অনুবাদ
৬৭. ইব্রাহিম ইহুদি ছিলেন না, খ্রিস্টানও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলমান। তিনি কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলেন না।৬৮. মানুষের ভেতর ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের বেশি অধিকার তো আছে সেসব লোকের, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে। এই নবী অর্থাৎ হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর ওপর ইমান আনয়নকারীরাই হচ্ছে ইব্রাহিম (আ.)-এর ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি। আল্লাহতায়ালা একমাত্র তাদেরই সাহায্যকারী, যারা তাঁর ওপর ইমান আনে।৬৯. আহলে কিতাবদের একটি দল তোমাদের কোনো না কোনোভাবে পথভ্রষ্ট করে দিতে চায়; যদিও তাদের এ বোধটুকু নেই যে তাদের এসব কারসাজি তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না।৭০. হে আহলে কিতাবরা, তোমরা জেনে-বুঝে কেন আল্লাহর আয়াতের প্রতি অবাধ্য হচ্ছ অথচ তোমরা নিজেরাই তো এসব আয়াতের সাক্ষী।[সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৬৭-৭০]
ব্যাখ্যা
এ আয়াতগুলোতেও মানবজাতির এক আদি পিতা ইব্রাহিমের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে একত্ববাদের মর্মবাণী মানুষের বোধগম্য করানোর প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। ইহুদিরা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর উত্তরাধিকার দাবি করে আবার খ্রিস্টানরাও তার উত্তরাধিকার দাবি করে। সেটা তারা করতেই পারে অন্তত রক্তের সম্পর্কের দিক থেকে। তবে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আদর্শিক উত্তরাধিকার বা একত্ববাদের মূল ভাবাদর্শ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা সঠিকভাবে ধারণ করে না। তারা ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধর হলেও তাঁর ভাবাদর্শ ও শিক্ষাকে তারা বিকৃত করে ফেলেছে। এ জন্যই বলা হয়েছে, হজরত ইব্রাহিম ইহুদিও ছিলেন না, খ্রিস্টানও ছিলেন; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম। মুসলিম বলতে এখানে মুসলমান সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়নি, বরং একত্ববাদ বা তাওহিদের অনুসরণ বোঝানো হয়েছে এবং আল্লাহর সব নবীরাই যে অর্থে মুসলমান, সেই অর্থে মুসলমান বোঝানো হয়েছে। এ জন্যই ৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কের বেশি অধিকার তো তাদের, যারা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করছে। অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টানরা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রকৃত আদর্শ অনুসরণ করছে না, বরং প্রকৃত আদর্শ অনুসরণ করেছে নবী মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর প্রকৃত অনুসারীরা। এ কারণেই নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর ইমান আনয়নকারী ও তাঁর অনুসারীরাই তাঁর ঘনিষ্ঠ উত্তরাধিকারী।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দুই ছেলে ছিলেন। হজরত ইসমাইল (আ.) ও হজরত ইসহাক (আ.)। তাঁরা দুজনই নবী ছিলেন। হজরত ইসহাক (আ.)-এর বংশধররা পরে বনি ইসরাইল বা ইহুদি নামে অভিহিত হয়। এই বংশেই সর্বাধিক নবীর জন্ম। খ্রিস্ট ধর্মের নবী হজরত ঈসা (আ.)-ও এই বংশেই জন্মগ্রহণ করেন। অন্যদিকে ইসমাইল (আ.)-এর বংশধর আরবরা। এ বংশে আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম। এ ছাড়া এ বংশে আর কোনো নবী আছেন কি না জানা নেই। এসব কারণেই ইহুদি ও খ্রিস্টানরা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে এর উত্তরাধিকারী ও অনুসারী বলে দাবি করত।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)




No comments:
Post a Comment