অনুবাদ ১৪৮. প্রত্যেক জাতির জন্যই একটা দিক নির্দিষ্ট থাকে, যেদিকে মুখ করে তারা ইবাদত করে, অতএব তোমরা কল্যাণের দিকে অগ্রসর হওয়ার কাজে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যে যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সমবেত করবেন; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।১৪৯. তুমি যেকোনো স্থান থেকেই বেরিয়ে আস না কেন, নামাজের জন্য মসজিদে হারামের দিকে মুখ ফেরাও, কেননা এটাই তোমার প্রভুর কাছ থেকে সত্যিকার সিদ্ধান্ত; আর আল্লাহ তোমাদের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে উদাসীন নন।১৫০. যেদিক থেকেই তুমি বেরিয়ে আসবে, মসজিদে হারামের দিকে মুখ করে নামাজে দাঁড়াও। যেখানেই তুমি থাক না কেন, কাবাগৃহ মুখ করে নেবে, তা হলে সমালোচক লোকদের কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর মতো কোনো যুক্তি থাকবে না; এদের মধ্যে যারা বাড়াবাড়ি করে, তাদের কথা আলাদা; তোমরা এসব লোকদের ব্যাপারে মনোযোগী হয়ো না; বরং আমার প্রতি মনোযোগী হও, যাতে করে আমি তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিতে পারি, আশা করা যায়, তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা : এখানে এ আয়াতগুলোর মাধ্যমে মক্কার কাবাঘর বা মসজিদুল হারামকে মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল ঘোষণা করা হয়েছে। কিবলা যেকোনো জাতি বা সম্প্রদায়ের ঐক্যের অন্যতম অবলম্বন। ১৪৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে_ এ ধরনের কিবলা বা কেন্দ্র অতীতে অনেক জাতির ঐক্যের অবলবম্বন ছিল। এর ধারাবাহিকতাই মুসলমানদের ধর্মীয় কিবলা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আয়াতে কিবলার গুরুত্ব এবং তাৎপর্যও বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমবেত বা জমায়েত করবেন। জমায়েতের বিষয়টা এখানে প্রতীকী। নামাজের সময় যখন সারা দুনিয়ার মানুষ যে যেখানে আছে সেখান থেকে অভিন্ন কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ায়, তখন দৃশ্যতই একটি ঐক্যের অবয়ব তৈরি হয়। সেটা এক বিশ্বজনীন প্রতীকী ঐক্য। অপরদিকে কিবলা জিয়ারতের বিধান বা হজের আহকামের দ্বারা বাস্তব জমায়েতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
১৪৯ ও ১৫০ নম্বর আয়াতে মসজিদুল হারামকে কিবলা নির্ধারণের বিষয়টি কিছুটা পুনরুল্লেখের মতো করে ব্যক্ত করা হয়েছে_বিধানটি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। এখানে সমালোচকদের সব ধরনের সমালোচনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, মসজিদুল হারামকে কিবলা নির্ধারণের পর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা এরকম সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে যে মুহাম্মদ কেমন নবী, যিনি অন্য নবীদের কিবলা বাদ দিয়ে নিজের জন্মস্থানকে কিবলা নির্ধারণ করেছেন। ওই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন, সমালোচকদের কোনো সমালোচনার দিকে না তাকিয়ে আল্লাহর নির্দেশে নির্ধারিত হওয়া নিজেদের কিবলার প্রতি অবিচল থাকতে। বস্তুত এটা ইহুদি বা খ্রিস্টানদের প্রতি কোনো প্রকার অবজ্ঞার প্রকাশ নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবিচল থাকার প্রশ্ন। এভাবেই আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় কেন্দ্রভূমি নির্ধারণকে প্রশ্নাতীত করে তুলেছেন।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী
<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>
বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে তারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



No comments:
Post a Comment