অনুবাদ
২৫৭. যারা ইমান আনে, আল্লাহ তাদের সাহায্যকারী বন্ধু। তিনি মূর্খতার সীমাহীন অন্ধকার থেকে তাদের আলোতে বের করে আনেন। (অন্যদিকে) যারা সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের সাহায্যকারী বন্ধু তো মিথ্যা বা বাতিলই রয়ে গেল। এরা তাদের আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরদিন থাকবে।২৫৮. (হে নবী) আপনি কি সেই ব্যক্তির অবস্থা দেখেননি, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ দুনিয়ায় রাজত্ব দেওয়ার পর সে ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ্র ব্যাপারেই বিতর্কে লিপ্ত হলো। ইব্রাহিম (আ.) বললেন, আমার প্রভু তো তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন। সে বলল, আমিও তো জীবন ও মৃত্যু দিতে পারি। ইব্রাহিম বললেন, আল্লাহ পূর্ব দিক থেকে সূর্যের উদয় ঘটান; তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে বের করে দেখাও তো! এতে সত্য অস্বীকারকারী ব্যক্তিটি (নমরুদ) হতভম্ব হয়ে গেল। আল্লাহ জালিম জাতিকে কখনো পথের দিশা দেন না।[সুরা আল-বাকারা, আয়াত :২৫৭-২৫৮]
ব্যাখ্যা
২৫৭ নম্বর আয়াতেও ইতিপূর্বে বর্ণিত আয়াতুল কুরসির ধারাবাহিকতায় আল্লাহ তায়ালার চারিত্রিক পরিচয় এবং মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে এর সম্পর্কের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর ওপর ইমান আনার অর্থ হলো আলোর পথে আসা এবং আল্লাহর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার অর্থ হলো অন্ধকারের দিকে ধাবিত হওয়া। আল্লাহর ওপর যে ব্যক্তি ইমান আনে, আল্লাহ তার বন্ধু হয়ে যান। অর্থাৎ তার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলির বিকাশ ঘটে। সেই ব্যক্তি অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোর দিকে ধাবিত হয়। আর যে আল্লাহর ওপর ইমান আনে না, সেই ব্যক্তি তো মিথ্যার বন্ধু। মিথ্যা তাকে অজ্ঞতার অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। তারা জাহান্নামবাসী এবং তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
২৫৮ নম্বর আয়াতে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সংগ্রামের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। বাবেলের মহাপরাক্রমশালী সম্রাট নমরুদের সঙ্গে একত্ববাদ সম্পর্কে তার যুক্তিতর্কের সংগ্রামের কথা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। সম্রাট নমরুদ, ইতিহাসে বর্ণিত নুরেম গোয়েন, ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পিতৃব্য। পূর্বপুরুষের বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী ছিলেন নমরুদ। কিন্তু নমরুদ এবং তাঁর ভাই আজর_এরা সবাই ছিলেন চরম পথভ্রষ্ট।
ইব্রাহিম কৈশোরেই তাদের সত্যের পথে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা বালক ইব্রাহিমের কথা শুনতে যেমন রাজি হয়নি, তেমনি ভ্রান্ত পথ ছেড়ে সত্যের পথেও আসেনি। এই আয়াতে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং সম্রাট নমরুদের মধ্যকার কিছু কথোপকথন বর্ণনা করা হয়েছে। নমরুদের রাজত্ব ছিল অন্যায়-অত্যাচারের ওপর। সবচেয়ে বড় কথা, নমরুদ স্বয়ং আল্লাহর ক্ষমতাকেই অস্বীকার করেছিল। ইব্রাহিম (আ.) যখন বললেন, জীবন-মৃত্যুর মালিক তো একমাত্র আল্লাহ, তখন নমরুদ বলল, 'আমিও তো জীবন-মৃতুর প্রভু।' সে যখন যাকে ইচ্ছা মেরে ফেলত এবং যাকে ইচ্ছা বাঁচতে দিত। ইব্রাহিম (আ.) দেখলেন, ন্যায়-অন্যায়ের তর্কে তার সঙ্গে পারা যাবে না। তিনি গেলেন প্রকৃতির বিধানের প্রশ্নে। বললেন, আল্লাহ পূর্ব দিক থেকে সূর্যের উদয় ঘটান; তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উঠিয়ে দেখাও। নমরুদ তখন আর কোনো জবাব খুঁজে পেল না। তবু নমরুদ হিদায়াতের পথে আসেনি, তার জাতিও পথের দিশা পায়নি। বাবেল সাম্রাজ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


No comments:
Post a Comment