাহ মাফ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং আগামী দিনে আর সুদ না খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সুদ এবং ব্যবসা যে এক নয়, তা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। কারণ সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কেউ কেউ যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করত যে সুদ আর ব্যবসা তো একই রকম। সুতরাং পরিষ্কারভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, সুদ হারাম এবং ব্যবসা হালাল।
প্রাচীনকালে এক ধরনের ঋণ এবং ঋণের সঙ্গে সুদ ব্যবস্থাই প্রচলিত ছিল। সেটা হলো মহাজনি ঋণ ও এর সুদ। আধুনিককালে সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আধুনিককালে প্রধানত তিন ধরনের ঋণব্যবস্থা সমাজে প্রচলিত আছে। যেমন_মহাজনি ঋণ, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ। মহাজনি ঋণ খুবই নিন্দনীয় ও শোষণমূলক। এটা প্রাচীনকালে যেমন ছিল, বর্তমানেও তেমনি আছে; তবে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও ক্ষুদ্রঋণ কিছুটা ভিন্ন ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা। উল্লেখ করা প্রয়োজন, প্রাতিষ্ঠানিকতা আধুনিককালের এক উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ অর্জনকে মহাজনি ঋণের সুদের দ্বারা কলুষিত করা উচিত কি না বা এর বিকল্প কী ব্যবস্থা আছে, তা এখন মুসলিম সমাজের চিন্তাবিদদের ভাবনার বিষয় হওয়া উচিত।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Feb 5, 2011
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


No comments:
Post a Comment