<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Jan 7, 2011

ইসলাম মধ্যপন্থী মানব সম্প্রদায়ের ধর্ম

অনুবাদ : ১৪২. এখন তো নির্বোধরা বলতে শুরু করবে যে তারা আগে যেদিকে মাথা নোয়াত, সেই কেবলার দিক থেকে কিসে তাদের ফিরিয়ে দিল। (হে নবী) আপনি বলে দিন, পূর্ব-পশ্চিম সবই আল্লাহর, আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
১৪৩. এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী মানব সম্প্রদায়ে পরিণত করেছি, যেন তোমরা দুনিয়ার অন্যান্য মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পার, আর রাসুল (সা.) হবেন তোমাদের ওপর সাক্ষী; যে কেবলার ওপর তোমরা এত দিন প্রতিষ্ঠিত ছিলে, আমি তা এ উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করেছিলাম যেন জেনে নিতে পারি, তোমাদের মধ্যে কে রাসুলের অনুসরণ করে আর কে তাঁর কথা থেকে ফিরে যায়। আল্লাহ তায়ালা যাদের হেদায়েত দান করেছেন, তাদের ছাড়া অন্যদের ব্যাপারে এটা সত্যিই কঠিন বিষয়। আল্লাহ তায়ালা কখনোই তোমাদের ইমান বিনষ্ট করবেন না; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মানুষের সঙ্গে খুবই দয়ালু এবং একান্ত মেহেরবান।(সুরা বাকারা, আয়াত ১৪২-১৪৩)
ব্যাখ্যা : শানেনুযুল : নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরত করার পরও ১৬ থেকে ১৭ মাস পর্যন্ত বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন। এরপর তিনি আবার মক্কার কাবাগৃহের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তে আদিষ্ট হলেন। এতে ইহুদি সম্প্রদায় তো বটেই, এ ছাড়াও মুনাফিক এবং কোনো কোনো মুশরিকও নানা ধরনের সমালোচনায় লিপ্ত হলো। এ পরিস্থিতিতেই ওই আয়াতগুলো নাজিল হয়। ইহুদিরা যেসব সমালোচনা করতে থাকল, সেগুলো ছিল এ রকম : নামাজে মক্কার কাবাঘরের দিকে মুখ করতে আদেশ করা হলে ইহুদিরা বলতে থাকে, মক্কার কাবাই যদি আসল কেবলা হয়ে থাকে, তবে এত দিন বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে যে নামাজ পড়া হয়েছে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, আর ইতিমধ্যেই যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। ওই আয়াতগুলোতে এসব উক্তির অসারতা বর্ণিত হয়েছে।
১৪৩ নম্বর আয়াতে উম্মতে মুহাম্মদিকে উম্মতে 'ওয়াসাত' বা মধ্যপন্থী সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবলা পরিবর্তনের তাৎপর্য এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাৎপর্যের মধ্যে স্পষ্টতই একটা যোগসূত্র আছে। ইসলাম ধর্ম সত্যের উপাসনায় বিশ্বাসী, কেবলার উপাসনায় নয়। কেবলা বায়তুল্লাহ হোক বা বায়তুল মুকাদ্দাস হোক_এতে তেমন কিছু যায়-আসে না। আসল বিষয় হচ্ছে, মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যে দৃঢ় কি না। আয়াতগুলোতে এ কথা অনেকটা স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে। আর মধ্যপন্থা মানে আদর্শহীনতা নয়, বরং আদর্শের সুদূরপ্রসারী দৃঢ়তা। আল্লাহ তায়ালা যে উম্মতে মুহাম্মদিকে বিশ্বজনীন উম্মত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন_এটা এ আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। ইসলাম ধর্ম সত্য ও অসত্যের মাঝামাঝি পথ নয়, ইসলাম ধর্ম পৃথিবীর সব জাতি, গোষ্ঠী, বর্ণ, ভাষা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ঐক্যবদ্ধ করার ধর্ম।

গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: