<< সকল মুসলিম ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি >>

বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের প্রতি আমার সালাম রইল। ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক মহান ধর্ম। এই ধর্মকে একমাত্র আল্লাহই কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করবেন এবং সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রসারিত করবেন। ইন্টারনেট/ ফেইসবুকের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় কত অসাধ্যকে সম্ভব করা হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। আমি আমার জন্মস্থান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার জনবহুল গ্রাম তেলীগ্রামে একটি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ এবং রাজনীতিমুক্ত একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছি সেই ছোট বেলা থেকেই। আমার এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি সারা বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনারা সকলে যদি সহানুভূতিশীল হয়ে দান করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন তাহলে পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট শ্রেষ্ট মসজিদও আল্লাহপাকের রহমতে আমরা নির্মান করতে পারবো। দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে, দানে সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর আখেরাতে উত্তম পুরস্কারতো আছেই। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশী এককালীন দান করবেন তাঁদের সকলের নাম মসজিদের সামনে বিশেষ গম্বুজে শ্বেত পাথরে খোদাই করে লিখে রাখা হবে। এই মসজিদ আল্লাহপাক যতদিন চালু রাখবেন প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সকল দাতাদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হবে। যাদের সামর্থ আছে ত‍ারা তাদের সাধ্যমত দান করবেন এবং সকলেই আমার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন যেন আমি সততার সাথে আমার স্বপ্নকে পুরন করতে পারি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য “দানে বিপদ কাঁটে, দানে সম্মান বাড়ে” শিরোনামে একটি আলাদা পেইজ আছে তাতে ক্লিক করুন।

Feb 8, 2011

অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের শিক্ষা

অনুবাদ
২৪৬. (হে নবী) আপনি কি মূসা (আ.)-এর পরে বনি ইসরাঈল সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতার ব্যাপারে দেখেননি? যখন তারা তাদের নবীর কাছে বলল, আমাদের জন্য একজন বাদশাহ ঠিক করে দিন, যেন তাঁর নেতৃত্বে আল্লাহর পথে লড়াই করতে পারি। নবী তাদের বললেন, তোমাদের অবস্থা এর আগেকার সেই লোকদের মতো হবে না তো_আল্লাহ তোমাদের ন্যায়যুদ্ধের আদেশ দেবেন আর তোমরা যুদ্ধ করবে না? তারা বলল, আমরা কেন আল্লাহর পথে যুদ্ধ করব না, (বিশেষ করে যখন) আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের নিজেদের আবাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর যখন তাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে ন্যায়যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হলো, তখন তাদের মধ্য থেকে কতিপয় সাহসী সৎলোক ছাড়া অধিকাংশই যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেল। আল্লাহ তায়ালা জালিমদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন।
২৪৭. তাদের নবী তাদের বললেন, আল্লাহ তায়ালা তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ নিযুক্ত করে পাঠিয়েছেন। তারা বলল, তার কী অধিকার আছে আমাদের ওপর রাজত্ব করার? বাদশাহির অধিকার তাঁর চেয়ে আমাদেরই বেশি। অর্থবিত্তও তো তাঁর বেশি নেই। নবী বললেন, আল্লাহ তাঁকেই বাছাই করেছেন এবং তাঁর শারীরিক যোগ্যতা ও জ্ঞান আল্লাহ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাঁকে চান, তাঁকেই রাজত্বের ক্ষমতা দান করেন। আল্লাহ তায়ালা প্রাচুর্যময় ও মহাবিজ্ঞ। [সুরা বাকারা, আয়াত : ২৪৬-২৪৭]ব্যাখ্যা
উলি্লখিত আয়াত দুটির মাধ্যমে বনি ইসরাঈল সম্প্রদায়ের প্রাচীনকালের কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাদের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। কথিত আছে, জালূত নামে এক অত্যাচারী নৃপতি বনি ইসরাঈল সম্প্রদায়ের ওপর চড়াও হয়ে তাদের আবাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করে এবং তাদের সন্তানদের বন্দি করে নিয়ে যায়। ওই সময় বনি ইসরাঈলদের নবী ছিলেন শামুয়ীল (আ.), যিনি তখন বয়োবৃদ্ধ। বনি ইসরাঈলরা জেরুজালেমে সমবেত হয়ে তাদের নবী শামুয়ীল (আ.)-কে বলল, আমাদের মধ্য থেকে একজন যোগ্য লোককে আমাদের বাদশাহ বানিয়ে দিন। তাঁর অধীনে আমরা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই। তখন নবী শামুয়ীল (আ.) তাদের পুরনো দিনের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। সম্ভবত ওই ঘটনাটিই দুই আয়াত আগে বর্ণিত ঘটনা। অর্থাৎ, পলায়নকৃতদের নিপাত যাওয়ার ঘটনা। বনি ইসরাঈলকে আল্লাহ তায়ালা তখন ন্যায়যুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন, সাহসিকতার সঙ্গে অত্যাচারী শত্রুদের রুখে দাঁড়াতে বলেছিলেন। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা পালিয়ে গিয়েছিল, যদিও তারা সংখ্যায় ছিল হাজার হাজার। এরপর তারা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল এবং অনেকেই মারা পড়েছিল। শামুয়ীল (আ.) তাদের এ ঘটনা শুনিয়েছিলেন, যেন তারা আবার ওই ধরনের কাপুরুষতার পুনরাবৃত্তি না ঘটায়। কিন্তু সেবারের ঘটনায়ও বিপত্তি কমবেশি ঘটেছিল। শামুয়ীল (আ.) যখন তালূতকে তাদের বাদশাহ বানিয়ে দিলেন, তখন তাদের অনেকেই দ্বিমত করল। তারা আল্লাহ এবং তাঁর নবীর নির্দেশ একবাক্যে মেনে নিতে পারল না। বনি ইসরাঈলরা আবারও অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হলো। তবে শেষ পর্যন্ত সেবার তালূতের নেতৃত্বে অত্যাচারী জালূত পরাজিত ও নিহত হয়েছিল। প্রাচীন ইতিহাসের এই কাহিনীই এখানে বর্ণনা করা হয়েছে ভবিষ্যতের মানুষদের শিক্ষা নেওয়ার জন্য।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments: